কৃষি শিক্ষা ১ম পত্র • Combined Board • রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, বরিশাল বোর্ড ২০১৮
কৃষি শিক্ষা ১ম পত্র প্রশ্ন
জুয়েল ও কাদের দুই বন্ধু। তারা লেখাপড়া শেষ করে। গবেষণা প্রতিষ্ঠান দেখার উদ্দেশ্যে গাজীপুর জেলার জয়দেবপুরে অবস্থিত একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেন। তারা সেখানে গিয়ে জানতে পারেন যে প্রতিষ্ঠানটি কেবল ধান নিয়ে গবেষণা করে। এ পর্যন্ত। প্রতিষ্ঠানটি বাষট্টি রকমের ধানের জাত উদ্ভাবন করেছে, যার অধিকাংশই উচ্চফলনশীল। এছাড়া প্রোটিন ও জিংক সমৃদ্ধ ধানের জাতও উদ্ভাবন করেছে। এভাবে প্রতিষ্ঠানটি কৃষকদের সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। জুয়েল ও কাদের মনে করেন ষোল কোটি মানুষের এ দেশে খাদ্য চাহিদা পূরণ। করতে প্রতিষ্ঠানটি ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
- ক)(1)
কৃষি তথ্য কী?
- খ)(2)
রেটুন ফসল চাষ লাভজনক কেন? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
জুয়েল ও কাদেরের ঘুরে দেখা প্রতিষ্ঠানটির নাম কী? প্রতিষ্ঠানটি কৃষকদের কী ধরনের সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
জুয়েল ও কাদেরের দেখা গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি ভবিষ্যতে দেশের খাদ্য চাহিদা পূরণে কী প্রভাব ফেলবে তা উদ্দীপকের আলোকে বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কৃষি সম্পর্কিত যেকোনো জ্ঞান, তথ্য, নতুন প্রযুক্তি, কলাকৌশল ও দিকনির্দেশনা যা কৃষিকাজে উৎপাদনশীলতা বাড়াতে ব্যবহৃত হয়, তাকে কৃষি তথ্য বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মূল ফসল কাটার পর ফসলের অবশিষ্ট গোড়া বা মূল থেকে পুনরায় গজিয়ে ওঠা নতুন চারা থেকে যে ফসল উৎপাদন করা হয়, তাকে রেটুন ফসল বলে (যেমন: আখ বা ধান)।
রেটুন ফসল চাষ লাভজনক হওয়ার কারণ হলো এতে নতুন করে জমি চাষ, বীজ বপন বা চারা রোপণের প্রয়োজন হয় না। ফলে বীজ, শ্রম ও সময় বাঁচে এবং উৎপাদন খরচ অনেকাংশে কমে গিয়ে কৃষকের অধিক মুনাফা অর্জিত হয়। - গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জুয়েল ও কাদেরের ঘুরে দেখা প্রতিষ্ঠানটির নাম হলো 'বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট' (BRRI বা ব্রি), যা গাজীপুরের জয়দেবপুরে অবস্থিত।
প্রতিষ্ঠানটি কৃষকদের নিম্নলিখিত সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে:
১. উচ্চফলনশীল জাত উদ্ভাবন: প্রতিষ্ঠানটি প্রতিকূলতা সহনশীল ও বিভিন্ন মৌসুমের উপযোগী অসংখ্য উচ্চফলনশীল ধানের জাত উদ্ভাবন করে কৃষকদের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে।
২. পুষ্টিসমৃদ্ধ জাতের বিস্তার: কৃষকদের অর্থনৈতিক ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রোটিন ও জিংক সমৃদ্ধ বিশেষ ধানের জাত উদ্ভাবন ও বিতরণ করছে।
৩. আধুনিক উৎপাদন প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ: আধুনিক ধান চাষাবাদ প্রযুক্তি, সেচ ও বালাই ব্যবস্থাপনা এবং ধান উৎপাদন বৃদ্ধির কলাকৌশল বিষয়ে কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ সেবা দিচ্ছে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জুয়েল ও কাদেরের দেখা বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (BRRI) ভবিষ্যতে দেশের খাদ্য চাহিদা পূরণে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ প্রভাব ফেলবে। উদ্দীপকের আলোকে এর যৌক্তিকতা নিম্নে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. বর্ধিত জনসংখ্যার খাদ্য জোগান: বাংলাদেশের বিপুল ও ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার প্রধান খাদ্য হলো ভাত। চাষযোগ্য জমি দিন দিন কমলেও ব্রি উদ্ভাবিত উচ্চফলনশীল ও হাইব্রিড জাতের ধান চাষের ফলে সীমিত জমিতেই সর্বোচ্চ উৎপাদন নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে।
২. জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলা: ভবিষ্যতে লবণাক্ততা, খরা, বন্যা ও জলমগ্নতার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে। ব্রি ইতিমধ্যে এসব প্রতিকূলতা সহনশীল জাত উদ্ভাবন করেছে এবং ভবিষ্যতে আরও উন্নত জাত উদ্ভাবনের মাধ্যমে ধান উৎপাদন স্থিতিশীল রাখবে।
৩. পুষ্টি ঘাটতি পূরণ: কেবল ক্যালরির চাহিদা নয়, প্রতিষ্ঠানটির উদ্ভাবিত জিংক ও পুষ্টিসমৃদ্ধ ধান ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অপুষ্টি দূরীকরণে ভূমিকা রাখবে।
৪. টেকসই খাদ্য নিরাপত্তা: নতুন নতুন উচ্চ উৎপাদনশীল জাত উদ্ভাবন অব্যাহত থাকলে খাদ্য ঘাটতি রোধ করে দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ রাখা সম্ভব হবে।অতএব, বর্ধিত জনগোষ্ঠীর খাদ্য ও পুষ্টি চাহিদা মেটাতে ব্রি-এর ভূমিকা অপরিসীম এবং তাদের প্রযুক্তিগত অগ্রগতি দেশের সার্বিক খাদ্য নিরাপত্তায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও