গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ২য় পত্র • Combined Board • ঢাকা, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, যশোর, বরিশাল, দিনাজপুর বোর্ড ২০১৯
গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
স্বাস্থ্যকর জীবনের জন্য পুষ্টিবিদগণ টাটকা ও নির্ভেজাল খাবার গ্রহণের পরামর্শ দেন। কিন্তু ইদানিং কিছু অসাধু ব্যবসায়ী মাছ-মাংস এবং শাক সবজিতে বিভিন্ন দ্রব্য ব্যবহার করছে যা আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ক্ষতিকর। এ ব্যাপারে সকলের সচেতন হওয়া প্রয়োজন।
- ক)(1)
স্যানিটেশন কী?
- খ)(2)
"পথ্য দ্রুত রোগ নিরাময় করে"— বুঝিয়ে লেখো।
- গ)(3)
অসাধু ব্যবসায়ীরা উদ্দীপকে উল্লিখিত খাবারে কোন ধরনের রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহার করছে? স্বাস্থ্যের ওপর এদের কুফলসমূহ ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
"সরকার এবং জনগণের সচেতনতাই অসাধু ব্যবসায়ীদেরকে প্রতিরোধ করতে পারে"— এ বিষয়ে তোমার মতামত উপস্থাপন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
স্যানিটেশন হলো স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে মলমূত্র ও বর্জ্য নিষ্কাশন এবং পরিবেশকে পরিচ্ছন্ন ও রোগজীবাণুমুক্ত রাখার একটি সামগ্রিক ব্যবস্থা।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
রোগাক্রান্ত ব্যক্তির শারীরিক অবস্থা, রোগের ধরন ও তীব্রতা বিবেচনা করে যে বিশেষ খাদ্য প্রস্তুত ও সরবরাহ করা হয়, তাকে পথ্য বলে। পথ্য রোগজনিত দুর্বলতা কমায়, টিস্যুর ক্ষতিপূরণ করে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। সঠিক খাদ্য নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে রোগ সৃষ্টিকারী বিপাকীয় সমস্যা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়। ফলে রোগাক্রান্ত শরীর দ্রুত সুস্থতা ফিরে পায় এবং রোগ দ্রুত নিরাময় হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে অসাধু ব্যবসায়ীরা মাছ-মাংস তাজা দেখাতে ও পচন রোধে সাধারণত ফরমালিন এবং শাকসবজিতে কৃত্রিম বিষাক্ত রং ও কীটনাশক ব্যবহার করছে।
স্বাস্থ্যের ওপর এসব ক্ষতিকর রাসায়নিক দ্রব্যের কুফল অত্যন্ত মারাত্মক:
১. ফরমালিনযুক্ত মাছ-মাংস খাওয়ার ফলে পাকস্থলীর প্রদাহ, আলসার এবং দীর্ঘমেয়াদে লিভার ও কিডনি সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত বা বিকল হতে পারে।
২. শাকসবজিতে ব্যবহৃত টেক্সটাইল রং ও বিষাক্ত রাসায়নিকের কারণে বদহজম, পেটের পীড়া এবং রক্তশূন্যতা দেখা দেয়।
৩. এসব রাসায়নিক উপাদান ধীরে ধীরে মানবদেহে জমা হয়ে দীর্ঘমেয়াদে জেনেটিক পরিবর্তন ও মারণব্যাধি ক্যান্সারের ঝুঁকি সৃষ্টি করে। বিশেষ করে গর্ভবতী মা ও শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"সরকার এবং জনগণের সচেতনতাই অসাধু ব্যবসায়ীদেরকে প্রতিরোধ করতে পারে"— বক্তব্যটির সাথে আমি সম্পূর্ণরূপে একমত।
খাদ্যে ভেজাল মিশ্রণ মানবজাতির জন্য একটি নীরব ঘাতক। অসাধু ব্যবসায়ীদের এই অসদুপায় বন্ধ করতে সরকারি পদক্ষেপের পাশাপাশি গণসচেতনতা অপরিহার্য।
প্রথমত, সরকারের কঠোর ভূমিকা:
১. নিরাপদ খাদ্য আইনের যথাযথ বাস্তবায়ন ও নিয়মিত মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ভেজালকারী ও মজুদদারদের জরিমানা ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা।
২. বাজার তদারকি ব্যবস্থা ও ল্যাবরেটরি পরীক্ষার সুবিধা প্রতিটি উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত নিশ্চিত করা।দ্বিতীয়ত, জনগণের সচেতনতা:
১. ভেজাল খাবারের ক্ষতিকর দিকগুলো চিহ্নিত করে অতিরিক্ত অস্বাভাবিক রঙের বা গন্ধহীন অতি-তাজা খাবার কেনা থেকে বিরত থাকা।
২. ভেজাল মিশ্রণকারীর তথ্য ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর বা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে জানানো।অতএব, সরকারের কঠোর আইনানুগ পদক্ষেপ এবং জনগণের ঐক্যবদ্ধ সচেতনতা ও প্রতিরোধই পারে খাদ্যে ভেজাল দেওয়া বন্ধ করতে এবং সুস্থ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও