হিন্দু ধর্ম • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০১৯

হিন্দু ধর্ম প্রশ্ন

সুশীল গুরুদেবের পরামর্শে নিয়মিত একটি আসন অনুশীলন করে। আসনটি অনুশীলনের সময় তার হাঁটু ও পায়ের পাতা জোড়া অবস্থায় থাকে। এ অবস্থায় তাকে কৃষিকাজে ব্যবহৃত একটি উপকরণের মতো দেখায়। এ আসনটির অন্যান্য নিয়মও সে অনুসরণ করে। কিন্তু গৌরব নিয়মিত একটি আসন অনুশীলন করায় সে আগের তুলনায় সুন্দরভাবে হাঁটতে পারে। রক্তে চর্বি জাতীয় পদার্থের পরিমাণও এখন প্রায় শূণ্যের কোঠায়। সে এখন আগের তুলনায় অনেক হাসি-খুশি থাকে।

  1. ক)

    স্তেয় কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    প্রত্যাহার বলতে কী বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    সুশীল কীভাবে আসনটি অনুশীলন করে? পাঠ্যের আলোকে বর্ণনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    গৌরবের অনুশীলনকৃত আসনটির প্রভাব বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    অপরের জিনিস না বলে অধিকার করাকে স্তেয় (চুরি) বলে।

  2. খ)

    বাহ্যিক বিষয়বস্তু থেকে ইন্দ্রিয়সমূহকে ভিতরের দিকে ফিরিয়ে নেওয়াকে প্রত্যাহার বলে। প্রত্যাহার অর্থ ফিরিয়ে নেওয়া। এটি অষ্টাঙ্গযোগের পঞ্চম ধাপ। দৃঢ়সংকল্প ও অভ্যাসের দ্বারা ইন্দ্রিয়গুলোকে অন্তর্মুখী করা যায়। ইন্দ্রিয়গুলো অন্তর্মুখী হলে চিত্তে বিষয়ের প্রতি আসক্তি নষ্ট হয়। তখন চিত্ত আরাধ্য বস্তুতে নিবিষ্ট হতে পারে।

  3. গ)

    সুশীলের অনুশীলনকৃত আসনটি হলাসন। 'হল' অর্থ লাঙ্গল, যা কৃষিকাজে ব্যবহৃত উপকরণ; এই আসনে দেহভঙ্গি লাঙ্গলের মতো দেখায় বলে নামটি হলাসন। উদ্দীপকে হাঁটু ও পায়ের পাতা জোড়া থাকার কথাও পাঠ্যবইয়ের বর্ণনার সঙ্গে মেলে।

    অনুশীলন পদ্ধতি: প্রথমে পা দুটো সোজা করে চিৎ হয়ে শুয়ে পড়তে হবে। উরু, হাঁটু ও পায়ের পাতা জোড়া থাকবে এবং হাত দুটো সোজা করে শরীরের দুই পাশে রাখতে হবে। এরপর নিঃশ্বাস ছাড়তে ছাড়তে পা দুটো জোড়া ও সোজা অবস্থায় আস্তে আস্তে উপরে তুলতে হবে এবং মাথার পেছনে যতদূর সম্ভব দূরে নিতে হবে, যেন পায়ের আঙুলগুলো মাটি স্পর্শ করে। শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক রেখে এই অবস্থায় ৩০ সেকেন্ড থাকতে হবে। এরপর আস্তে আস্তে পা নামিয়ে আগের অবস্থায় ফিরে গিয়ে ৩০ সেকেন্ড শবাসনে বিশ্রাম নিতে হবে। এভাবে আসনটি তিনবার অনুশীলন করতে হয়।

    সতর্কতা: যাদের আমাশয়, হৃদরোগ ও উচ্চ রক্তচাপ আছে এবং যাদের প্লীহা বা যকৃৎ অস্বাভাবিক বড়, তাদের এই আসন করা উচিত নয়।

    সুশীল গুরুদেবের পরামর্শ অনুযায়ী এই নিয়মগুলো মেনেই আসনটি অনুশীলন করে। যোগাসন যেহেতু গুরুর কাছ থেকে শিখতে হয়, তাই গুরুর পরামর্শে অনুশীলন করাই সঠিক পদ্ধতি।

  4. ঘ)

    গৌরবের অনুশীলনকৃত আসনটি বৃক্ষাসন। কারণ এই আসনের প্রভাবেই পায়ে জোর বাড়ে, চলাফেরার ক্ষমতা বাড়ে এবং রক্তে চর্বিজাতীয় পদার্থ জমা রোধ হয়। আসনে দেহ বৃক্ষের মতো স্থির দেখায় বলে এর নাম বৃক্ষাসন।

    ১. ভারসাম্য ও পায়ের শক্তি: বৃক্ষাসন একপায়ে দাঁড়িয়ে করতে হয় বলে শরীরের ভারসাম্য বজায় রাখার ক্ষমতা বাড়ে। পায়ের পেশির দৃঢ়তা ও স্থিতিস্থাপকতা বৃদ্ধি পায়, পায়ে জোর পাওয়া যায় এবং চলাফেরার ক্ষমতা বাড়ে। হাত-পা কাঁপা বা পা দুর্বল হওয়ার সমস্যায়ও এটি উপকারী।

    ২. দেহগঠন ও মেরুদণ্ড: এই আসনে ঊরুর সংযোগস্থলের স্থিতিস্থাপকতা বজায় থাকে, কোমর ও মেরুদণ্ডের শক্তি বাড়ে এবং হাত-পায়ের গঠন সুষ্ঠু ও সুন্দর হয়।

    ৩. রক্ত সঞ্চালন ও রোগ প্রতিরোধ: হাঁটু, কনুই, বগল ও স্নায়ুতন্ত্রে রক্ত সঞ্চালন বাড়ে এবং গ্রন্থিগুলো সবল ও নমনীয় হয়। পায়ের ব্যথায় উপকার পাওয়া যায় এবং পায়ে বাত হতে পারে না।

    ৪. কোলেস্টেরল ও চর্বি: রক্তে অত্যধিক কোলেস্টেরল থাকলে পায়ের ধমনীতে শক্ত হলদে চর্বিজাতীয় পদার্থ (আথেরোমা) জমে। বৃক্ষাসন নিয়মিত অনুশীলন করলে তা রোধ হয়, ফলে থ্রম্বোসিস হতে পারে না।

    ৫. মানসিক প্রভাব: আসনে শরীর ও মনের সমন্বয় ঘটে এবং একটি স্থির ও সুখকর ভঙ্গিতে অবস্থানের ফলে মানসিক ভারসাম্য সৃষ্টি হয়। উদ্দীপকে গৌরবের হাসি-খুশি থাকার পেছনে এই সুস্থ দেহ ও স্থির মনের ভূমিকা আছে।

    সুতরাং, উদ্দীপকে গৌরবের সুন্দরভাবে হাঁটতে পারা এবং রক্তে চর্বি কমে যাওয়া বৃক্ষাসনের প্রভাবকেই নির্দেশ করে; এই আসন দেহ ও মনকে সুস্থ রাখে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন