ইসলাম শিক্ষা ১ম পত্র • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, যশোর, বরিশাল, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০১৯

ইসলাম শিক্ষা ১ম পত্র প্রশ্ন

আবির ও আদিব দুই বন্ধু কলেজ শেষে একটি রেস্টুরেন্টে বসে নাস্তা করছিল। হঠাৎ আবিরের অন্য এক বন্ধু রফিক মোবাইল ফোনে তাকে কোথায় আছে জানতে চাইলে সে বললো, 'আমি বাসায়'। আদিব আবিরকে বললো, রফিকের সাহচর্য যথাসম্ভব ত্যাগ করবে। কারণ সে কিছু বাজে ছেলের সাথে মেলামেশা করে। মাঝে মাঝে অনৈতিক কাজেও জড়িয়ে পড়ে।

  1. ক)

    জুয়া কী?

    (1)
  2. খ)

    'ধূমপান স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর' বুঝিয়ে লেখো।

    (2)
  3. গ)

    আবিরের বক্তব্যের মাধ্যমে তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    আবিরের প্রতি আদিবের পরামর্শ প্রদানের পদ্ধতি কি যথার্থ? এ জাতীয় কাজের পরিণতি বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যে খেলায় আর্থিক বা বস্তুগত লাভ-লোকসান অনিশ্চয়তা ও ভাগ্যের ওপর নির্ভর করে বাজি ধরা হয়, তাকে জুয়া বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ধূমপান মানবদেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর কারণ সিগারেটের ধোঁয়ায় নিকোটিনসহ অসংখ্য ক্ষতিকর ও বিষাক্ত রাসায়নিক উপাদান থাকে। এর ফলে ফুসফুসের ক্যানসার, হৃদরোগ, শ্বাসকষ্টসহ নানাবিধ প্রাণঘাতী রোগ সৃষ্টি হয়। ইসলাম ধর্মে নিজের শরীর ও জীবনের ক্ষতিসাধন করা নিষিদ্ধ হওয়ায় চিকিৎসাবিজ্ঞান ও ধর্মীয় উভয় দৃষ্টিকোণ থেকেই ধূমপান বর্জনীয় ও ক্ষতিকর।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে আবিরের বক্তব্যের মাধ্যমে পাঠ্যবইয়ে আলোচিত অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অন্তর্গত ‘মিথ্যাচার’ বা ‘মিথ্যা বলা’র বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছে।

    বাস্তব বা প্রকৃত সত্যের বিপরীত কোনো কথা ইচ্ছাকৃতভাবে প্রকাশ করাকে মিথ্যা বলা হয়। ইসলামি শরিয়তে মিথ্যা বলা কবিরা গুনাহ এবং এটি মুনাফিকের অন্যতম প্রধান লক্ষণ। সত্যবাদিতা মানুষকে মুক্তির পথে নিয়ে যায় আর মিথ্যা ধ্বংসের দিকে ধাবিত করে।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, আবির বন্ধু আদিবের সাথে একটি রেস্টুরেন্টে অবস্থান করছিল। কিন্তু তার অপর বন্ধু রফিক ফোনে তার অবস্থান জানতে চাইলে সে মিথ্যা বলে যে সে 'বাসায়' আছে। উপস্থিত সত্য গোপন করে অসত্য তথ্য দেওয়ার মাধ্যমে আবিরের চরিত্রে মিথ্যাচারের প্রকাশ ঘটেছে, যা ইসলামি নীতি ও নৈতিকতাবিরোধী।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    আবিরের প্রতি আদিবের পরামর্শ প্রদানের পদ্ধতি যথার্থ ছিল এবং অসৎ সঙ্গ ও অনৈতিক কাজের পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ।

    ইসলামে সৎ লোকের সাহচর্য গ্রহণ এবং অসৎ সঙ্গ ত্যাগ করার জোরালো নির্দেশ রয়েছে। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "মানুষ তার বন্ধুর রীতিনীতির অনুসারী হয়; কাজেই কার সাথে বন্ধুত্ব করা হচ্ছে তা যেন প্রত্যেকে বিবেচনা করে" (তিরমিজি ও আবু দাউদ)। আদিব বন্ধুসুলভ মনোভাব থেকেই আবিরকে বাজে ছেলেদের সাথে মেলামেশা ও অনৈতিক কাজে যুক্ত রফিকের সাহচর্য ত্যাগ করার উপদেশ দিয়েছে, যা 'সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজে নিষেধ' (আমর বিল মা'রুফ ওয়া নাহি আনিল মুনকার)-এর অন্তর্ভুক্ত।

    এ জাতীয় অসৎ সঙ্গ ও অনৈতিক কাজের পরিণতি নিম্নে তুলে ধরা হলো:
    ১. নৈতিক অবক্ষয়: অসৎ বন্ধুর প্রভাবে মানুষ ধীরে ধীরে মিথ্যা, প্রতারণা, মাদকাসক্তি ইত্যাদিতে জড়িয়ে পড়ে এবং নৈতিক চরিত্র হারায়।
    ২. সামাজিক লাঞ্ছনা: অনৈতিক কাজে লিপ্ত থাকার কারণে সমাজে ব্যক্তির সম্মান ও মর্যাদা বিনষ্ট হয় এবং পরিবারকেও হেয় প্রতিপন্ন হতে হয়।
    ৩. পার্থিব ক্ষতি ও বিপদ: অনৈতিক কাজ ও অপরাধমূলক সাহচর্য মানুষকে আইনি ঝামেলা ও শাস্তির মুখে ঠেলে দেয়।
    ৪. আখিরাতের ক্ষতি: অসৎ সঙ্গের কারণে মানুষ সত্য পথ থেকে বিচ্যুত হয়ে কবিরা গুনাহে লিপ্ত হয়, যা তাকে জাহান্নামের কঠিন শাস্তির উপযোগী করে তোলে।

    সুতরাং, আদিবের সতর্কতা প্রদান সম্পূর্ণ যৌক্তিক ছিল এবং অসৎ সঙ্গ ও অনৈতিক কাজ বর্জন না করলে এর পরিণতিতে ব্যক্তি ও সমাজের চরম বিপর্যয় ঘটে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন