Combined Board ঢাকা, কুমিল্লা, দিনাজপুর বোর্ড ২০২৫
22টি প্রশ্ন
- 1.
উইলিয়াম জেমস একজন দুঃসাহসী নাবিক ছিলেন। তিনি এক নতুন জলপথ আবিষ্কার করেন। আবিষ্কৃত জলপথটি ক ও খ উপমহাদেশের মধ্যে বাণিজ্যিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে নবযুগের সূচনা করে। এ পথ ধরেই পরবর্তীতে অন্যান্য জাতি খ দেশটিতে আসে এবং ব্যবসা বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ব্যাপক প্রসার ঘটে।
- 2.
প্রিন্স ফিলিপ অল্প বয়সে উত্তরাধিকারসূত্রে একটি রাজ্যের সিংহাসন লাভ করেন। কিন্তু তাঁর ঘনিষ্ঠজনেরা এমন শাসকের মনোনয়নে সন্তুষ্ট হননি। তারা বহিঃশত্রুর সাথে ষড়যন্ত্র করে শাসক ফিলিপকে ক্ষমতাচ্যুত ও হত্যা করেন। অদূরদর্শিতা ও বিচক্ষণতার অভাবে তাঁকে করুণ পরিণতি ভোগ করতে হয়।
- 3.
রহমান সাহেব ছিলেন ভারতীয় মুসলিম সমাজের অগ্রদূত। তিনি একাধারে শিক্ষাবিদ, চিন্তাবিদ, ধার্মিক, দেশপ্রেমিক ছিলেন। তিনি শিক্ষার উন্নয়নে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। মুসলমানদের পাশ্চাত্য শিক্ষায় শিক্ষিত করার লক্ষ্যে একটি সামাজিক-সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সূত্রপাত করে তিনি ইতিহাসে বিখ্যাত হয়ে আছেন।
- 4.
ফুলপুর বাংলাদেশের অন্যতম একটি বড় উপজেলা। প্রশাসনিক কারণে এ বৃহৎ উপজেলাকে ভেঙে ১০টি ইউনিয়ন নিয়ে ফুলপুর, বাকী ৯টি ইউনিয়ন নিয়ে তারাকান্দা উপজেলা গঠিত হয়। ফলে উক্ত অঞ্চলের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নয়নের সুযোগ ঘটে।
- 5.
আন্দোলনে শহিদ ভাইদের প্রতি খোলাপত্র:প্রিয় শহিদ ভাইয়েরাতোমাদের মহান আত্মত্যাগে জন্মভূমি গঠিত। এ আত্মত্যাগের ফল হিসেবে আজ আমরা মায়ের ভাষায় কথা বলি। পুরো বিশ্ব আজ তোমাদের জয়গানে মুখরিত।নিবেদক: স্বাধীন কন্ঠস্বর।
- 6.
'ক' অঞ্চলের একটি রাজনৈতিক দল নির্বাচনে জয়লাভ করলেও ক্ষমতাসীন সরকার তাদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর না করে ষড়যন্ত্র করতে থাকে। এতে ঐ অঞ্চলের জনগণের মাঝে তীব্র অসন্তোষ দেখা দেয়। এক পর্যায়ে 'ক' অঞ্চলের জনগণ স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং স্বাধীনতা লাভ করে।
- 7.
উদ্দীপকটি লক্ষ কর এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
- 8.
অহনা তার ভাইয়ের সাথে মহানগর নাট্যমঞ্চে একটি নাটক দেখতে যায়। নাটকের এক পর্যায়ে অহনা দেখতে পায় গভীর রাতে ঘুমন্ত জনগণের উপর সেনাবাহিনী আক্রমণ চালাচ্ছে। নির্বিচারে গুলি করে হত্যা করছে ছাত্র-শিক্ষক-কর্মচারীদের। লাঞ্ছিত করছে নারীদের। এ সকল অপকর্ম ছিল তাদের পরিকল্পিত নীলনক্সার বাস্তবায়ন।
- 9.
১৭৭৬ খ্রিষ্টাব্দের ৪ জুলাই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র জারি করে। যে কোনো স্বাধীন দেশ বা জাতির আত্মপ্রকাশের দৃঢ় ভিত্তি হিসেবে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র কার্যকর ভূমিকা পালন করে। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকন এই ঘোষণাকে অত্যাচার ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে তিরস্কার ও প্রতিবন্ধক হিসেবে চিহ্নিত করেন।
- 10.
যুক্তরাজ্যের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে গিয়ে রবিন একজন বর্ষীয়ান অধ্যাপকের সাথে পরিচিত হয়। তাঁর নাম মি. স্মিথ। তিনি রবিনকে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে একটি দেশের সরকার বিভিন্নভাবে সমর্থন যুগিয়েছিল তার একটি তথ্যবহুল বর্ণনা দেন। এ যুদ্ধে সে দেশের সংবাদপত্রের ব্যাপক ভূমিকার কথাও তিনি রবিনকে বলেন।
- 11.
'শান্তির ফেরিওয়ালা' হিসেবে খ্যাত একটি আন্তর্জাতিক সংগঠন শান্তি প্রতিষ্ঠায় সদা তৎপর। কিন্তু এর গঠন প্রক্রিয়ার কিছু বাধ্যবাধকতা থাকায় মাঝে মাঝে শান্তির প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। তথাপি দক্ষিণ এশিয়ার যুদ্ধে আক্রান্ত একটি দেশকে স্বীকৃতি কিংবা সামরিক সাহায্য প্রদানে ব্যর্থ হলেও দেশটিকে উল্লেখযোগ্য ত্রাণ সহায়তা প্রদান করে।
- 12.
অথৈদের সমাজে পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তসমূহ গ্রহণের ক্ষমতা নারীর জন্য সংরক্ষিত। পুরুষদের সুনির্দিষ্ট অধিকার থাকলেও তারা নিয়ন্ত্রিত হয় নারীদের দ্বারা। তারা কঠিনভাবে ধর্ম-কর্মে বিশ্বাসী। মৃত্যুর পরে যে জীবন আছে এবং সে জীবনে বেঁচে থাকা বা সুখ-শান্তিতে কাটানোর জন্য মৃতদেহের সাথে সমাধিতে তারা রসদাদি এমনকি ব্যবহার্য জিনিসপত্রও দিয়ে দিত।
- 13.
জাভা দ্বীপে তখন কোনো কেন্দ্রীয় শাসন ছিল না। অধিবাসীরা রক্তের সম্পর্কের ভিত্তিতে সমাজ গঠন করে বসবাস করত। নিজেদের মধ্য থেকে নেতা নির্বাচন করে তারা পরিষদে পাঠাত। আর এভাবে সমাজের প্রতিনিধিদের দ্বারা গঠিত পরিষদ দ্বীপের প্রধান শহরের শান্তি-শৃঙ্খলা দেখভাল করতেন। দ্বীপবাসীর অর্থনৈতিক অবস্থাও ভালো ছিল না। কষ্টসাধ্য কিছু পেশার বাইরে অধিবাসীদের আয়ের উৎস ছিল সীমিত। বছরের নির্দিষ্ট একটি সময়ে দ্বীপের সৌন্দর্য দর্শনে আসা বাইরের দেশের পর্যটকদের ঘিরে কিছু মানুষ ব্যবসা-বাণিজ্য করে জীবন-জীবিকা নির্বাহ করত।
- 14.
শুধু ধর্মের দোহাই দিয়ে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে মাতৃভূমি ত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়েছে। মায়ানমারের বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী শাসকগোষ্ঠী নির্যাতন, ভয়-ভীতি প্রদর্শন এবং অতর্কিত আক্রমণের মাধ্যমে তাদের বিতাড়িত করে। ফলে উপায়ান্তর না পেয়ে তারা দলে দলে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। বাংলাদেশ তাদেরকে আশ্রয় দিয়ে জীবন-জীবিকা ও নিরাপত্তার সুব্যবস্থা করে। এমনকি জন্মভূমিতে যাতে ফিরে যেতে পারে সেজন্যও সহায়তা অব্যাহত রেখেছে।
- 15.
৫ আগস্ট ২০২৪-বাংলাদেশের মানুষ অন্যরকম এক বিজয় দেখল। স্বৈরাচার বিরোধী অসংখ্য মানুষের ঢল ক্ষমতাসীনদের পালিয়ে যেতে বাধ্য করল অথচ দু'বছর আগেও মানুষ ভাবতে পারেনি যে, এমনটা সম্ভব। রাষ্ট্র ৩-৪ দিন সরকারবিহীন থাকল। তারপরও বিজয়ীদের পক্ষ থেকে কোনো রক্তপাত হলো না, ধ্বংসলীলা হলো না, বরং জীবন-সম্পদ রক্ষায় সকলে স্বতঃস্ফূর্ত এগিয়ে এলো। সর্বত্র বিজয় ও মানবতার পতাকা পতপত করে উড়তে থাকল।
- 16.
বিগত সরকার পরপর তিনটি একতরফা নির্বাচনে নিজেদেরকে নির্বাচিত দাবি করে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়। অথচ সঠিকভাবে জনরায় নিলে তারা নির্বাচিত হতে পারতো না। ফলে তাদের বিরুদ্ধে দেশের অধিকাংশ মানুষ ক্ষুব্ধ ছিল। প্রকাশ্যে-অপ্রকাশ্যে তাদের বিরোধিতা করেছে। অথচ ইতিপূর্বে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত তিনটি সুষ্ঠু নির্বাচনে নির্বাচিত সরকার নির্বিঘ্নে দেশ পরিচালনা করেছে।
- 17.
ঘটনা ১: ২০১৩ সালে শাপলা চত্বরের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনার পর তৎকালীন সরকার প্রধান অসৎ উদ্দেশ্যে হেফাজতের লোকজন কুরআন পুড়িয়েছে বলে অভিযোগ তোলেন। ঘটনা ২: রেজাশাহ পাহলভী ইমাম খোমেনিকে তাঁর স্বৈরাচারী শাসনের জন্য হুমকি মনে করে ফ্রান্সে নির্বাসনে পাঠান। কেননা, ইমাম খোমেনি গণতান্ত্রিক অধিকার ও মানবাধিকার রক্ষার জন্য জনগণকে সংগঠিত করে আন্দোলনের ডাক দেন।
- 18.
যোগ্যতম একজন সাধু যখন একটি শহরে এসে ক্ষমতাসীনদের রোষানলে পড়ে নিহত হন তখন ঐ শহরে তাঁর ভক্ত শ্রেণির অধিকাংশ তাঁকে ত্যাগ করেন। অথচ শাসক বদল হলে পরবর্তীতে এই ভক্ত শ্রেণি ঐ সাধু ব্যক্তির নামে দল গঠন করে এবং হত্যার প্রতিশোধ নেয়। নতুন শাসক উদ্ভুত পরিস্থিতিতে তাদের কঠোর হাতে দমন করেন। শাসক নিজ বংশের ক্ষমতা স্থায়ীকরণ ও রাষ্ট্রের কল্যাণে সমগ্র দেশে একই মুদ্রা ও একই ভাষা প্রবর্তনের ব্যবস্থা করেন। তিনি রাজস্ব নীতিতেও পরিবর্তন এনে রাজকোষ সমৃদ্ধ করেন।
- 19.
একটি রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়। স্বাধীনতা যুদ্ধে সম্মুখ সময়ে আমাদের সেনাবাহিনীর অবদান ছিল অনস্বীকার্য। অথচ স্বাধীনতা পরবর্তী সরকার সেই সেনাবাহিনীকে দুর্বল করে রাখে। অন্যদিকে দেশ গঠনে কিছু উদারনৈতিক কার্যক্রম অনিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়ে এবং ভুল অর্থনীতির মারপ্যাচে দিনে দিনে দেশ তলাবিহীন ঝুড়িতে পরিণত হয়। ফলে দেশের পতনের জন্য সকলে সেই ১ম সরকারকেই দায়ী করে।
- 20.
জুলাই বিপ্লবে আন্দোলনকারীদের অভিনব কিছু কৌশলের মধ্যে একটি ছিল ফেসবুক প্রোফাইল পিকচার লাল করা। এতে সরকার আরও তটস্থ হয়ে নৃশংস হয়ে ওঠে। আন্দোলনকারীদেরকে নির্বিচারে হত্যা করতে থাকে। এক যাত্রাবাড়িতেই ছাত্র-জনতার অসংখ্য লাশ পড়ে। পুলিশবাহিনী খুঁজে খুঁজে এদের হত্যা করে। সরকারের এই নৃশংসতা শুধুই নিজের দম্ভ ও ক্ষমতা প্রদর্শন ও ক্ষমতা কুক্ষিগত করার মানসে।
- 21.
আবদুর রহমান সিংহাসন আরোহণ করে আম জনতার আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণে সচেষ্ট হন। কে কোথায় অন্নহীন-বস্ত্রহীন হয়ে পড়ে আছে, নিজে গিয়ে তার সাহায্য করে আসতেন। শক্তিমত্তায়ও তিনি পরাক্রমশালী ছিলেন। পার্শ্ববর্তী চিরশত্রু রাষ্ট্র তাঁর দেশ আক্রমণ করলে তিনি বীরবিক্রমে তা প্রতিহত করেন। শত্রু ঔদ্ধতা প্রকাশ করলে তার দাঁতভাঙা জবাব দেন। কিন্তু এই চিরশত্রুকে তিনি একাধিকবার বাগে পেয়েও বারবার ক্ষমা করে দেন।
- 22.
ইবনে আম্মার খলিফা মুতাসিমের প্রধান উজির ও প্রিয়পাত্র ছিলেন। বন্ধুর মতো তাঁরা একসাথে ঘুরে বেড়াতেন। ইবনে আম্মারের বদান্যতা অনেক সময় খলিফাকেও ছাপিয়ে যেত। জনসাধারণ খলিফার চেয়ে উজিরের দরবারে যেতেই বেশি স্বাছন্দ্যবোধ করত। কিন্তু একবার ইবনে আম্মারের কিছু কর্মকাণ্ড খলিফার মান-সম্মানের বিরুদ্ধে গেলে তিনি আম্মারকে বরখাস্ত করেন। আম্মারের আত্মীয়-স্বজন যারা রাজকার্যে নিয়োজিত ছিলেন তাদেরকেও বরখাস্ত ও এদের সকলের বিরুদ্ধে কঠিন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।