ইতিহাস ১ম পত্র • স্বাধীনতার ঘোষণা ও মুক্তিযুদ্ধের সূচনা • Combined Board • ঢাকা, কুমিল্লা, দিনাজপুর বোর্ড ২০২৫
ইতিহাস ১ম পত্র প্রশ্ন
'ক' অঞ্চলের একটি রাজনৈতিক দল নির্বাচনে জয়লাভ করলেও ক্ষমতাসীন সরকার তাদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর না করে ষড়যন্ত্র করতে থাকে। এতে ঐ অঞ্চলের জনগণের মাঝে তীব্র অসন্তোষ দেখা দেয়। এক পর্যায়ে 'ক' অঞ্চলের জনগণ স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং স্বাধীনতা লাভ করে।
- ক)(1)
মুক্তিযুদ্ধে মোট কতটি সেক্টর ছিল?
- খ)(2)
সূর্যাস্ত আইন কী?
- গ)(3)
উদ্দীপকের ঘটনার সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন ঘটনার ঘটনার সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
মুক্তিকামী জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণই ছিল স্বাধীনতা অর্জনের মূল শক্তি-তোমার মতামত দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মুক্তিযুদ্ধে সমগ্র বাংলাদেশকে মোট ১১টি সেক্টরে বিভক্ত করা হয়েছিল।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৭৯৩ সালে লর্ড কর্নওয়ালিস প্রবর্তিত চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের একটি অন্যতম প্রধান শর্ত ছিল 'সূর্যাস্ত আইন'। এই আইন অনুসারে, নির্দিষ্ট দিনে সূর্য ডোবার পূর্বে জমিদারদের ধার্যকৃত রাজস্ব সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হতো। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রাজস্ব পরিশোধে ব্যর্থ হলে জমিদারি বাজেয়াপ্ত করে নিলামে বিক্রি করে দেওয়া হতো।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের ঘটনার সাথে আমার পাঠ্যবইয়ের ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচন ও ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটের সাদৃশ্য রয়েছে।
১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ পাকিস্তান জাতীয় পরিষদে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। কিন্তু পাকিস্তানি সামরিক জান্তা ও শাসকগোষ্ঠী নিয়মতান্ত্রিকভাবে বিজয়ী দলের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর না করে টালবাহানা ও গভীর ষড়যন্ত্র শুরু করে। এর ফলে পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষের জন্ম নেয়।
উদ্দীপকেও দেখা যায়, 'ক' অঞ্চলের রাজনৈতিক দল নির্বাচনে জয়ী হওয়া সত্ত্বেও ক্ষমতাসীন সরকার ক্ষমতা হস্তান্তর না করে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়, যার ফলে জনগণের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দেয়। শেষ পর্যন্ত পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যা ও বঞ্চনার প্রতিবাদে ২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার ঘোষণা দেন এবং আপামর জনতা মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জন করে। উদ্দীপকে 'ক' অঞ্চলের স্বাধীনতা ঘোষণার মাধ্যমে যুদ্ধ করে স্বাধীনতা অর্জনের চিত্রটি মূলত বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার ইতিহাসের সাথে সম্পূর্ণরূপে সাদৃশ্যপূর্ণ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"মুক্তিকামী জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণই ছিল স্বাধীনতা অর্জনের মূল শক্তি"—উক্তিটি যথার্থ ও যৌক্তিক।
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ কেবল সামরিক বাহিনীর যুদ্ধ ছিল না, এটি ছিল একটি সর্বাত্মক গণযুদ্ধ। ২৫ মার্চের কালরাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী নিরস্ত্র বাঙালিদের ওপর বর্বরোচিত আক্রমণ চালালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আহ্বানে দল, মত, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সমগ্র বাঙালি জাতি মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে।
মুক্তিযুদ্ধে ছাত্র, শিক্ষক, কৃষক, শ্রমিক, কামার, কুমারসহ সাধারণ মুক্তিকামী মানুষ অংশ নিয়েছিল। কৃষক ও সাধারণ তরুণেরা স্বল্পকালীন প্রশিক্ষণ নিয়ে 'মুক্তিবাহিনী' গঠন করে পাকিস্তানি আধুনিক সমরাস্ত্রে সজ্জিত বাহিনীকে পরাস্ত করেছিল। অন্যদিকে, রণাঙ্গনের বাইরে থাকা সাধারণ জনগণ, বিশেষ করে নারীরা মুক্তিযোদ্ধাদের খাদ্য, আশ্রয়, ওষুধ এবং পাকিস্তানি বাহিনীর গতিবিধির তথ্য সরবরাহ করে জীবন বাজি রেখে সহযোগিতা করেছিলেন। সাংস্কৃতিক কর্মী, বুদ্ধিজীবী ও প্রবাসী বাঙালিরা আন্তর্জাতিক জনমত তৈরিতে অবদান রেখেছিলেন। মুক্তিকামী জনগণের এই সার্বিক ও স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছাড়া পাকিস্তানি শক্তিশালী বাহিনীকে ৯ মাসে পরাজিত করা সম্ভব হতো না।
সুতরাং, বলা যায় যে সামরিক শক্তির চেয়েও মুক্তিকামী জনগণের অদম্য মনোবল, দেশপ্রেম ও সক্রিয় অংশগ্রহণই ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের মূল চালিকাশক্তি।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও