পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২১
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন
X একটি বড় ও পরিচিত রেস্টুরেন্ট। প্রতিদিন অনেক লোক সেখানে খাবার খায়। সম্প্রতি ভ্রাম্যমান আদালত রেস্টুরেন্টে অভিযান চালিয়ে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি পচা বাঁশি খাবার পায়, যা জনস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।
- ক)(1)
দুর্নীতি কী?
- খ)(2)
গ্রিন হাউস ইফেক্ট বলতে কি বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকে বর্ণিত ঘটনা কোন সমস্যাকে ইঙ্গিত করে? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লিখিত সমস্যা সমাধানে নাগরিক সমাজের ভূমিকা বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সাধারণ অর্থে নীতিবিরুদ্ধ বা নীতিভ্রষ্ট কাজ বা আচরণকে দুর্নীতি বলে। বিস্তৃত অর্থে, ব্যক্তিগত বা গোষ্ঠীগত স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে নিজের ওপর অর্পিত ক্ষমতা ও ক্ষমতার অপব্যবহারই হলো দুর্নীতি।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
গ্রিন হাউস ইফেক্ট হলো বায়ুমণ্ডলের নির্দিষ্ট কিছু গ্যাসের (যেমন—কার্বন ডাই-অক্সাইড, মিথেন, সিএফসি ইত্যাদি) চাদর দ্বারা পৃথিবীর বিকিরিত তাপ আটকে রেখে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা ক্রমাগত বৃদ্ধি করার প্রক্রিয়া।
বায়ুমণ্ডলে গ্রিন হাউস গ্যাসের মাত্রা অতিরিক্ত বেড়ে যাওয়ার কারণে সূর্য থেকে আসা উত্তাপ পুনরায় মহাশূন্যে ফিরে যেতে পারে না। ফলে পৃথিবীর সার্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেয়ে জলবায়ুর মারাত্মক পরিবর্তন ও পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত ঘটনাটি খাদ্যে ভেজাল ও অস্বাস্থ্যকর খাদ্য পরিবেশন সংক্রান্ত সামাজিক সমস্যাকে ইঙ্গিত করে।
মানুষের বেঁচে থাকার মৌলিক চাহিদার অন্যতম প্রধান উপাদান হলো খাদ্য। কিন্তু অধিক মুনাফা লাভের আশায় যখন কোনো খাদ্যদ্রব্যে ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ মিশ্রণ করা হয় কিংবা পচা, বাসি, নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর উপায়ে খাদ্য তৈরি বা পরিবেশন করা হয়, তখন তাকে খাদ্যে ভেজাল বলা হয়। এটি জনস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত হুমকিস্বরূপ এবং একটি গুরুতর সামাজিক অপরাধ।
উদ্দীপকের 'X' নামক রেস্টুরেন্টটিতে বিপুল সংখ্যক মানুষ খাবার খেলেও ভ্রাম্যমাণ আদালত সেখানে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি পচা ও বাসি খাবারের সন্ধান পান, যা মানবদেহের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। ব্যবসায়ীদের এমন অনৈতিক মুনাফালোভী কার্যক্রম আমাদের সমাজে বিদ্যমান খাদ্যে ভেজাল সমস্যারই প্রত্যক্ষ প্রতিফলন।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত খাদ্যে ভেজাল সমস্যা সমাধানে নাগরিক সমাজের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও কার্যকর।
নাগরিক সমাজ হলো সরকারের বাইরে অবস্থানকারী সচেতন ও সংগঠিত ব্যক্তিবর্গ এবং প্রতিষ্ঠান, যা সমাজের বিভিন্ন অনিয়ম ও সমস্যা দূরীকরণে সক্রিয় থাকে। খাদ্যে ভেজালের মতো মারাত্মক অপরাধ দমনে কেবল সরকারি আইন প্রয়োগই যথেষ্ট নয়, নাগরিক সমাজের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণও অপরিহার্য।
প্রথমত, নাগরিক সমাজ খাদ্য নিরাপত্তার গুরুত্ব সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করতে পারে। দ্বিতীয়ত, ভোক্তা অধিকার সংগঠনগুলোর (যেমন—ক্যাব) মাধ্যমে ভেজালবিরোধী প্রচার ও আন্দোলন গড়ে তুলতে পারে। তৃতীয়ত, কোনো রেস্টুরেন্ট বা প্রতিষ্ঠানে অস্বাস্থ্যকর বা ভেজাল খাবার প্রস্তুত হতে দেখলে স্থানীয় প্রশাসন ও ভ্রাম্যমাণ আদালতকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করতে পারে। চতুর্থত, গণমাধ্যমে লেখালেখি, সেমিনার ও গোলটেবিল বৈঠকের মাধ্যমে ভেজালকারী অসাধু ব্যবসায়ীদের সামাজিকভাবে বয়কট করার আহ্বান জানাতে পারে।
অতএব, একটি সুস্থ ও কর্মক্ষম জাতি গঠনে খাদ্যে ভেজালের অভিশাপ থেকে সমাজকে মুক্ত রাখতে সচেতন নাগরিক সমাজের জোরালো ভূমিকা পালন করা একান্ত আবশ্যক।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও