ইসলাম শিক্ষা ১ম পত্র • Combined Board • ঢাকা, দিনাজপুর বোর্ড ২০২৩

ইসলাম শিক্ষা ১ম পত্র প্রশ্ন

নাসিরুদ্দীন একজন চাকরিজীবী। তার সংসারে অভাব নেই। তিনি বাড়িতে কোনো মেহমানের আসা-যাওয়া পছন্দ করেন না। নিলেও কারোর বাড়িতে যেতে চান না। এসব তিনি বাড়তি ঝামেলা মনে করেন। অপরদিকে তার স্ত্রী আমেনা বাড়িতে মেহমান আসলে খুশি হন। মন খুলে তাদের আপ্যায়ন করেন। বাড়িতে যা রান্না হয় তা পাশের বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। বিপদে তাদেরকে সহযোগিতা করেন।

  1. ক)

    আদল' অর্থ কী?

    (1)
  2. খ)

    "আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারী জান্নাতে প্রবেশ করবে না।"- হাদিসটি ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    নাসিরুদ্দীনের আচরণ কোন ধরনের? তোমার পাঠ্যপুস্তকের আলোকে ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    আমেনা কাদের অধিকার আদায় করেন? তার এই কর্মকাণ্ডে সমাজে কী প্রভাব পড়বে? মূল্যায়ন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    'আদল' (Adl) শব্দের অর্থ ন্যায়পরায়ণতা, সুবিচার, ইনসাফ বা ভারসাম্য।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    "আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারী জান্নাতে প্রবেশ করবে না"—এই হাদিসটির মাধ্যমে ইসলামে আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করার অপরিসীম গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে।

    ইসলামে আত্মীয়দের সাথে সদ্ভাব বজায় রাখা এবং তাদের হকের প্রতি খেয়াল রাখা অপরিহার্য দায়িত্ব। যে ব্যক্তি অহংকার, স্বার্থপরতা বা অন্য কোনো কারণে রক্ত ও পারিবারিক সম্পর্ক ছিন্ন করে, সে আল্লাহ ও তাঁর রাসুল (সা.)-এর আদেশ অমান্য করে। ইসলামি দৃষ্টিকোণ অনুযায়ী, আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষাকারীর জন্য রিযিক বৃদ্ধি ও দীর্ঘায়ুর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, পক্ষান্তরে সম্পর্কচ্ছেদকারীর জন্য রয়েছে পরকালে কঠিন শাস্তি ও জান্নাত থেকে বঞ্চিত হওয়ার হুঁশিয়ারি।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে নাসিরুদ্দীনের আচরণটি ইসলামি সমাজব্যবস্থায় নিন্দিত 'আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করা এবং মেহমানের অধিকার অস্বীকার করার' শামিল।

    ইসলামে মেহমানদারি করা এবং সমাজের মানুষ ও আত্মীয়স্বজনের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাত ও ইবাদতের অন্তর্ভুক্ত। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "যে ব্যক্তি আল্লাহ ও শেষ দিবসের প্রতি বিশ্বাস রাখে, সে যেন তার মেহমানকে সম্মান করে।" মেহমানকে ঝামেলা মনে করা এবং আতিথেয়তা এড়িয়ে চলা ইসলামি শিষ্টাচার পরিপন্থী।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, নাসিরুদ্দীনের সংসারে কোনো অভাব না থাকা সত্ত্বেও তিনি মেহমানের আগমন পছন্দ করেন না এবং নিজেও কারও বাড়ি যান না। তিনি মেহমানকে আপ্যায়ন ও সামাজিক যোগাযোগকে বাড়তি ঝামেলা মনে করেন। তাঁর এই আচরণ সামাজিক বিচ্ছিন্নতা ও চরম কৃপণতার বহিঃপ্রকাশ, যা ইসলাম নির্দেশিত ভ্রাতৃত্ববোধ ও মেহমানদারির বিধানের সম্পূর্ণ বিপরীত।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে আমেনা মেহমান ও প্রতিবেশীর অধিকার আদায় করেন। তাঁর এই কর্মকাণ্ড সমাজে ভ্রাতৃত্ববোধ, পারস্পরিক সহানুভূতি ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান বজায় রাখতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

    ইসলাম ধর্মে মেহমানদারি করা ঈমানের অন্যতম বহিঃপ্রকাশ। পাশাপাশি প্রতিবেশীর অধিকার আদায়ে বিশেষ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেশীর সঙ্গে খাবার বিনিময় করা, সুখে-দুঃখে পাশে দাঁড়ানো সমাজকে সুন্দর ও সুদৃঢ় বন্ধনে আবদ্ধ করে।

    আমেনা মেহমান আসলে খুশি মনে আপ্যায়ন করেন এবং বাড়িতে রান্না করা খাবার প্রতিবেশীর বাড়ি পাঠান ও বিপদে পাশে দাঁড়ান। তাঁর এই আচরণের ফলে সমাজে নিম্নলিখিত প্রভাব পড়বে:
    ১. পারস্পরিক ভালোবাসা, সৌহার্দ্য ও সামাজিক সংহতি বৃদ্ধি পাবে।
    ২. সমাজের অভাবী বা প্রতিবেশী বিপদে দ্রুত সহায়তা পাবে, ফলে সমাজে নিরাপত্তা ও শান্তির পরিবেশ প্রতিষ্ঠিত হবে।
    ৩. সামাজিক সম্পর্কের দূরত্ব ও হিংসা-বিদ্বেষ দূর হয়ে একতা ও ভ্রাতৃত্ব দৃঢ় হবে।

    সুতরাং বলা যায়, আমেনার এ ধরনের দায়িত্বশীল ও পরোপকারী কর্মকাণ্ড সমাজের সার্বিক ঐক্য ও কল্যাণে অপরিসীম ভূমিকা পালন করবে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন