ব্যবসায় উদ্যোগ • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২৫

ব্যবসায় উদ্যোগ প্রশ্ন

মি. আশিক তার নিজের জায়গায় ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি সিরামিক ও চীনামাটির সামগ্রী তৈরির কারখানা স্থাপন করেন। তার প্রতিষ্ঠানে ৮০ জন শ্রমিক নিয়োজিত আছে। তার উৎপাদিত পণ্যের গুণগত মান ভালো হওয়ায় বিক্রিও ভালো হয়। তার বন্ধু মি. রফিক তা দেখে একটি মিশ্র সার কারখানা স্থাপন করেন। তিনি ২০ কোটি টাকা ব্যয় করেন এবং এতে ২০০ জন লোকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়।

  1. ক)

    শিল্প কী?

    (1)
  2. খ)

    সেবা শিল্প বলতে কী বোঝায়? ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    বিনিয়োগের মাপকাঠিতে মি. আশিকের শিল্পটি কোন ধরনের শিল্প? বর্ণনা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে মি. রফিকের কারখানাটির অবদান মূল্যায়ন কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    সাধারণত ব্যাপক মূলধন সামগ্রী ব্যবহার করে কারখানায় কাঁচামাল বা প্রাথমিক দ্রব্যকে মাধ্যমিক বা চূড়ান্ত দ্রব্যে রূপান্তর করার প্রক্রিয়াকে শিল্প বলে।

  2. খ)

    যন্ত্রপাতি, স্থায়ী সম্পদ বা মেধাসম্পদ ব্যবহার করে যেসব সেবামূলক কাজ সম্পাদিত হয়, সেসব শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে সেবা শিল্প বলে। এখানে বস্তুগত পণ্য নয়, সেবা উৎপাদন ও বিক্রয় করা হয়। যেমন: হাসপাতাল ও ক্লিনিক, পর্যটন, পরিবহন ও যোগাযোগ, দুগ্ধ ও পোল্ট্রি উৎপাদন ও বিপণন।

  3. গ)

    মি. আশিকের শিল্পটি সিরামিক সামগ্রী উৎপাদনকারী, অর্থাৎ উৎপাদনমুখী শিল্প। বিনিয়োগের মাপকাঠিতে উৎপাদনমুখী ক্ষুদ্র শিল্পের সীমা হলো জমি ও কারখানা ভবন বাদে স্থায়ী সম্পদের মূল্য ৭৫ লক্ষ থেকে ১৫ কোটি টাকা এবং ৩১–১২০ জন শ্রমিক।

    আশিক ৩ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছেন এবং তার প্রতিষ্ঠানে ৮০ জন শ্রমিক কাজ করে। উভয়ই ক্ষুদ্র শিল্পের সীমার মধ্যে পড়ে। তাই আশিকের শিল্পটি ক্ষুদ্র শিল্প।

  4. ঘ)

    মি. রফিক ২০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করে মিশ্র সার কারখানা বানিয়েছেন, যেখানে ২০০ জন কাজ করে। উৎপাদনমুখী শিল্পের জন্য মাঝারি শিল্পের সীমা ১৫–৫০ কোটি টাকা ও ১২১–৩০০ জন, তাই এটি মাঝারি শিল্প। বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে এর অবদান:

    ১. কর্মসংস্থান: ২০০ জনের সরাসরি কর্মসংস্থান হয়েছে, ফলে বেকারত্ব ও দারিদ্র্য কমে।
    ২. কৃষি ও খাদ্য উৎপাদনে সহায়তা: সার ফসল উৎপাদনের গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ। দেশে সার তৈরি হলে কৃষকরা সহজে সার পায় এবং ফসল বাড়ে।
    ৩. আয় ও সরকারের রাজস্ব বৃদ্ধি: শিল্পের মুনাফা, শ্রমিকের আয় ও সরকারকে দেওয়া কর জাতীয় আয় বাড়ায়।
    ৪. সামাজিক উন্নয়ন: শ্রমিকদের আয় বাড়ায় তাদের পরিবারের জীবনযাত্রার মান উন্নত হয়।

    সুতরাং, রফিকের কারখানা কর্মসংস্থান, কৃষি ও জাতীয় আয়ের মাধ্যমে দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন