ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র • হযরত মুহাম্মদ (স.) (৫৭০-৬৩২ খ্রি.) • Combined Board • ঢাকা, কুমিল্লা, দিনাজপুর বোর্ড ২০২৫
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র প্রশ্ন
শুধু ধর্মের দোহাই দিয়ে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে মাতৃভূমি ত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়েছে। মায়ানমারের বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী শাসকগোষ্ঠী নির্যাতন, ভয়-ভীতি প্রদর্শন এবং অতর্কিত আক্রমণের মাধ্যমে তাদের বিতাড়িত করে। ফলে উপায়ান্তর না পেয়ে তারা দলে দলে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। বাংলাদেশ তাদেরকে আশ্রয় দিয়ে জীবন-জীবিকা ও নিরাপত্তার সুব্যবস্থা করে। এমনকি জন্মভূমিতে যাতে ফিরে যেতে পারে সেজন্যও সহায়তা অব্যাহত রেখেছে।
- ক)(1)
মহানবি (স) কত খ্রিষ্টাব্দে নবুয়ত প্রাপ্ত হন?
- খ)(2)
হযরত আলি (রা) হযরত মুহাম্মদ (স)-এরও পরে হিজরত করেছিলেন কেন? ব্যাখ্যা দাও।
- গ)(3)
বাংলাদেশে বিতাড়িত রোহিঙ্গাদের সাথে মদিনায় হিজরতকারী মুসলমানদের সামঞ্জস্য খুঁজে বের করো।
- ঘ)(4)
বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর তুলনায় মদিনায় হিজরতকারী মুসলমানরা অনেক বেশি সমাদৃত ও অধিকার প্রাপ্ত হয়েছিলেন- ব্যাখ্যা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স.) ৬১০ খ্রিষ্টাব্দে হেরা গুহায় ধ্যানমগ্ন অবস্থায় নবুয়ত লাভ করেন।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর নিকট মক্কার কাফিরদের যেসব ধন-সম্পদ গচ্ছিত বা আমানত ছিল, সেগুলো যথারীতি তাদের মালিকদের নিকট ফেরত দেওয়ার উদ্দেশ্যে হযরত আলি (রা.) রাসুলুল্লাহ (স.)-এর নির্দেশে তাঁর বিছানায় শুয়ে থাকেন। আমানতের সকল দায়িত্ব সুচারুরূপে সম্পন্ন করে তিনি রাসুলুল্লাহ (স.)-এর হিজরতের কয়েকদিন পর মদিনার উদ্দেশ্যে হিজরত করেন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের নিজ জন্মভূমি থেকে বিতাড়িত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়ার সাথে মক্কার মুসলমানদের কুরাইশদের অত্যাচারের মুখে মদিনায় হিজরত করার ক্ষেত্রে সাদৃশ্য রয়েছে।
মক্কার কুরাইশরা ইসলামের বিস্তার ঠেকাতে মহানবি (স.) ও তাঁর অনুসারী মুসলমানদের ওপর অমানবিক নির্যাতন চালায়। নিজেদের ধর্ম ও জীবন বাঁচাতে তাঁরা মাতৃভূমি মক্কা ছেড়ে মদিনায় হিজরত করতে বাধ্য হন।
একইভাবে উদ্দীপকে দেখা যায়, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীও ধর্মীয় ও জাতিগত কারণে মিয়ানমারের শাসকগোষ্ঠীর ভয়াবহ নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হয়ে প্রাণ বাঁচাতে মাতৃভূমি ছেড়ে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় গ্রহণ করে। উভয় ক্ষেত্রেই ধর্মীয় কারণে নিজ জন্মভূমি থেকে বিতাড়িত হওয়া ও ভিন্ন স্থানে আশ্রয় নেওয়ার ঘটনায় সুস্পষ্ট সামঞ্জস্য বিদ্যমান।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের আশ্রিত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর তুলনায় মদিনায় হিজরতকারী মুসলমান বা মুহাজিররা অনেক বেশি সমাদৃত ও অধিকার প্রাপ্ত হয়েছিলেন—উক্তিটি যথার্থ।
মদিনায় হিজরত করার পর মহানবি (স.) মদিনার স্থানীয় মুসলিম (আনসার) এবং হিজরতকারী মুসলিমদের (মুহাজির) মধ্যে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন স্থাপন করে দেন যা 'মুয়াত' বা ভ্রাতৃত্ব চুক্তি নামে পরিচিত। মদিনার আনসাররা নিজেদের অর্ধেকেরও বেশি ধন-সম্পদ, ঘর-বাড়ি এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের অংশ মুহাজির ভাইদের সানন্দে দান করেন এবং তাঁদেরকে পূর্ণ নাগরিক ও আত্মমর্যাদার অধিকার প্রদান করেন। ফলে মুহাজিররা কখনোই পরবাসী বা শরণার্থী হিসেবে হীনম্মন্যতায় ভোগেননি, বরং মদিনা রাষ্ট্রের সমান অংশীদার হয়েছিলেন।
পক্ষান্তরে, বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে মানবিক কারণে আশ্রয় প্রদান, খাদ্য, চিকিৎসা ও নিরাপত্তা দেওয়া হলেও তারা এ দেশের পূর্ণ নাগরিক অধিকার বা সম্পত্তির মালিকানা পায়নি। রোহিঙ্গারা এখনো শরণার্থী শিবিরে অস্থায়ীভাবে জীবনযাপন করছে এবং তাদের প্রত্যাবাসনের চেষ্টা চলছে। সুতরাং, ভ্রাতৃত্ববোধ, সামাজিক মর্যাদা ও স্থায়ী অধিকারের নিরিখে মদিনার মুহাজিররা রোহিঙ্গাদের চেয়ে বহুগুণ বেশি সমাদৃত ও অধিকার লাভ করেছিলেন।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও