ইতিহাস ১ম পত্র • ভাষা আন্দোলন ও বাঙালি জাতীয়তাবাদ • Combined Board • ঢাকা, কুমিল্লা, দিনাজপুর বোর্ড ২০২৫
ইতিহাস ১ম পত্র প্রশ্ন
আন্দোলনে শহিদ ভাইদের প্রতি খোলাপত্র:প্রিয় শহিদ ভাইয়েরাতোমাদের মহান আত্মত্যাগে জন্মভূমি গঠিত। এ আত্মত্যাগের ফল হিসেবে আজ আমরা মায়ের ভাষায় কথা বলি। পুরো বিশ্ব আজ তোমাদের জয়গানে মুখরিত।নিবেদক: স্বাধীন কন্ঠস্বর।
- ক)(1)
লক্ষ্মৌ চুক্তি কত খ্রিষ্টাব্দে স্বাক্ষরিত হয়?
- খ)(2)
ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত কে ছিলেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকে বর্ণিত আন্দোলনটি তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন আন্দোলনের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উক্ত আন্দোলনের আন্তর্জাতিকীকরণের গুরুত্ব বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দে ঐতিহাসিক লক্ষ্মৌ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত ছিলেন তৎকালীন পাকিস্তানের গণপরিষদের একজন সদস্য এবং কুমিল্লার বিশিষ্ট আইনজীবী ও রাজনীতিবিদ। ১৯৪৮ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান গণপরিষদে তিনিই সর্বপ্রথম বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার আনুষ্ঠানিক দাবি উত্থাপন করে ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত আন্দোলনটি আমাদের পাঠ্যবইয়ের ১৯৫২ সালের মহান 'ভাষা আন্দোলন'-এর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সৃষ্টির পরপরই পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের মাতৃভাষা বাংলাকে উপেক্ষা করে উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। এর প্রতিবাদে এ দেশের ছাত্র-জনতা বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়ে মাতৃভাষা বাংলার সম্মান ও মর্যাদা রক্ষা করে। বরকত, সালাম, রফিক, জব্বার প্রমুখের আত্মত্যাগে ভাষার দাবি প্রতিষ্ঠিত হয়।
উদ্দীপকের খোলাপত্রে শহিদ ভাইদের উদ্দেশ্যে বলা হয়েছে যে, তাঁদের আত্মত্যাগের ফলেই আজ মায়ের ভাষায় কথা বলা সম্ভব হয়েছে এবং পুরো বিশ্ব তাঁদের জয়গান গাইছে। এটি সরাসরি ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের শহিদদের আত্মত্যাগ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের মর্যাদার দিকে ইঙ্গিত করে। তাই উদ্দীপকের আন্দোলনটি ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সাথে পূর্ণ সাদৃশ্যপূর্ণ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি বাঙালি জাতির জন্য এক অবিস্মরণীয় অর্জন। নিম্নে এর আন্তর্জাতিকীকরণের গুরুত্ব বিশ্লেষণ করা হলো:
১. আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্বীকৃতি: কানাডাপ্রবাসী কিছু উদ্যোগী বাঙালির প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ সরকারের প্রস্তাবক্রমে ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থা (ইউনেস্কো) ২১শে ফেব্রুয়ারিকে 'আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস' হিসেবে ঘোষণা করে। ২০০০ সাল থেকে বিশ্বের ১৯০টিরও বেশি দেশে দিনটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়ে আসছে।
২. বৈশ্বিক ভাষা ও সংস্কৃতির সংরক্ষণ: ভাষা আন্দোলনের এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি শুধু বাংলার নয়, বরং বিশ্বের বিলুপ্তপ্রায় সকল ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও মাতৃভাষার অধিকার সংরক্ষণ ও মর্যাদার বৈশ্বিক প্রতীক হয়ে উঠেছে।
৩. বাঙালির আত্মত্যাগের বৈশ্বিক মূল্যায়ন: পৃথিবীর ইতিহাসে ভাষার জন্য রক্ত দেওয়ার অনন্য নজির একমাত্র বাঙালি জাতিই স্থাপন করেছিল। আন্তর্জাতিকীকরণের ফলে বিশ্ববাসী বাঙালির এই বীরত্বগাথা ও আত্মত্যাগের ইতিহাস জানতে পেরেছে এবং শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছে।
৪. জাতীয় মর্যাদার চরম উৎকর্ষ: বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের পরিচিতি ও মর্যাদা বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলা ভাষা বিশ্বের দরবারে নতুন করে এক অনন্য উচ্চতায় সমাসীন হয়েছে।
সুতরাং, ভাষা আন্দোলনের আন্তর্জাতিকীকরণ কেবল বাঙালি জাতির আত্মমর্যাদাকে বিশ্বজুড়ে সুপ্রতিষ্ঠিত করেনি, বরং সারা বিশ্বের মাতৃভাষাপ্রেমী মানুষের প্রেরণার উৎসে পরিণত হয়েছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও