সাহিত্য পাঠ • বিদ্রোহী • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬

সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন

কালবৈশাখীর ঝড়ে যেমন জরাজীর্ণ সব ভেঙেচুরমার হয়ে যায়, তেমনি তরুণ সমাজসেবী হামিম সমাজের সকল অন্যায় ও কুসংস্কারের বিরুদ্ধে একাই রুখে দাঁড়ায়। নিজের ভেতরের শক্তিতে সে বলীয়ান। সে বিশ্বাস করে, তার ভেতরেই লুকিয়ে আছে অসীম সম্ভাবনা। সে বলে, “আমি নিজেই আমার নিয়ন্ত্রক।” হামিম একদিকে যেমন অত্যাচারীর কাছে যমদূত, অন্যদিকে আর্তমানবতার সেবায় অত্যন্ত কোমল ও দয়ালু।

  1. ক)

    ‘বিদ্রোহী’ কবিতাটি প্রথম কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?

    (1)
  2. খ)

    কবি নিজেকে ‘অরফিয়াসের বাঁশি’ বলেছেন কেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের হামিমের “আমি নিজেই আমার নিয়ন্ত্রক।” — উক্তিটি ‘বিদ্রোহী’ কবিতার কোন অনুষঙ্গের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    “উদ্দীপকের মূলভাবের বিস্তৃত রূপায়ন ‘বিদ্রোহী’ তে পরিলক্ষিত।” — তোমার মতামত দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ‘বিদ্রোহী’ কবিতাটি প্রথম ‘বিজলী’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কবি নিজেকে ‘অরফিয়াসের বাঁশি’ বলেছেন কারণ তাঁর কাব্যের সুর ও দ্রোহের আহ্বান বিশ্বজুড়ে শান্তি, সম্প্রীতি ও এক অভূতপূর্ব জাগরণ সৃষ্টি করতে সক্ষম।

    গ্রিক পুরাণের অমর শিল্পী অরফিয়াসের বাঁশির জাদুকরী সুরে হিংস্র পশুও বশ মানত এবং প্রকৃতি শান্ত হতো। কাজী নজরুল ইসলামও তাঁর সৃষ্টির মাধ্যমে অন্যায়-অত্যাচারের উত্তাল পৃথিবীকে শান্ত করতে এবং মানবহৃদয়ে সুপ্ত ভালোবাসার সুর জাগিয়ে তুলতে চেয়েছেন। অর্থাৎ কবির বিদ্রোহ কেবল ধ্বংসের নয়, বরং সুন্দরের আবাহনও বটে; তাই তিনি নিজেকে ‘অরফিয়াসের বাঁশি’ রূপে ঘোষণা করেছেন।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের হামিমের “আমি নিজেই আমার নিয়ন্ত্রক।” — উক্তিটি ‘বিদ্রোহী’ কবিতার কবির অপরাজেয় আত্মশক্তি, আত্মমর্যাদাবোধ এবং কারো অধীনতা না মানার স্বাধীন সত্তার অনুষঙ্গের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।

    'বিদ্রোহী' কবিতায় কাজী নজরুল ইসলাম আত্মজাগরণের চরম পরাকাষ্ঠা প্রদর্শন করেছেন। তিনি কোনো শাসনকর্তা বা অধীনতার কাছে মাথা নত করতে রাজি নন। কবি সগৌরবে ঘোষণা করেছেন— “আমি আপনারে ছাড়া করি না কাহারে কুর্নিশ!” তিনি নিজেকে নিজের বিধান ও চরম স্বাধীন সত্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছেন, যা ঔপনিবেশিক শাসক বা কোনো অপশক্তির কাছে নত হয় না।

    উদ্দীপকের হামিমও বিশ্বাস করে যে তার ভেতরের শক্তিই তার পথ চলার একমাত্র প্রেরণা এবং সে নিজেই তার নিয়ন্ত্রক। বাইরের কোনো অশুভ শক্তি বা প্রথা তাকে দমন করতে পারে না। কবিতার কবির এই সার্বভৌম আত্মউপলব্ধি ও স্বাধীন মানসিকতাই উদ্দীপকের হামিমের উক্তিতে ফুটে উঠেছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    “উদ্দীপকের মূলভাবের বিস্তৃত রূপায়ন ‘বিদ্রোহী’ তে পরিলক্ষিত।” — মন্তব্যটি যথার্থ।

    উদ্দীপকে হামিমের ব্যক্তিত্বে দুটি বিপরীতমুখী কিন্তু পরিপূরক মানবিক সত্তা দেখা যায়— একদিকে সে অন্যায়ের বিরুদ্ধে কালবৈশাখীর মতো বিধ্বংসী ও রুদ্ররূপী, অন্যদিকে সে আর্তপীড়িত মানুষের সেবায় কোমল ও দয়ালু। এই বৈপরীত্যের সম্মিলন ঘটেছে তার নিজের ভেতরের আত্মবিশ্বাসে।

    কাজী নজরুল ইসলামের 'বিদ্রোহী' কবিতায় উদ্দীপকের এই ভাবটি কেবল ব্যক্তিপর্যায়ে নয়, বরং সমগ্র মানবজাতির মুক্তির প্রেক্ষাপটে এক মহাজাগতিক ব্যাপ্তি নিয়ে আবির্ভূত হয়েছে। কবি একদিকে যেমন “আমি প্রলয়োল্লাস”, “আমি ধূর্জটি”, “আমি ভীম ভাসমান মাইন”, “আমি বিধ্বংসী ঝঞ্ঝা ও ঘূর্ণি” বলে অন্যায়-অত্যাচারের বিশ্বব্যবস্থা চূর্ণবিচূর্ণ করার ডাক দিয়েছেন; অন্যদিকে তিনি “আমি চির-উন্নত শির”, “আমি পরশুরামের কঠোর কুঠার” রূপ ধারণ করে নিপীড়িতের কান্না থামাতে চেয়েছেন। আবার সেই একই কবি নিজেকে প্রকাশ করেছেন প্রেম ও কোমলতার প্রতীক হিসেবে— “আমি প্রণয়-বিরহী বাণীর বাঁশরী”, “আমি গোপন প্রিয়ার চকিত চাহনি”। অর্থাৎ কবির ধ্বংসের লক্ষ্য হলো নতুন ও সুন্দরের সৃষ্টি এবং নিপীড়িত মানুষের মুক্তি।

    সুতরাং উদ্দীপকের হামিমের অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো ও আর্তের প্রতি কোমলতার যে ক্ষুদ্র রূপ দেখা যায়, 'বিদ্রোহী' কবিতায় তা ঔপনিবেশিক শাসন, সামাজিক বৈষম্য ও সমস্ত অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে এক চিরন্তন, সার্বজনীন ও মহাবিপ্লবী রূপ ধারণ করেছে। তাই নিঃসন্দেহে বলা যায়, উদ্দীপকের মূলভাবের পূর্ণাঙ্গ ও বিস্তৃত রূপায়ন ঘটেছে 'বিদ্রোহী' কবিতায়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন