পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র • সুশাসন • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬
পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র প্রশ্ন
দৃশ্যপট-১ : বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শোয়েব স্যার নিয়মিত স্কুলে আসেন, ক্লাস নেন। তিনি পরীক্ষায় নকলকে কঠোরভাবে প্রতিহত করেন এবং দুর্বল শিক্ষার্থীদের আলাদা করে বাড়তি সময় দেন। অভিভাবকদের সাথে নিয়মিত মত বিনিময় করেন। ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সততা, দায়িত্ববোধ, ও শৃঙ্খলার চর্চা গড়ে উঠে এবং বিদ্যালয়ের ফলাফল ও সুনাম বৃদ্ধি পায়।
দৃশ্যপট-২ : ভোটের দিন সকালে ভোট কেন্দ্রে এক সাথে দাঁড়ায় কৃষক, গার্মেন্টসকর্মী, শিক্ষার্থীসহ নানা শ্রেণি পেশার মানুষ। সবার জন্য একই নিয়ম, একই ব্যালট। কারোর জন্যই নিজস্ব পদ-পদবির পরিচয় বা অর্থের জোরের আলাদা সুযোগ নেই। সবাই চায় এভাবে পড়াশুনা, চাকরি ও মত প্রকাশের এমন সুযোগ, যেখানে কেউ নিজেকে ছোট মনে করেনা।
- ক)(1)
সুশাসন কী?
- খ)(2)
আইনের শাসন কীভাবে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখে? ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
দৃশ্যপট-১ এ বর্ণিত বিষয়ের সাথে তোমার পঠিত কোন বিষয়ের সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
দৃশ্যপট-২ এ বর্ণিত বিষয়টি চিহ্নিত করে স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণে এর ভূমিকা মূল্যায়ন কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সুশাসন হলো এমন একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিতামূলক ও কার্যকর শাসনব্যবস্থা, যেখানে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত থাকে এবং জনগণের অংশগ্রহণ ও জনকল্যাণ নিশ্চিত হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
আইনের শাসন হলো এমন একটি অবস্থা যেখানে আইনের চোখে সবাই সমান এবং ধনী-দরিদ্র, ক্ষমতাবান বা সাধারণ নাগরিক নির্বিশেষে কাউকে বিনা অপরাধে শাস্তি বা বিনা বিচারে আটক রাখা যায় না। সুশাসনের মূল শর্ত হলো জবাবদিহিতা, ন্যায়বিচার ও সমতা রক্ষা করা। আইনের শাসন থাকলে শাসকের স্বেচ্ছাচারিতা বন্ধ হয় এবং নাগরিক অধিকার নিশ্চিত হয়। ফলে সমাজের প্রতিটি স্তরে স্বচ্ছতা তৈরি হয়ে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দৃশ্যপট-১ এ বর্ণিত বিষয়ের সাথে আমার পঠিত 'পৌরনীতি ও সুশাসন' বিষয়ের ‘সুশাসন ও মূল্যবোধ’ প্রত্যয়ের গভীর সাদৃশ্য রয়েছে।
পৌরনীতি ও সুশাসনে জবাবদিহিতা, দায়িত্বশীলতা, স্বচ্ছতা, আইনের অনুশাসন এবং নৈতিক মূল্যবোধ অর্জনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। কোনো প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় সততা, নিষ্ঠা, নিয়মশৃঙ্খলা এবং বৈষম্যহীন সেবা দেওয়া হলো প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসনের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য।
উদ্দীপকের প্রধান শিক্ষক শোয়েব স্যার নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসেন, পাঠদান নিশ্চিত করেন, পরীক্ষায় নকল প্রতিরোধে কঠোর ব্যবস্থা নেন এবং পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের বাড়তি সময় দেন। তাঁর এসব কার্যক্রম প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্বশীলতা, স্বচ্ছতা ও সততার বহিঃপ্রকাশ। এর ফলে শিক্ষার্থীদের মাঝেও সততা, শৃঙ্খলা ও মূল্যবোধ গড়ে ওঠে। সুতরাং, দৃশ্যপট-১ এ একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কার্যকর সুশাসন ও নৈতিক মূল্যবোধের আদর্শ চর্চা প্রতিফলিত হয়েছে, যা পৌরনীতি ও সুশাসনের মূল প্রতিপাদ্যের সাথে সরাসরি সাদৃশ্যপূর্ণ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দৃশ্যপট-২ এ বর্ণিত বিষয়টি হলো ‘সাম্য’ (Equality), বিশেষত ‘রাজনৈতিক ও সামাজিক সাম্য’। স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণে এই সাম্যের ভূমিকা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও অপরিহার্য।
দৃশ্যপট-২ এ দেখা যায়, ভোটাধিকার প্রয়োগের সময় কৃষক, শ্রমিক কিংবা শিক্ষার্থী— সামাজিক ও অর্থনৈতিক মর্যাদা নির্বিশেষে সবাই একই কাতারে দাঁড়ায় এবং প্রত্যেকের ভোটের মূল্য সমান। পাশাপাশি শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও মতপ্রকাশের ক্ষেত্রে কোনো বৈষম্য ছাড়া সবার জন্য সমসুযোগ চাওয়া হয়েছে, যা সাম্যের মূল ধারণাকে তুলে ধরে।
স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণে সাম্যের ভূমিকা নিম্নরূপ:
১. সুযোগের সমতা: সাম্য ছাড়া স্বাধীনতার স্বাদ সমাজের সর্বস্তরের মানুষ উপভোগ করতে পারে না। সাম্য থাকলে সমাজে সুবিধাভোগী শ্রেণির আধিপত্য হ্রাস পায় এবং দরিদ্র ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর স্বাধীনতা অর্থবহ হয়।
২. রাজনৈতিক স্বাধীনতার পূর্ণতা: উদ্দীপকের মতো ভোটকেন্দ্রে সবার সমান অধিকার নিশ্চিত হওয়া রাজনৈতিক সাম্যের পরিচয়। রাজনৈতিক সাম্য নিশ্চিত না হলে সাধারণ মানুষ তাদের ভোটাধিকার ও সরকার নিয়ন্ত্রণের স্বাধীনতা হারায়।
৩. মতপ্রকাশ ও ব্যক্তিত্ব বিকাশের স্বাধীনতা: সমাজে সামাজিক সমতা বজায় থাকলে কোনো ব্যক্তি নিজেকে হীন বা ছোট মনে করে না, যা তার স্বাধীন মতপ্রকাশ ও প্রতিভা বিকাশের পরিবেশ সৃষ্টি করে।
৪. সাম্য ও স্বাধীনতার অবিচ্ছেদ্যতা: ফরাসি চিন্তাবিদদের মতে, সাম্যহীন স্বাধীনতা অর্থহীন। ধনী ও দরিদ্রের তীব্র বৈষম্য থাকলে স্বাধীনতা কেবল ধনীদের বিশেষাধিকারে পরিণত হয়। সাম্যই স্বাধীনতার রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করে।অতএব, দৃশ্যপট-২ এ নির্দেশিত সাম্যের বাস্তবায়ন ছাড়া ব্যক্তি ও নাগরিকের প্রকৃত স্বাধীনতা নিশ্চিত ও অর্থপূর্ণ হতে পারে না।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও