যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২১

যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র প্রশ্ন

দৃশ্যকল্প-১: কিছু শার্ট হয় লাল জামাসুতরাং  কিছু লাল জামা হয় শার্ট ।দৃশ্যকল্প-২: সকল মহৎ ব্যক্তি হন পরোপকারী। সদানন্দ হন মহৎ ব্যক্তি ।সুতরাং সদানন্দ হন পরোপকারী।

  1. ক)

    অসরল আবর্তন কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    অবরোহ অনুমানে আশ্রয়বাক্য ও সিদ্ধান্তের সম্পর্ক অনিবার্য— ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    দৃশ্যকল্প-২ এ মধ্যপদ নির্ণয় করে সহানুমানে তার ভূমিকা ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    দৃশ্যকল্প-১ ও দৃশ্যকল্প-২ মধ্যে অবরোহ অনুমানগত পার্থক্য বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যে আবর্তনে আশ্রয়বাক্য ও সিদ্ধান্তের পরিমাণ ভিন্ন হয় (অর্থাৎ আশ্র‍য়বাক্য সার্বিক কিন্তু সিদ্ধান্ত বিশেষ হয়), তাকে অসরল বা সীমিত আবর্তন বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    অবরোহ অনুমানে সিদ্ধান্তটি এক বা একাধিক আশ্রয়বাক্য থেকে যৌক্তিক নিয়মের ভিত্তিতে অনিবার্যভাবে নিঃসৃত হয়। এখানে আশ্রয়বাক্যে যা ব্যক্ত বা অব্যক্তভাবে থাকে, সিদ্ধান্তে কেবল তারই পুনরাবৃত্তি বা স্পষ্টীকরণ ঘটে; আশ্রয়বাক্যকে অতিক্রম করে নতুন কোনো তথ্য সংযোজিত হয় না। ফলে আশ্রয়বাক্য সত্য হলে সিদ্ধান্ত অনিবার্যভাবেই সত্য হতে বাধ্য। তাই অবরোহ অনুমানে আশ্রয়বাক্য ও সিদ্ধান্তের সম্পর্ক অনিবার্য।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দৃশ্যকল্প-২ এ উপস্থাপিত সহানুমানটিতে মধ্যপদ (Middle Term) হলো 'মহৎ ব্যক্তি'।

    সহানুমানে মধ্যপদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ:
    ১. সেতুবন্ধনকারী ভূমিকা: মধ্যপদ উভয় আশ্রয়বাক্যে উপস্থিত থেকে প্রধান পদ (পরোপকারী) এবং অপ্রধান পদের (সদানন্দ) মধ্যে একটি যৌক্তিক সম্পর্ক বা সেতুবন্ধন স্থাপন করে।
    ২. সিদ্ধান্তে অনুপস্থিতি: মধ্যপদের কাজ কেবল আশ্রয়বাক্য দুটিতে অন্য পদ দুটির সম্পর্ক নির্ণয় করা। ফলে এটি সিদ্ধান্তে অনুপস্থিত থাকে এবং সফলভাবে পক্ষপদ ও সাধ্যপদের সম্বন্ধ প্রতিষ্ঠা করে সিদ্ধান্ত গঠনে সহায়তা করে।
    উদ্দীপকে 'মহৎ ব্যক্তি' পদটি প্রথম বাক্যে উদ্দেশ্যের স্থানে এবং দ্বিতীয় বাক্যে বিধেয়ের স্থানে অবস্থান করে 'সদানন্দ' এবং 'পরোপকারী' পদের মধ্যে অনিবার্য সম্পর্ক স্থাপন করেছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দৃশ্যকল্প-১ এবং দৃশ্যকল্প-২ যথাক্রমে অমাধ্যম এবং মাধ্যম অবরোহ অনুমানকে নির্দেশ করে। এদের মধ্যকার পার্থক্য নিম্নে বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. আশ্রয়বাক্যের সংখ্যা: দৃশ্যকল্প-১ এ কেবল একটিমাত্র আশ্রয়বাক্য ("কিছু শার্ট হয় লাল জামা") থেকে সরাসরি সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়েছে, যা আবর্তন রূপ অমাধ্যম অনুমান। অন্যদিকে, দৃশ্যকল্প-২ এ দুটি আশ্রয়বাক্যের পারস্পরিক সম্পর্কের ভিত্তিতে একটি সিদ্ধান্ত অনুমিত হয়েছে, যা সহানুমান রূপ মাধ্যম অনুমান।
    ২. মধ্যপদের উপস্থিতি: দৃশ্যকল্প-১ এ কোনো মধ্যপদের প্রয়োজন হয় না, সরাসরি উদ্দেশ্য ও বিধেয়ের স্থান পরিবর্তন করে সিদ্ধান্ত আসে। কিন্তু দৃশ্যকল্প-২ এ দুটি পদের সম্পর্ক দেখানোর জন্য তৃতীয় একটি পদ বা মধ্যপদের ('মহৎ ব্যক্তি') অনিবার্য উপস্থিতি রয়েছে।
    ৩. সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়ার জটিলতা: দৃশ্যকল্প-১ হলো সরল অবরোহ অনুমান, যেখানে আশ্রয়বাক্যের নিহিত সত্যকে সরাসরি ব্যক্ত করা হয়। অপরদিকে দৃশ্যকল্প-২ হলো তুলনামূলক জটিল প্রক্রিয়া, যেখানে দুটি ধারণার সার্বিকতা ও বিশেষত্বের সম্বন্ধ বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

    অতএব, দৃশ্যকল্প-১ একটি অমাধ্যম অবরোহ অনুমান এবং দৃশ্যকল্প-২ একটি মাধ্যম অবরোহ অনুমান।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন