‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০১৮

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন

'গ' একজন রাজনৈতিক নেতা। মানবতার কল্যাণ তাঁর রাজনীতির মূল লক্ষ্য। বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের কথা চিন্তা করে তিনি একাধিক স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব করেন।

  1. ক)

    ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস প্রতিষ্ঠিত হয় কখন?

    (1)
  2. খ)

    'দ্বিজাতি তত্ত্ব' বলতে কী বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের সাথে তোমার পঠিত কোনো ঐতিহাসিক প্রস্তাবের সাদৃশ্য আছে কি? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ প্রস্তাবের মধ্যে স্বাধীন বাংলাদেশের বীজ নিহিত ছিল- বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ১৮৮৫ সালের ডিসেম্বরে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস প্রতিষ্ঠিত হয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    'দ্বিজাতি তত্ত্ব' হলো এমন একটি রাজনৈতিক মতবাদ যার মূল কথা হলো অবিভক্ত ভারতে হিন্দু ও মুসলমান দুটি ভিন্ন জাতি এবং তাদের জন্য পৃথক আবাসভূমি প্রয়োজন। ১৯৩৯ সালে মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ প্রথম এই তত্ত্ব প্রচার করেন এবং এর ওপর ভিত্তি করেই মূলত ধর্মের ভিত্তিতে ভারত বিভক্তির পথ উন্মোচিত হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের সাথে আমার পঠিত ১৯৪০ সালের ঐতিহাসিক 'লাহোর প্রস্তাব'-এর সাদৃশ্য রয়েছে।

    ১৯৪০ সালের ২৩ মার্চ নিখিল ভারত মুসলিম লীগের লাহোর অধিবেশনে অবিভক্ত বাংলার তদানীন্তন মুখ্যমন্ত্রী শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক লাহোর প্রস্তাব পেশ করেন। এই প্রস্তাবে বলা হয়েছিল, ভারতের উত্তর-পশ্চিম ও পূর্বাঞ্চলের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকাগুলোকে নিয়ে একাধিক 'স্বাধীন রাষ্ট্রসমূহ' (Independent States) গঠন করতে হবে।

    উদ্দীপকের নেতা 'গ' মানবকল্যাণ ও বিভিন্ন সম্প্রদায়ের স্বার্থ বিবেচনায় একাধিক স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব করেন। বাস্তব ক্ষেত্রে শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হকও একই উদ্দেশ্যে লাহোর প্রস্তাবে ভারতের ভৌগোলিক অবস্থা বিবেচনা করে একাধিক স্বাধীন রাষ্ট্রের প্রস্তাবনা উত্থাপন করেছিলেন। কাজেই উদ্দীপকের ঘটনা লাহোর প্রস্তাবের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ প্রস্তাব অর্থাৎ ঐতিহাসিক ১৯৪০ সালের 'লাহোর প্রস্তাব'-এর মধ্যেই স্বাধীন বাংলাদেশের বীজ নিহিত ছিল—উক্তিটি যথার্থ ও যৌক্তিক।

    লাহোর প্রস্তাবের মূল বয়ানে স্পষ্টভাবে উল্লেখ ছিল যে, উত্তর-পশ্চিম ও পূর্ব অঞ্চলের মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকাগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করে একাধিক 'স্বাধীন রাষ্ট্রসমূহ' (Independent States) গঠিত হবে এবং এর অঙ্গরাজ্যগুলো হবে স্বায়ত্তশাসিত ও সার্বভৌম। এই প্রস্তাবে পূর্ব বাংলাকে একটি স্বতন্ত্র ও স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার সুস্পষ্ট ইঙ্গিত ছিল।

    যদিও পরবর্তীতে ১৯৪৬ সালে দিল্লীর মুসলিম লীগ আইনপ্রণেতাদের সম্মেলনে কূটকৌশলের মাধ্যমে মূল প্রস্তাবের 'States' শব্দটির 's' বাদ দিয়ে একক রাষ্ট্র 'পাকিস্তান'-এর রূপ দেওয়া হয়, তবুও বাঙালির মনে লাহোর প্রস্তাবের মূল প্রেরণা জাগ্রত ছিল। বাঙালিরা নিজেদের স্বতন্ত্র আত্মপরিচয় ও স্বায়ত্তশাসনের দাবি লাহোর প্রস্তাবের আলোকেই বিবেচনা করত। ফলশ্রুতিতে পাকিস্তানি শাসকদের শোষণ, বৈষম্য এবং বঞ্চনার বিরুদ্ধে গড়ে ওঠা ঐতিহাসিক ৬ দফা আন্দোলনসহ সকল স্বাধিকার আন্দোলনের মূল দর্শন ছিল লাহোর প্রস্তাবের স্বায়ত্তশাসনের চেতনা, যা চূড়ান্ত পর্যায়ে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটায়।

    সুতরাং, একথা নিশ্চিতভাবেই বলা যায় যে লাহোর প্রস্তাবের বহুরাষ্ট্রের ধারণার মাঝেই ভবিষ্যৎ স্বাধীন বাংলাদেশের বীজ নিহিত ছিল।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন