ফিন্যান্স ব্যাংকিং ও বিমা ২য় পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০১৭
ফিন্যান্স ব্যাংকিং ও বিমা ২য় পত্র প্রশ্ন
মেসার্স খাঁন এন্টারপ্রাইজ একটি পোশাক রপ্তানিকারী প্রতিষ্ঠান। যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রতিষ্ঠানের সাথে তাদের ৫ লক্ষ পিস জিন্সের প্যান্ট রপ্তানির চুক্তি হয়। মেসার্স খাঁন এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মি. খানের ধারণা প্রতি প্যান্ট থেকে তিনি ৮০ টাকা করে মুনাফা করবেন। এক্ষেত্রে তাঁর মুনাফার পরিমাণ হবে ৪ কোটি টাকা। কিন্তু ব্যবসায় শেষে দেখা গেল মুনাফার পরিমাণ তার ধারণার চেয়ে বেশ কিছু বেশি হয়েছে।
- ক)(1)
ফ্যাক্টরিং কী?
- খ)(2)
প্রত্যয়পত্র বলতে কী বোঝ?
- গ)(3)
যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রতিষ্ঠানের সাথে মেসার্স খাঁন এন্টারপ্রাইজের যে চুক্তিটি হয় তা কোন প্রক্রিয়ায় সংঘটিত হয়? এ প্রক্রিয়ার তিনটি নিয়ম উল্লেখ করো।
- ঘ)(4)
মি. খাঁনের ধারণার চেয়ে মুনাফা বৃদ্ধির কারণ কী? ব্যাখ্যা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ফ্যাক্টরিং হলো এমন এক ধরনের আর্থিক সেবা বা ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে কোনো প্রতিষ্ঠান তার প্রাপ্য বিল বা দেনাদারদের পাওনা অর্থ একটি আর্থিক মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানের (ফ্যাক্টর) কাছে বাট্টায় বিক্রয় করে তাৎক্ষণিক নগদ অর্থ সংগ্রহ করে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
প্রত্যয়পত্র বা ঋণপত্র (Letter of Credit - L/C) হলো আমদানিকারকের পক্ষে তার ব্যাংকের দেওয়া একটি লিখিত নিশ্চয়তাপত্র, যাতে রপ্তানিকারককে এই মর্মে আশ্বাস দেওয়া হয় যে নির্দিষ্ট শর্তানুযায়ী পণ্য পাঠানো এবং প্রয়োজনীয় দলিলপত্র উপস্থাপন করা হলে ব্যাংক রপ্তানিকারকের পণ্যের মূল্য পরিশোধ করবে।
আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে অপরিচিত দুই পক্ষের মধ্যে বিশ্বাস ও নিরাপত্তার ভিত্তি তৈরিতে এবং রপ্তানিকারকের মূল্য প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে প্রত্যয়পত্র ব্যবহৃত হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানের সাথে মেসার্স খাঁন এন্টারপ্রাইজের চুক্তিটি 'আন্তর্জাতিক বাণিজ্য' বা 'বৈদেশিক বাণিজ্য চুক্তি' (রপ্তানি বাণিজ্য প্রক্রিয়া) প্রক্রিয়ায় সংঘটিত হয়।
এ প্রক্রিয়ার তিনটি নিয়ম নিচে উল্লেখ করা হলো:
১. বিক্রয় চুক্তি সম্পাদন (Sales Contract): আমদানিকারক ও রপ্তানিকারকের মধ্যে পণ্যের দর, পরিমাণ, গুণগত মান এবং সরবরাহের সময় ইত্যাদি নির্ধারণ করে আনুষ্ঠানিক চুক্তিপত্র প্রস্তুত ও স্বাক্ষরিত হতে হয়।
২. প্রত্যয়পত্র বা ঋণপত্র (Letter of Credit) স্থাপন: আমদানিকারককে তার ব্যাংকের মাধ্যমে রপ্তানিকারকের অনুকূলে শর্তহীনভাবে মূল্য পরিশোধের জামানতস্বরূপ প্রত্যয়পত্র (L/C) খুলতে হয়।
৩. আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক শর্তাবলী (Incoterms) অনুসরণ: পণ্য পরিবহন, বীমা ও ঝুঁকি হস্তান্তরের নিয়ম (যেমন: FOB, CIF ইত্যাদি) এবং প্রাসঙ্গিক রপ্তানি দলিল (যেমন: বিল অব লেডিং, বাণিজ্যিক চালান ও প্যাকিং তালিকা) যথাযথভাবে পূরণ করতে হয়। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মি. খাঁনের ধারণার চেয়ে মুনাফা বৃদ্ধির মূল কারণ হলো আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হারের অনুকূল পরিবর্তন বা টাকার অবমূল্যায়ন।
আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে পণ্যের লেনদেন ও মূল্য পরিশোধ সাধারণত মার্কিন ডলারে সম্পন্ন হয়। চুক্তি সম্পাদনের পর পণ্য সরবরাহ ও ব্যাংকের মাধ্যমে মূল্য প্রত্যাবাসনের (Repatriation) মধ্যবর্তী সময়ে যদি মার্কিন ডলারের বিপরীতে দেশীয় মুদ্রার (টাকা) বিনিময় মূল্য বৃদ্ধি পায় (অর্থাৎ ডলার প্রতি টাকার পরিমাণ বাড়ে), তবে রপ্তানিকারক পূর্বনির্ধারিত ডলারের বিপরীতে বেশি পরিমাণ দেশীয় টাকা লাভ করেন।
উদ্দীপকে দেখা যায়, মি. খাঁন প্রতি প্যান্টে ৮০ টাকা হিসেবে ৫ লক্ষ পিস প্যান্টে ৪ কোটি টাকা মুনাফার প্রত্যাশা করেছিলেন। কিন্তু ব্যবসায় শেষে তাঁর প্রত্যাশার চেয়ে বেশি মুনাফা হয়েছে। এর অন্যতম যৌক্তিক কারণ হতে পারে ডলারের দাম বৃদ্ধি পাওয়া, যার ফলে ডলার রূপান্তরের পর প্রতি প্যান্টে প্রত্যাশিত টাকার চেয়ে বেশি অর্থ অর্জিত হয়েছে। এছাড়া উৎপাদনের উপকরণ ও কাঁচামালের খরচ অপ্রত্যাশিতভাবে হ্রাস পাওয়া অথবা পরিবহন বা শুল্ক ব্যয়ের সাশ্রয়ের ফলেও মোট মুনাফা বৃদ্ধি পেতে পারে। তবে বৈদেশিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ডলারের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাবই মুনাফা বৃদ্ধির প্রধান কারণ হিসেবে কাজ করেছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও