পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২৫
পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র প্রশ্ন
জনাব রহিম এই যৌথ পরিবারের প্রধান। পরিবারের সকল সিদ্ধান্ত তিনি সকলের মতামতের ভিত্তিতে নিয়ে থাকেন। ফলে তার পরিবারে শান্তি বিরাজ করে। অপরদিকে, জনাব করিম একটি প্রতিষ্ঠানের প্রধান। তাঁর প্রতিষ্ঠানে কয়েকজন পরিচালক ও অন্যান্য সদস্যরা আছেন। কিন্তু সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে তিনি কারও মতামত গ্রহণ করেন না।
- ক)(1)
'Liberty' কোন শব্দ থেকে এসেছে?
- খ)(2)
মূল্যবোধ বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
জনাব রহিমের কর্মকাণ্ডের সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন ধরনের সরকার ব্যবস্থার সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা করো। ৩
- ঘ)(4)
জনাব রহিম ও জনাব করিমের কর্মকাণ্ডের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ সরকার ব্যবস্থার মধ্যে কোনটিকে তুমি উত্তম মনে কর? যুক্তি দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'Liberty' শব্দটি লাতিন শব্দ 'Liber' থেকে এসেছে, যার অর্থ স্বাধীন বা মুক্ত।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মূল্যবোধ (Values) হলো সমাজ বা গোষ্ঠীর সেইসব কাঙ্ক্ষিত আচরণ, বিশ্বাস ও মানদণ্ড, যা মানুষের আচার-আচরণকে নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা করে এবং ভালো-মন্দ, ন্যায়-অন্যায় নির্ধারণের মাপকাঠি হিসেবে কাজ করে।
মূল্যবোধ মূলত মানুষের সামাজিক চেতনা ও নৈতিক বিশ্বাসের সমষ্টি। সততা, পরমতসহিষ্ণুতা, ন্যায়পরায়ণতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ—এগুলো সামাজিক মূল্যবোধের উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। মূল্যবোধ সমাজজীবনে শৃঙ্খলা ও ঐক্য বজায় রাখতে সহায়তা করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জনাব রহিমের কর্মকাণ্ডের সাথে পাঠ্যবইয়ের 'গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা' (Democracy)-র সাদৃশ্য রয়েছে।
গণতন্ত্র হলো এমন এক ব্যবস্থা যেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামতের ভিত্তিতে এবং সকলের অংশগ্রহণে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এতে পরমতসহিষ্ণুতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং সবার মতামত প্রদানের স্বাধীনতা নিশ্চিত থাকে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, জনাব রহিম যৌথ পরিবারের প্রধান হিসেবে পরিবারের সকল সদস্যের মতামতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। তিনি এককভাবে নিজের সিদ্ধান্ত কারো ওপর চাপিয়ে দেন না, বরং সকলের অংশগ্রহণকে প্রাধান্য দেন। এর ফলে পরিবারে শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় থাকে। গণতন্ত্রেও অনুরূপভাবে জনগণের বা দলের সকল সদস্যের মতামতকে মূল্যায়ন করে সম্মিলিতভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সুতরাং, জনাব রহিমের আচরণে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার বৈশিষ্ট্য প্রতিফলিত হয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে জনাব রহিমের কর্মকাণ্ড 'গণতান্ত্রিক' ব্যবস্থার সাথে এবং জনাব করিমের কর্মকাণ্ড 'স্বৈরতান্ত্রিক বা একনায়কতান্ত্রিক' ব্যবস্থার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। এই দুই ব্যবস্থার মধ্যে আমি জনাব রহিমের প্রতিনিধিত্বকারী 'গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা'-কে অধিক উত্তম মনে করি।
গণতন্ত্র উত্তম হওয়ার পেছনে যৌক্তিক কারণগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
১. মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও পরমতসহিষ্ণুতা: গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সকলের মতামত প্রকাশের অধিকার থাকে এবং অন্যের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করা হয়, যা জনাব রহিমের কর্মকাণ্ডে লক্ষ্য করা যায়। অন্যদিকে স্বৈরতন্ত্রে জনাব করিমের মতো একচ্ছত্র ক্ষমতা প্রয়োগ করা হয় এবং অধীনস্থদের মতামতের কোনো মূল্যায়ন থাকে না।
২. সাম্য ও ন্যায়বিচার: গণতন্ত্রে সকল নাগরিক বা সদস্য সমান মর্যাদা ভোগ করে। এতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা থাকে, যা বিরোধ বা অসন্তোষের ঝুঁকি কমায়।
৩. সিদ্ধান্ত গ্রহণে স্থায়িত্ব ও গ্রহণযোগ্যতা: আলোচনার ভিত্তিতে গৃহীত সিদ্ধান্ত সর্বজনীন রূপ পায় এবং সকলে তা আন্তরিকভাবে বাস্তবায়ন করতে সচেষ্ট হয়। ফলে প্রতিষ্ঠানে বা সমাজে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বিরাজ করে। কিন্তু স্বৈরতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ক্ষোভ ও হতাশা জন্ম নেয়, যা দীর্ঘমেয়াদে বিপর্যয় ডেকে আনে।
অতএব, সাম্য, স্বাধীনতা, পারস্পরিক সৌহার্দ্য এবং টেকসই শান্তির দৃষ্টিকোণ থেকে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা নিঃসন্দেহে একনায়কতান্ত্রিক বা স্বৈরতান্ত্রিক ব্যবস্থা অপেক্ষা বহুগুণে শ্রেয় ও উত্তম।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও