‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০১৮

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন

নজবুল ইসলাম বাজার থেকে কিছু পাকা আম ক্রয় করে বাড়ি অসেন। আম কাটার পর তিনি দেখতে পান ভেতরে আমের আঁটিগুলো শক্ত হয়নি। আম খাওয়ার পর তার পেটে কিছু সমস্যা দেখা দেয়।

  1. ক)

    দুর্নীতি কী?

    (1)
  2. খ)

    শারীরিক প্রতিবন্ধিতা বলতে কী বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের সাথে তোমার পঠিত কোনো নাগরিক সমস্যার সাদৃশ্য আছে কি? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    আইনের যথাযথ প্রয়োগ ও সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমে উদ্দীপকে বর্ণিত সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব- বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ব্যক্তিগত স্বার্থ বা লাভের উদ্দেশ্যে নিজের ওপর অর্পিত দায়িত্ব, ক্ষমতা বা পদের অপব্যবহার করাকে দুর্নীতি বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    শারীরিক প্রতিবন্ধিতা বলতে বোঝায় জন্মগতভাবে, রোগ-ব্যাধির কারণে বা কোনো দুর্ঘটনার শিকার হয়ে দেহের কোনো অঙ্গহানি ঘটা বা শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গের কার্যক্ষমতা স্বাভাবিকের চেয়ে আংশিক বা সম্পূর্ণ হ্রাস পাওয়া। যেমন—হাত-পা না থাকা বা অবশ হওয়া, চলাচলের অক্ষমতা ইত্যাদি। এর ফলে ব্যক্তি দৈনন্দিন স্বাভাবিক কাজকর্ম স্বাধীনভাবে সম্পন্ন করতে বাধার সম্মুখীন হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বর্ণিত ঘটনার সাথে আমার পঠিত নাগরিক সমস্যা 'খাদ্যে ভেজাল' বা বিষাক্ত রাসায়নিক প্রয়োগের সাদৃশ্য রয়েছে।

    খাদ্যে ভেজাল হলো খাদ্যের স্বাভাবিক মান বিনষ্ট করে সেখানে ক্ষতিকর রাসায়নিক বা অন্য কোনো অপদ্রব্য মেশানো। উদ্দীপকে দেখা যায়, নজবুল ইসলাম বাজার থেকে যে আম কিনে এনেছিলেন, সেগুলোর আঁটি তখনও পরিপক্ব বা শক্ত হয়নি, অথচ বাইরে থেকে আমগুলো পাকা দেখাচ্ছিল। এর স্পষ্ট অর্থ হলো, অপরিপক্ব আমকে কৃত্রিম উপায়ে বিপজ্জনক রাসায়নিক উপাদান (যেমন- ক্যালসিয়াম কার্বাইড বা ক্ষতিকর হরমোন) প্রয়োগ করে দ্রুত পাকানো হয়েছে। এর ফলে তা খাওয়ার পর নজবুল ইসলামের পেটের সমস্যা দেখা দেয়। খাদ্যদ্রব্যে বিষাক্ত রাসায়নিকের এই অবৈধ প্রয়োগই হলো খাদ্যে ভেজালের বাস্তব উদাহরণ, যা বর্তমানে আমাদের অন্যতম প্রধান নাগরিক সমস্যা।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    আইনের যথাযথ প্রয়োগ ও সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমে উদ্দীপকে বর্ণিত খাদ্যে ভেজালের মতো নাগরিক সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব—উক্তিটি অত্যন্ত যথার্থ।

    বাংলাদেশে খাদ্য নিরাপত্তার ক্ষেত্রে প্রধান অন্তরায় হলো ভেজাল ও ক্ষতিকারক রাসায়নিকের অপব্যবহার। এ সংকট নিরসনে দুটি দিক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ:

    ১. আইনের যথাযথ প্রয়োগ: খাদ্যে ভেজাল প্রতিরোধে দেশে 'ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯', 'নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩' এবং বিশেষ ক্ষমতা আইনের মতো কঠোর বিধান রয়েছে। কিন্তু আইনের প্রয়োগে শিথিলতা থাকলে অসাধু ব্যবসায়ীরা সুযোগ পেয়ে যায়। তাই ভেজালবিরোধী নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, কঠোর জরিমানা, দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ড এবং দোষীদের দৃশ্যমান শাস্তির মুখোমুখি করতে হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জিরো টলারেন্স নীতি অপরাধীদের দমন করবে।
    ২. সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টি: শুধু আইন প্রয়োগই যথেষ্ট নয়; জনসাধারণের মধ্যেও সচেতনতা তৈরি করতে হবে। ভোক্তা যদি মৌসুমের আগে আসা অস্বাভাবিক ফল বর্জন করে এবং কৃত্রিম উপায়ে পাকানো খাদ্য গ্রহণে সতর্ক হয়, তবে চাহিদার অভাবে অসাধু ব্যবসায়ীরা পিছু হটবে। গণমাধ্যম, সামাজিক সংগঠন এবং বিভিন্ন প্রচারণার মাধ্যমে ভেজালের কুফল সম্পর্কে জনসচেতনতা গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের মধ্যে নৈতিক মূল্যবোধ জাগ্রত করা প্রয়োজন।

    সুতরাং, কঠোর আইনি ব্যবস্থার প্রয়োগ এবং জনগণের সচেতন প্রতিরোধের সমন্বয়ই খাদ্যে ভেজালের সমস্যা পুরোপুরি দূর করতে পারে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন