বাংলা ১ম পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২৩
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
আমায় নহে গো ভালোবাস শুধু ভালোবাস মোর গান,বনের পাখিরে কে চিনে রাখে গান হলে অবসান;চাঁদেরে কে চায়, জোছনা সবাই যাচেগীত-শেষে বীণা পড়ে তাকে ধূলি-মাঝ।.
- ক)(1)
‘সোনার তরী’ কবিতায় কবি ক্ষণিক হেসে কী নিয়ে যেতে বলেছেন?
- খ)(2)
‘ঠাঁই নাই, ঠাঁই নাই-ছোটো সে তরী আমারি সোনার ধানে গিয়েছে ভরি’- ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকের বনের পাখির সাথে ‘সোনার তরী’ কবিতায় কার সাদৃশ্য রয়েছে? আলোচনা কর।
- ঘ)(4)
‘সোনার তরী’ কবিতার মূল বক্তব্য যেন ‘গীত-শেষে বীণা পড়ে থাকে ধূলি-মাঝে’ কথাটির মধ্য নিহিত।-মন্তব্যটি বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
‘সোনার তরী’ কবিতায় কবি ক্ষণিক হেসে তাঁর উৎপাদিত 'সোনার ধান' তরণীতে তুলে নিয়ে যেতে বলেছেন।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
‘ঠাঁই নাই, ঠাঁই নাই-ছোটো সে তরী আমারি সোনার ধানে গিয়েছে ভরি’—কথাটি দ্বারা মহাকালের নৌকায় মানুষের সৃষ্ট সোনার ফসলের স্থান হলেও স্বয়ং ব্যক্তির কোনো স্থান নেই, এই চিরন্তন সত্যকে বোঝানো হয়েছে।
কবি সারাজীবন সাধনা করে যে সৃষ্টিশীল কর্ম বা 'সোনার ধান' রচনা করেছেন, মহাকালের তরী তা সাদরে গ্রহণ করে। কিন্তু সেই মহাকালের তরী এতই সীমাবদ্ধ যে সেখানে কেবল কর্মেরই স্থান হয়, কর্মীর নশ্বর দেহের কোনো স্থান হয় না। মানুষকে অনিবার্যভাবেই কালের অতলে বিলীন হতে হয়—এ গভীর দার্শনিক উপলব্ধিই এখানে প্রকাশ পেয়েছে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের 'বনের পাখি'র সাথে ‘সোনার তরী’ কবিতার ব্যক্তিস্বত্তা তথা 'কৃষক রূপী কবি'র গভীর সাদৃশ্য রয়েছে।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, মানুষ বনের পাখির গানকে ভালোবাসে, কিন্তু গান শেষ হয়ে গেলে পাখির আর কোনো খোঁজ রাখে না। পাখি এখানে অবহেলিত ও বিস্মৃত শিল্পীসত্তার প্রতীক।
‘সোনার তরী’ কবিতাতেও দেখা যায়, কৃষক (কবি) সারাজীবন কঠোর সাধনা করে যে সোনার ধান ফলিয়েছেন, মহাকালের তরী সেই ধানটুকু গ্রহণ করে তাকে অনন্ত শূন্য নদীর তীরে ফেলে রেখে চলে যায়। অর্থাৎ সৃষ্টিকে গ্রহণ করা হলেও স্রষ্টার অস্তিত্বকে কাল অস্বীকার করে। উদ্দীপকের গান গাওয়া বনের পাখির মতোই কবিতার কবি বা ব্যক্তি-মানুষ তাঁর সৃষ্টির আড়ালে চিরতরে বিস্মৃত ও উপেক্ষিত থেকে যান। এই নশ্বরতা ও অবহেলার দিক থেকেই বনের পাখির সাথে কবির সাদৃশ্য বিদ্যমান।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
‘সোনার তরী’ কবিতার মূল বক্তব্য যেন ‘গীত-শেষে বীণা পড়ে থাকে ধূলি-মাঝে’ কথাটির মধ্যে নিহিত—মন্তব্যটি যথার্থ ও ভাবার্থের দিক থেকে গভীরভাবে সংগতিপূর্ণ।
উদ্দীপকের চরণগুলোতে প্রকাশ পেয়েছে যে, বিশ্বজগতে মানুষ কেবল সৃষ্টির বা উপভোগ্য বিষয়ের কদর করে, কিন্তু তার স্রষ্টা বা মাধ্যমকে ভুলে যায়। যেমন গান শেষ হলে বীণা ধুলোয় পড়ে থাকে, ঠিক তেমনি ব্যক্তির অবদান গৃহীত হলেও ব্যক্তি নিজে মূল্যহীন হয়ে পড়ে।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘সোনার তরী’ কবিতার মূল দর্শনও একই। কৃষক রূপী কবি তাঁর সমস্ত জীবন ও সাধনা দিয়ে সোনার ধান অর্থাৎ মহৎ সৃষ্টি রচনা করেছেন। মহাকালের মাঝি সেই তরীভরা ধান বা শ্রেষ্ঠ সৃষ্টিকে সাদরে তুলে নেয়, কিন্তু কবির নিজের জন্য সেই নৌকায় এক তিল জায়গাও অবশিষ্ট থাকে না। কবিকে শূন্য নদীর তীরে একাকী অতৃপ্তি নিয়ে মৃত্যুর প্রতীক্ষা করতে হয়। অর্থাৎ মানুষের সৃষ্টি মহাকালের বুকে চিরন্তন হয়ে বেঁচে থাকে, কিন্তু সৃষ্টির উৎস বা মাধ্যম নশ্বর মানুষটি ধূলির পৃথিবীতেই বিলীন হয়ে যায়।
অতএব, বীণার সুর যেমন গ্রহণ করা হয় আর বীণা ধুলোয় পড়ে থাকে, তেমনি সৃষ্টি গৃহীত হয়ে ব্যক্তি-মানুষ কালের অতলে বিস্মৃত হয়—উভয় রচনার এই অভিন্ন ভাবসত্যের আলোকে মন্তব্যটি যথার্থ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও