‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২৩

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন

বিশাল আয়তনে গঠিত অঞ্চলের প্রশাসক ছিলেন মি. ডেভিট। তার একার পক্ষে বিশাল আয়তন বিশিষ্ট অঞ্চলের উন্নয়ন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও সুষ্ঠুভাবে শাসনকার্য পরিচালনা করা সম্ভব ছিল না। ফলে কর্তৃপক্ষ উক্ত অঞ্চলকে 'ক' ও 'খ' দু'টি অঞ্চলে বিভক্ত করে প্রশাসক নিয়োগ করেন। এতে 'ক' অঞ্চলের জনগণ খুশি হলেও ‘খ’ অঞ্চলের জনগণের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দেয় ।

  1. ক)

    লাহোর প্রস্তাবের উপস্থাপক কে ছিলেন?

    (1)
  2. খ)

    ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লেখিত ঘটনার সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন ঘটনার মিল রয়েছে? কারণসহ ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে উল্লেখিত 'খ' অঞ্চলের জনগণের মধ্যে বিদ্যমান প্রতিক্রিয়া বিশ্লেষণসহ এর ফলাফল মূল্যায়ন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ১৯৪০ সালের ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাবের উপস্থাপক ছিলেন বাংলার তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শের-ই-বাংলা এ. কে. ফজলুল হক।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ১৮৮৫ সালে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস প্রতিষ্ঠার প্রধান উদ্দেশ্য ছিল ব্রিটিশ সরকারের সাথে ভারতীয় শিক্ষিত মধ্যবিত্ত শ্রেণির একটি সেতুবন্ধন তৈরি করা। সাংবিধানিক ও নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে জনগণের সমস্যা ও দাবি-দাওয়া তুলে ধরা, ভারতীয়দের মধ্যে ঐক্য ও জাতীয়তাবোধ সৃষ্টি করা এবং ব্রিটিশ প্রশাসনের অভ্যন্তরে ভারতীয়দের অংশগ্রহণ ও সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করাই ছিল কংগ্রেস প্রতিষ্ঠার মূল লক্ষ্য।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লেখিত ঘটনার সাথে আমার পাঠ্যবইয়ের ১৯০৫ সালের ঐতিহাসিক ‘বঙ্গভঙ্গ’ ঘটনার মিল রয়েছে।

    কারণসহ ব্যাখ্যা:
    তৎকালীন অবিভক্ত বাংলা প্রেসিডেন্সির আয়তন ও জনসংখ্যা ছিল অত্যন্ত বিশাল (বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যা মিলিয়ে প্রায় ১ লক্ষ ৮৯ হাজার বর্গমাইল এবং প্রায় ৮ কোটি জনসংখ্যা)। গভর্নর জেনারেল লর্ড কার্জনের মতে, একজন মাত্র গভর্নরের পক্ষে এত বিশাল ভূখণ্ডের প্রশাসনিক কাজ সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করা, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা করা এবং পূর্ব বাংলার পিছিয়ে পড়া অঞ্চলের সুষম উন্নয়ন নিশ্চিত করা অসম্ভব হয়ে পড়েছিল।

    উদ্দীপকের প্রশাসক মি. ডেভিটের বিশাল অঞ্চলের দায়িত্ব পালন অসম্ভব হওয়ার কারণে অঞ্চলটিকে 'ক' ও 'খ' অঞ্চলে বিভক্ত করার ঘটনাটি ১৯০৫ সালে প্রশাসনিক সুবিধার কথা বলে বাংলাকে বিভক্ত করে ‘পূর্ববঙ্গ ও আসাম’ এবং ‘পশ্চিমবঙ্গ’ নামে দুটি নতুন প্রদেশে রূপান্তরের সাথে হুবহু সাদৃশ্যপূর্ণ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লেখিত 'খ' অঞ্চলটি তৎকালীন 'পশ্চিমবঙ্গ' তথা বঙ্গভঙ্গবিরোধী হিন্দু বুদ্ধিজীবী ও জাতীয়তাবাদী নেতাদের নির্দেশ করে। বঙ্গভঙ্গের ফলে এই অংশের জনগণের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।

    প্রতিক্রিয়া বিশ্লেষণ:
    ১. জাতীয়তাবাদী অসন্তোষ: উচ্চবর্ণের হিন্দু নেতৃবৃন্দ ও কংগ্রেসের একাংশ বঙ্গভঙ্গকে 'বঙ্গমাতার অঙ্গচ্ছেদ' এবং ব্রিটিশদের 'ভাগ কর ও শাসন কর' (Divide and Rule) নীতির কূটকৌশল হিসেবে বিবেচনা করে।
    ২. কায়েমি স্বার্থে আঘাত: কলকাতা-কেন্দ্রিক আইনজীবী, ব্যবসায়ী ও সংবাদপত্রের মালিকরা পূর্ব বাংলায় উচ্চ আদালত ও অর্থনৈতিক কেন্দ্র গড়ে উঠলে তাদের প্রভাব ক্ষুণ্ণ হবে ভেবে এই বিভক্তির তীব্র বিরোধিতা শুরু করেন।

    ফলাফল মূল্যায়ন:
    ১. স্বদেশী ও বয়কট আন্দোলন: বঙ্গভঙ্গের বিরোধিতায় ব্যাপক স্বদেশী আন্দোলন গড়ে ওঠে, যেখানে বিলাতি পণ্য বর্জন এবং স্বদেশী পণ্যের ব্যবহার শুরু হয়।
    ২. সশস্ত্র বিপ্লবী কর্মকাণ্ড: অহিংস আন্দোলনের পাশাপাশি চরমপন্থী ও বিপ্লবী কর্মকাণ্ড ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্রিটিশ সরকারের ওপর চরম রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি হয়।
    ৩. সাম্প্রদায়িক বিভাজন: এই বিরোধিতার বিপরীতে পূর্ব বাংলার মুসলমানরা বঙ্গভঙ্গকে স্বাগত জানালে দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েন সৃষ্টি হয় এবং ফলশ্রুতিতে ১৯০৬ সালে মুসলিম লীগের জন্ম হয়।
    ৪. বঙ্গভঙ্গ রদ (১৯১১): হিন্দু সম্প্রদায়ের তীব্র আন্দোলন ও ব্রিটিশবিরোধী তৎপরতার মুখে শেষ পর্যন্ত ১৯১১ সালে সম্রাট পঞ্চম জর্জ বঙ্গভঙ্গ রদ ঘোষণা করতে বাধ্য হন।

    সুতরাং, 'খ' অঞ্চলের ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া তৎকালীন ভারতীয় রাজনীতিতে একদিকে তীব্র গণ-আন্দোলনের জন্ম দেয় এবং অন্যদিকে বঙ্গভঙ্গ রদের মাধ্যমে ঐতিহাসিক রূপ পরিগ্রহ করে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন