ইতিহাস ১ম পত্র • স্বাধীনতার ঘোষণা ও মুক্তিযুদ্ধের সূচনা • Combined Board • ঢাকা, কুমিল্লা, দিনাজপুর বোর্ড ২০২৫
ইতিহাস ১ম পত্র প্রশ্ন
অহনা তার ভাইয়ের সাথে মহানগর নাট্যমঞ্চে একটি নাটক দেখতে যায়। নাটকের এক পর্যায়ে অহনা দেখতে পায় গভীর রাতে ঘুমন্ত জনগণের উপর সেনাবাহিনী আক্রমণ চালাচ্ছে। নির্বিচারে গুলি করে হত্যা করছে ছাত্র-শিক্ষক-কর্মচারীদের। লাঞ্ছিত করছে নারীদের। এ সকল অপকর্ম ছিল তাদের পরিকল্পিত নীলনক্সার বাস্তবায়ন।
- ক)(1)
রেসকোর্স ময়দানের বর্তমান নাম কী?
- খ)(2)
রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ কেন গঠিত হয়?
- গ)(3)
উদ্দীপকের ঘটনার সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন ঘটনার সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উক্ত ঘটনা ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের মাইলফলক-তোমার মতামত দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
রেসকোর্স ময়দানের বর্তমান নাম সোহ্রাওয়ার্দী উদ্যান।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠার দাবিকে বেগবান ও সুসংগঠিত করার লক্ষ্যে ‘রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ গঠিত হয়।
১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর পাকিস্তান সরকার সংখ্যাগরিষ্ঠ বাঙালির মাতৃভাষা বাংলাকে বাদ দিয়ে উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার ষড়যন্ত্র শুরু করে। এ অন্যায্য সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ছাত্রসমাজ ও বুদ্ধিজীবী মহল তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে। ভাষার দাবি আদায়ে আন্দোলনকে ঐক্যবদ্ধ ও সাংগঠনিক রূপ দেওয়ার উদ্দেশ্যেই ১৯৪৭ সালের অক্টোবরে প্রথম রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ এবং পরবর্তীতে সর্বদলীয়ভাবে এটি পুনর্গঠিত হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের ঘটনার সাথে আমার পাঠ্যবইয়ের ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চের কালরাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী কর্তৃক পরিচালিত বর্বরোচিত ‘অপারেশন সার্চলাইট’-এর সাদৃশ্য রয়েছে।
১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ রাতে পাকিস্তানি সামরিক জান্তা বাঙালি জাতির স্বাধিকারের দাবি চিরতরে স্তব্ধ করে দেওয়ার জন্য একটি পরিকল্পিত গণহত্যার নীলনকশা বাস্তবায়ন শুরু করে, যার সাংকেতিক নাম ছিল ‘অপারেশন সার্চলাইট’। এই অপারেশনের মূল উদ্দেশ্য ছিল ঢাকাসহ সারা দেশে নিরস্ত্র ও ঘুমন্ত নিরীহ বাঙালিদের ওপর অতর্কিত আক্রমণ চালিয়ে ছাত্র, শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী ও সাধারণ মানুষকে নির্বিচারে হত্যা করা এবং নারীদের লাঞ্ছিত করে বাঙালিকে ভীতসন্ত্রস্ত করা।
উদ্দীপকে দেখা যায়, নাটকে গভীর রাতে ঘুমন্ত জনগণের ওপর সেনাবাহিনী অতর্কিতে আক্রমণ চালাচ্ছে, নির্বিচারে ছাত্র-শিক্ষক-কর্মচারীদের গুলি করে হত্যা করছে এবং নারীদের লাঞ্ছিত করছে—যা ছিল একটি পরিকল্পিত নীলনকশার বাস্তবায়ন। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ও নীলনকশার ঘটনাটি ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চের অপারেশন সার্চলাইটের বাস্তব চিত্রকে যথাযথভাবে প্রতিফলিত করে। সুতরাং, উদ্দীপকের ঘটনাটি অপারেশন সার্চলাইট হত্যাকাণ্ডের সাথেই সাদৃশ্যপূর্ণ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত ঘটনাটি, অর্থাৎ ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চের ‘অপারেশন সার্চলাইট’, বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক—উক্তিটির সাথে আমি সম্পূর্ণরূপে একমত।
১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ কালরাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী যখন নিরস্ত্র বাঙালিদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে নৃশংস গণহত্যা শুরু করে, তখন বাঙালির সামনে সশস্ত্র প্রতিরোধ ছাড়া আর কোনো পথ খোলা ছিল না। এই নারকীয় হত্যাকাণ্ডের পরপরই ২৬শে মার্চের প্রথম প্রহরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। বঙ্গবন্ধুর এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে দীর্ঘ রাজনৈতিক আন্দোলনের পরিসমাপ্তি ঘটে এবং আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় মুক্তির সশস্ত্র সংগ্রাম বা মুক্তিযুদ্ধ।
অপারেশন সার্চলাইটের বর্বরোচিত আক্রমণ বাঙালি জাতির মনে থাকা শেষ সমঝোতার আশাটুকুও চিরতরে মুছে দেয়। এ ঘটনা সাধারণ মানুষ, ছাত্র, কৃষক, শ্রমিক এবং বাঙালি সেনাসদস্যদের মধ্যে তীব্র প্রতিরোধ স্পৃহা ও জাতীয়তাবাদী চেতনার উন্মেষ ঘটায়। ২৫শে মার্চের ভয়াল গণহত্যার প্রতিক্রিয়ায় দেশজুড়ে গড়ে ওঠে তীব্র প্রতিরোধ এবং বাঙালি জাতি ঐক্যবদ্ধ হয়ে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও পাকিস্তানের এই গণহত্যার বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা জানানো হয় এবং বিশ্বের মানুষের সমর্থন বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে আসতে শুরু করে।
অতএব, বলা যায় যে ২৫শে মার্চের পাকিস্তানি বাহিনীর এই নারকীয় গণহত্যা বাঙালি জাতিকে সরাসরি সশস্ত্র প্রতিরোধ ও স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ অর্জনের দিকে ধাবিত করেছিল। তাই এই ঘটনা নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাসের এক অবিস্মরণীয় মাইলফলক।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও