অর্থনীতি ২য় পত্র • সরকারি অর্থব্যবস্থা • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬
অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন
মি. 'A' প্রতি বছর শীত মৌসুমে পরিবার নিয়ে দেশের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান ভ্রমণ করে এবং অনেক কেনাকাটা করে। সে নিয়মিত আয়কর পরিশোধ করে। তবে চলতি বছর নিজস্ব মটর বাইক এবং জমি রেজিস্ট্রেশন বাবদ অনেক টাকা ব্যয় করেছে। ফলে চলতি বছর বার্ষিক ভ্রমণ বন্ধ রেখেছে। তবে তুলনামূলক কম ব্যয়ে নিজস্ব প্রতিষ্ঠানে বার্ষিক প্রীতিভোজে অংশগ্রহণ করেছে।
- ক)(1)
সরকারি ব্যয় কী?
- খ)(2)
সরকার ঋণ গ্রহণ করে কেন? ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকের আলোকে সরকারের আয়ের উৎসসমূহ বর্ণনা কর।
- ঘ)(4)
কর বৃদ্ধি ভোক্তার ভোগের উপর কি প্রভাব ফেলে তা মূল্যায়ন কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন, প্রশাসন পরিচালনা, জনকল্যাণ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষার্থে রাষ্ট্রের সরকার যে অর্থ ব্যয় করে, তাকে সরকারি ব্যয় বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সরকারের আয়ের তুলনায় ব্যয় বেশি হলে যে বাজেট ঘাটতি সৃষ্টি হয়, তা পূরণের জন্য সরকার ঋণ গ্রহণ করে। সাধারণত বড় বড় উন্নয়ন প্রকল্প (যেমন: সেতু, বিদ্যুৎ কেন্দ্র, মহাসড়ক নির্মাণ), প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা এবং জরুরি অর্থনৈতিক সংকট নিরসনে তাৎক্ষণিক বিপুল অর্থের প্রয়োজন হয়। শুধু কর ও কর-বহির্ভূত সাধারণ রাজস্ব দিয়ে এই ব্যয়ভার নির্বাহ করা সম্ভব হয় না বলেই সরকার অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক উৎস থেকে ঋণ গ্রহণ করে থাকে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে সরকারের আয়ের প্রধান দুটি উৎস—'কর রাজস্ব' এবং 'কর-বহির্ভূত রাজস্ব' প্রতিফলিত হয়েছে। নিচে তা আলোচনা করা হলো:
১. প্রত্যক্ষ কর (আয়কর): মি. 'A' নিয়মিত আয়কর পরিশোধ করেন। আয়কর হলো ব্যক্তির অর্জিত আয়ের ওপর সরাসরি আরোপিত প্রত্যক্ষ কর রাজস্ব, যা সরকারের আয়ের প্রধান ও স্থিতিশীল একটি উৎস।
২. কর-বহির্ভূত রাজস্ব (ফি ও রেজিস্ট্রেশন ব্যয়): উদ্দীপকে মি. 'A' তার মোটর বাইক ও জমি রেজিস্ট্রেশন বাবদ অর্থ ব্যয় করেন। সরকার কর্তৃক প্রদত্ত প্রশাসনিক ও আইনি সেবা বা নিবন্ধনের বিনিময়ে নাগরিকরা যে অর্থ প্রদান করে, তা সরকারের 'ফি' বা কর-বহির্ভূত আয়ের অন্তর্ভুক্ত।অতএব, উদ্দীপকে প্রত্যক্ষ কর (আয়কর) এবং বিভিন্ন সরকারি সেবা গ্রহণের ফি বাবদ প্রাপ্ত কর-বহির্ভূত রাজস্ব—এই দুটি উৎসকে নির্দেশ করা হয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কর বৃদ্ধি সরাসরি ভোক্তার কার্যকর আয় ও সামগ্রিক ভোগ ব্যয়ের ওপর ঋণাত্মক প্রভাব ফেলে। নিচে এর তাত্ত্বিক ও বাস্তবিক বিশ্লেষণ তুলে ধরা হলো:
১. প্রকৃত আয় বা ব্যয়যোগ্য আয় হ্রাস: সরকার যখন প্রত্যক্ষ কর (যেমন: আয়কর) বৃদ্ধি করে, তখন ভোক্তার ব্যয়যোগ্য আয় () কমে যায়। ফলে ভোক্তার দৈনন্দিন ও বিলাসজাত উভয় ধরনের দ্রব্য ক্রয়ের ক্ষমতা হ্রাস পায়। উদ্দীপকেও দেখা যায়, জমি ও বাইক রেজিস্ট্রেশন বাবদ বাড়তি অর্থ ব্যয় করায় মি. 'A' তার বার্ষিক ভ্রমণ বাতিল করতে বাধ্য হয়েছেন।
২. পরোক্ষ কর ও পণ্যমূল্য বৃদ্ধি: সরকার বিক্রয় কর, মূসক বা উৎপাদন শুল্ক বৃদ্ধি করলে পণ্যের দাম বেড়ে যায়। দাম বাড়লে চাহিদার বিধি অনুযায়ী ভোক্তার ভোগ হ্রাস পায়।
৩. ভোগের ধরন পরিবর্তন: কর বৃদ্ধির ফলে সীমিত আয়ের কারণে ভোক্তা আবশ্যকীয় পণ্য ক্রয় বজায় রাখলেও বিনোদন, বিলাসদ্রব্য কিংবা পর্যটনের মতো ঐচ্ছিক ভোগ সংকুচিত করে। উদ্দীপকে মি. 'A' পরিবার নিয়ে ভ্রমণ বন্ধ করে স্বল্প ব্যয়ে প্রতিষ্ঠানে প্রীতিভোজে অংশ নিয়ে ভোগ নিয়ন্ত্রণ করেছেন।সুতরাং, কর বৃদ্ধির ফলে ব্যয়যোগ্য আয় কমে যাওয়ার কারণে ভোক্তার প্রান্তিক ভোগ প্রবণতা অনুযায়ী সামগ্রিক ভোগ চাহিদা হ্রাস পায়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও