জীববিজ্ঞান ২য় পত্র • জিনতত্ত্ব ও বিবর্তন • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৫
জীববিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
সাদা সাদা
- ক)(1)
জৈব বিবর্তন কী?
- খ)(2)
নব্য-ডারউইনবাদ বলতে কী বুঝ?
- গ)(3)
উদ্দীপকটি মেন্ডেলবাদের যে সূত্রের অন্তর্ভুক্ত তা ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লিখিত সাদা পিতা-মাতা হতে রঙিন সন্তান পাওয়া সম্ভব— বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ধীর, ধারাবাহিক ও পরিবর্তনশীল প্রক্রিয়ায় সরলতম পূর্বপুরুষ থেকে জটিল ও উন্নততর নতুন প্রজাতির উৎপত্তি হওয়াকে জৈব বিবর্তন বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ডারউইনের প্রাকৃতিক নির্বাচন মতবাদকে আধুনিক বংশগতিবিদ্যা, কোষবিদ্যা ও পপুলেশন জেনেটিক্সের আলোকে পরিমার্জন ও পুনঃপ্রতিষ্ঠা করাকে নব্য-ডারউইনবাদ (Neo-Darwinism) বলা হয়। বিজ্ঞানী ভাইজম্যান, রোমানেস, রাইট, সিম্পসন প্রমুখ বিজ্ঞানী দেখান যে, কেবল প্রাকৃতিক নির্বাচন নয়; বরং জিন মিউটেশন, ক্রোমোজোমীয় পরিবর্তন, জেনেটিক রিকম্বিনেশন এবং প্রজননিক বিচ্ছিন্নতার যৌথ প্রভাবই বিবর্তনের মূল চালিকাশক্তি।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকটি মেন্ডেলের দ্বিতীয় সূত্রের (স্বাধীনভাবে সঞ্চারণের সূত্র) ব্যতিক্রম হিসেবে 'প্রকট এপিস্ট্যাসিস' (Dominant Epistasis)-এর অন্তর্ভুক্ত।
যখন একটি প্রকট জিন অন্য একটি নন-অ্যালিলিক প্রকট জিনের কার্যকারিতা প্রকাশে বাধা প্রদান করে, তখন সেই প্রক্রিয়াকে প্রকট এপিস্ট্যাসিস বলে। মুরগির পালকের বর্ণের ক্ষেত্রে, রঙিন পালকের জন্য দায়ী প্রকট জিন 'C' এবং সাদা পালকের জন্য দায়ী প্রচ্ছন্ন অ্যালিল 'c'। অপরপক্ষে, রঙিন পালক সৃষ্টিতে বাধাদানকারী প্রকট এপিস্ট্যাটিক জিন হলো 'I' এবং এর প্রচ্ছন্ন অ্যালিল 'i'।
এখানে, জিন 'I'-এর উপস্থিতিতে 'C' জিন তার বৈশিষ্ট্য (রঙিন পালক) প্রকাশ করতে পারে না, ফলে পালক সাদা হয়। কেবল জিনোটাইপে 'C' উপস্থিত এবং 'I' অনুপস্থিত (অর্থাৎ C-ii) থাকলেই পালক রঙিন হতে পারে। উদ্দীপকের পিতা-মাতা উভয়েরই জিনোটাইপ CcIi, যা F1 জনুর সংকর এবং এদের পালক সাদা। এদের স্ব-পরাগায়ন/ক্রসের ফলে F2 জনুতে ফিনোটাইপিক অনুপাত ৯:৩:৩:১ এর পরিবর্তিত রূপ হিসেবে ১৩:৩ (সাদা : রঙিন) পাওয়া যায়। অতএব, উদ্দীপকের ক্রসটি মেন্ডেলের দ্বিতীয় সূত্রের ব্যতিক্রম নির্দেশ করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত উভয় পিতা-মাতার জিনোটাইপ হলো CcIi এবং ফিনোটাইপ হলো সাদা। এই সাদা পিতা-মাতা হতে পরবর্তী বংশধরে রঙিন সন্তান পাওয়া সম্ভব— নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো:
মুরগির পালকের রঙের ক্ষেত্রে, 'C' জিন রঙিন পালক সৃষ্টির জন্য দায়ী এবং প্রকট এপিস্ট্যাটিক জিন 'I' রঙিন বর্ণ প্রকাশে বাধা দেয়। তাই 'I' জিনের উপস্থিতিতে 'C' তার বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করতে না পেরে ফিনোটাইপ সাদা হয়। তবে যখন এপিস্ট্যাটিক জিন 'I' অনুপস্থিত থাকে (হোমোজাইগাস প্রচ্ছন্ন অবস্থা 'ii'), তখন 'C' জিন তার স্বকীয় বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করে পালককে রঙিন করে। অর্থাৎ 'CCii' বা 'Ccii' জিনোটাইপযুক্ত মুরগি রঙিন পালকবিশিষ্ট হয়।
উদ্দীপকের পিতা (♂ CcIi) এবং মাতা (♀ CcIi) উভয়ই হেটেরোজাইগাস হওয়ায় তারা চার ধরনের গ্যামেট তৈরি করে: CI, Ci, cI, এবং ci।
এদের মিলনে F2 জনুতে মোট ১৬টি সম্ভাব্য সংমিশ্রণ পাওয়া যায়। চেকারবোর্ডের বিশ্লেষণে দেখা যায়:
১. C-I- (৯টি) : সাদা (যেহেতু C ও I উভয়ই উপস্থিত)
২. C-ii (৩টি) : রঙিন (যেহেতু C উপস্থিত এবং বাধাদানকারী I অনুপস্থিত; যথা CCii = ১টি, Ccii = ২টি)
৩. ccI- (৩টি) : সাদা (রঙের জিন C অনুপস্থিত এবং I উপস্থিত)
৪. ccii (১টি) : সাদা (উভয় প্রচ্ছন্ন জিন)অতএব, F2 জনুতে মোট ১৬টি সন্তানের মধ্যে ৩টি সন্তান রঙিন (C-ii) বৈশিষ্ট্যযুক্ত হয়, যার অনুপাত মোট সন্তানের ৩/১৬ অংশ বা ১৮.৭৫%। সুতরাং, সাদা পিতা-মাতা (CcIi) হতে জিনগত পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে রঙিন সন্তান পাওয়া নিশ্চিতভাবেই সম্ভব।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও