ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র • উমাইয়া খিলাফত (৬৬১-৭৫০ খ্রি.) • Combined Board • ঢাকা, কুমিল্লা, দিনাজপুর বোর্ড ২০২৫

ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র প্রশ্ন

একটি রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়। স্বাধীনতা যুদ্ধে সম্মুখ সময়ে আমাদের সেনাবাহিনীর অবদান ছিল অনস্বীকার্য। অথচ স্বাধীনতা পরবর্তী সরকার সেই সেনাবাহিনীকে দুর্বল করে রাখে। অন্যদিকে দেশ গঠনে কিছু উদারনৈতিক কার্যক্রম অনিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়ে এবং ভুল অর্থনীতির মারপ্যাচে দিনে দিনে দেশ তলাবিহীন ঝুড়িতে পরিণত হয়। ফলে দেশের পতনের জন্য সকলে সেই ১ম সরকারকেই দায়ী করে।

  1. ক)

    কে বায়তুল মালকে মুসলমানদের সম্পদ বলে ঘোষণা করেন?

    (1)
  2. খ)

    "মানুষকে সত্যের পথে আহ্বান করার জন্য নবিকে পাঠানো হয়েছে- খতনা করানোর জন্য নয়"- কথাটি খলিফা দ্বিতীয় ওমর কোন প্রেক্ষিতে বলেছিলেন? ব্যাখ্যাসহ লেখো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লেখিত বাংলাদেশের প্রথম সরকারের গৃহীত সেনাবাহিনীর প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি খলিফা দ্বিতীয় ওমরের খিলাফত কালেও প্রদর্শিত হয়েছিল- ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    রাষ্ট্র পরিচালনায় উদ্দীপকে গৃহীত পদক্ষেপের মতো খলিফা ২য় ওমরও কিছু কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন বলেই উমাইয়া খিলাফতের পতন তরান্বিত হয়েছিল- উক্তিটি মূল্যায়ন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উমাইয়া খলিফা হযরত ওমর বিন আবদুল আজিজ (দ্বিতীয় ওমর) বায়তুল মালকে জনগণের তথা মুসলমানদের আমানত ও সাধারণ সম্পত্তি বলে ঘোষণা করেন।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উমাইয়া গভর্নররা নওমুসলিমদের (মাওয়ালি) ওপর অন্যায্যভাবে জিজিয়া কর বহাল রাখলে খলিফা দ্বিতীয় ওমর তা প্রত্যাহারের নির্দেশ দেন। তখন কিছু কর্মকর্তা অভিযোগ করেন যে এতে বহু লোক কেবল কর ফাঁকি দেওয়ার উদ্দেশ্যে খতনা করিয়ে ইসলাম গ্রহণ করছে। এই প্রেক্ষিতে খলিফা দ্বিতীয় ওমর কর্মকর্তাদের তিরস্কার করে উক্তিটি করেছিলেন। তিনি বোঝাতে চেয়েছিলেন যে রাসুলুল্লাহ (সা)-এর আগমন মানুষকে সত্যের পথে ডেকে মুক্ত করার জন্য, কেবল বাহ্যিক আনুষ্ঠানিকতা বা কর আদায়ের জন্য নয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে স্বাধীনতা-উত্তর সরকারের সেনাবাহিনীর প্রতি অনীহা ও অবহেলার যে চিত্র ফুটে উঠেছে, তার একটি সাদৃশ্য খলিফা দ্বিতীয় ওমরের যুদ্ধবিরতি ও সামরিক নীতির মধ্যে লক্ষ্য করা যায়।

    খলিফা দ্বিতীয় ওমর ছিলেন শান্তিকামী ও ধর্মপ্রাণ শাসক। খিলাফতে অধিষ্ঠিত হয়েই তিনি উমাইয়াদের পূর্ববর্তী আগ্রাসী যুদ্ধনীতি ও রাজ্য বিস্তার সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেন। কনস্টান্টিনোপলসহ বিভিন্ন রণাঙ্গন থেকে তিনি মুসলিম সেনাবাহিনীকে প্রত্যাহার করে নেন এবং প্রতিরক্ষা ছাড়া যেকোনো আক্রমণাত্মক সামরিক অভিযান নিষিদ্ধ করেন। ফলে উমাইয়াদের শক্তিশালী, অপরাজেয় ও যুদ্ধংদেহী সেনাবাহিনী দীর্ঘকাল নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে এবং তাদের সামরিক শক্তিমত্তা ও যুদ্ধপ্রস্তুতিতে ভাটা পড়ে। উদ্দীপকের সরকারের সেনাবাহিনীর প্রতি রক্ষণশীল বা দুর্বল করে রাখার মনোভাবের মতোই দ্বিতীয় ওমরের নীতিও দীর্ঘমেয়াদে উমাইয়া সেনাবাহিনীর যুদ্ধক্ষমতা ও রণপ্রস্তুতিকে শিথিল করে দিয়েছিল।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের মত খলিফা দ্বিতীয় ওমরের কিছু উদার ও ধর্মীয় আদর্শভিত্তিক পদক্ষেপ পরোক্ষভাবে উমাইয়া খিলাফতের পতনকে ত্বরান্বিত করেছিল—উক্তিটি ঐতিহাসিক বিচারে বহুলাংশে যথার্থ।

    খলিফা দ্বিতীয় ওমর ব্যক্তিগতভাবে অত্যন্ত সৎ, ধর্মপরায়ণ ও প্রজাবৎসল শাসক ছিলেন। তবে রাষ্ট্র পরিচালনার বাস্তব রাজনীতিতে তাঁর গৃহীত কিছু সিদ্ধান্ত উমাইয়া রাজবংশের জন্য নেতিবাচক ফল বয়ে আনে:

    ১. সামরিক নিষ্ক্রিয়তা: আক্রমণাত্মক যুদ্ধ বন্ধ করা এবং সামরিক বাহিনীকে নিষ্ক্রিয় রাখায় উমাইয়াদের প্রধান শক্তি—সামরিক বাহিনীর তেজ ও দক্ষতা হ্রাস পায়, যা পরবর্তী সময়ে অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ দমনে উমাইয়াদের দুর্বল করে তোলে।
    ২. অর্থনৈতিক সংকট: নওমুসলিমদের (মাওয়ালি) ওপর থেকে জিজিয়া কর প্রত্যাহার এবং খারাজ আদায়ে কঠোরতা শিথিল করায় রাজকোষের প্রধান আয়ের উৎস কমে যায়। ফলে সাময়িকভাবে রাষ্ট্রীয় কোষাগার ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
    ৩. শত্রুদের প্রতি অতিরিক্ত উদারতা: তিনি উমাইয়াদের চিরশত্রু খারিজি এবং শিয়াদের প্রতি চরম সহনশীল ও উদার নীতি গ্রহণ করেন। এর ফলে তারা নতুন করে শক্তি সঞ্চয় করার সুযোগ পায়, যা পরবর্তী সময়ে উমাইয়াদের বিরুদ্ধে আব্বাসীয় আন্দোলনে সহায়ক হয়েছিল।
    ৪. রাজবংশের অসন্তোষ: উমাইয়া রাজপরিবারের সদস্যদের অন্যায্য সুযোগ-সুবিধা ও ভূসম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করায় নিজ গোত্রের প্রভাবশালী ব্যক্তিরা তাঁর বিরুদ্ধে চলে যায় এবং শাসন কাঠামোর সংহতি নষ্ট হয়।

    যদিও তাঁর পদক্ষেপগুলো ইসলামী ন্যায়বিচার ও নৈতিকতার দৃষ্টিতে ছিল অত্যন্ত প্রশংসনীয়, কিন্তু একটি সাম্রাজ্যবাদী বংশানুক্রমিক রাজতন্ত্র পরিচালনার ক্ষেত্রে তাঁর অতি-উদারনৈতিক পদক্ষেপগুলো উমাইয়া রাজবংশের ক্ষমতার ভিত্তি দুর্বল করেছিল এবং তাদের পতনকে দ্রুততর করেছিল।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন