ভূগোল এবং পরিবেশ • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২৫
ভূগোল এবং পরিবেশ প্রশ্ন
ছক: বাংলাদেশের নদী
নদী | উৎপত্তিস্থল
A | হিমালয়ের গঙ্গোত্রী হিমবাহ
B | আসামের লুসাই পাহাড়
C | কৈলাশ শৃঙ্গের মানস সরোবর
- ক)(1)
টিলা কাকে বলে?
- খ)(2)
বাংলাদেশের জলবায়ু মৌসুমি জলবায়ু নামে পরিচিত কেন?
- গ)(3)
'A' দ্বারা কোন কোন নদীকে নির্দেশ করা হয়েছে? এর গতিপথ বর্ণনা করো।
- ঘ)(4)
'B' ও 'C' দ্বারা নির্দেশিত নদী দুটির মধ্যে কোনটি বাণিজ্যিকভাবে বেশি গুরুত্বপূর্ণ? উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
বাংলাদেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ৩০ থেকে ৯০ মিটার উচ্চতার পাহাড়গুলো স্থানীয়ভাবে টিলা নামে পরিচিত।
- খ)
বাংলাদেশ কর্কটক্রান্তি রেখার কাছাকাছি অবস্থিত হলেও এখানকার জলবায়ুর উপর মৌসুমি বায়ুর প্রভাব এত বেশি যে এর জলবায়ুকে সামগ্রিকভাবে ক্রান্তীয় মৌসুমি জলবায়ু বলা হয়। মৌসুমি জলবায়ুর বৈশিষ্ট্য হলো বছরের বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ঋতুর আবির্ভাব। জুন থেকে অক্টোবর পর্যন্ত মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে বৃষ্টিপাত হয়। উষ্ণ ও আর্দ্র গ্রীষ্ম এবং শুষ্ক শীতকাল এর প্রধান বৈশিষ্ট্য।
- গ)
'A' দ্বারা গঙ্গা ও পদ্মা নদীকে নির্দেশ করা হয়েছে। গঙ্গা নদী হিমালয়ের গঙ্গোত্রী হিমবাহ থেকে উৎপত্তি লাভ করেছে। বাংলাদেশে প্রবেশের পর এর নাম পদ্মা।
গতিপথ:
১. গঙ্গা প্রথমে দক্ষিণ-পশ্চিম ও পরে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে প্রবাহিত হয়ে হরিদ্বারের নিকট সমভূমিতে পড়েছে।
২. এরপর ভারতের উত্তর প্রদেশ ও বিহারের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। মুর্শিদাবাদের ধুলিয়ানের কাছে ভাগীরথী (হুগলি) নামে এর একটি শাখা বের হয়ে পশ্চিমবঙ্গ দিয়ে বঙ্গোপসাগরে পড়েছে।
৩. মূল প্রবাহ প্রায় ১৪৫ কিলোমিটার পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের সীমানা বরাবর এসে কুষ্টিয়ার উত্তর-পশ্চিম প্রান্তে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।
৪. দৌলতদিয়ার নিকট যমুনার সঙ্গে মিলিত হয়ে পদ্মা নামে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে প্রবাহিত হয়ে চাঁদপুরের কাছে মেঘনার সঙ্গে মিলিত হয়েছে এবং মেঘনা নামে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে। - ঘ)
'B' হলো কর্ণফুলী (আসামের লুসাই পাহাড় থেকে উৎপন্ন) এবং 'C' হলো ব্রহ্মপুত্র (কৈলাস শৃঙ্গের নিকটে মানস সরোবর থেকে উৎপন্ন)। আমার মতে, বাণিজ্যিকভাবে কর্ণফুলী বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
১. সমুদ্রবন্দর: বাংলাদেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম কর্ণফুলী নদীর তীরে অবস্থিত। চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে দেশের মোট আমদানির প্রায় ৮৫ শতাংশ এবং রপ্তানির প্রায় ৮০ শতাংশ বাণিজ্য সম্পন্ন হয়।
২. আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ভূমিকা: এ বন্দর তৈরি পোশাক, পাটজাত পণ্যসহ রপ্তানি পণ্য বিদেশে পাঠাতে এবং আমদানি পণ্য আনতে সহায়তা করে।
৩. অন্যান্য অবদান: কাপ্তাইয়ে কর্ণফুলীতে বাঁধ দিয়ে 'কর্ণফুলী পানিবিদ্যুৎ কেন্দ্র' স্থাপন করা হয়েছে। এটি চট্টগ্রাম ও রাঙ্গামাটির প্রধান নদী।
৪. ব্রহ্মপুত্রের ভূমিকা: ব্রহ্মপুত্র নদ দিয়ে অভ্যন্তরীণ নৌ চলাচল, সেচ ও মাছ ধরা হয়, কিন্তু দেশের বৈদেশিক বাণিজ্যের মূল প্রবেশপথ সমুদ্রবন্দর।সুতরাং, সমুদ্রবন্দর ও জলবিদ্যুতের মাধ্যমে বাণিজ্যে প্রত্যক্ষ ভূমিকা রাখায় কর্ণফুলী অধিক গুরুত্বপূর্ণ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও