ভূগোল ২য় পত্র • Combined Board • ঢাকা, চট্টগ্রাম, যশোর, সিলেট বোর্ড ২০১৯

ভূগোল ২য় পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    সম্পদ কী?

    (1)
  2. খ)

    খনিজ এলাকায় পরিবেশ সংরক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে 'ক' চিহ্নিত স্থানের ইঙ্গিতকৃত খনিজটির বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে 'ক' ও 'খ' চিহ্নিত স্থানের ইঙ্গিতকৃত খনিজদ্বয়ের ব্যবহারিক গুরুত্ব বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যেসব বস্তু মানুষের অভাব মেটাতে পারে এবং যার নির্দিষ্ট উপযোগ, প্রাপ্যতা ও বিনিময় মূল্য রয়েছে, তাকে সম্পদ বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    খনিজ উত্তোলন ও প্রক্রিয়াকরণের ফলে পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয় বলে খনিজ এলাকায় পরিবেশ সংরক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    খনিজ নিষ্কাশনের সময় বনভূমি ধ্বংস, ভূগর্ভস্থ পানির দূষণ, ভূমিধস এবং বিষাক্ত ধোঁয়া ও গ্যাস নির্গমনের ফলে বায়ুদূষণ ঘটে। এর ফলে স্থানীয় বাস্তুতন্ত্র বিনষ্ট হয় এবং মানুষের স্বাস্থ্যের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। পরিবেশ সংরক্ষণ ও পরিকল্পিত টেকসই ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করা সম্ভব হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের মানচিত্রে 'ক' চিহ্নিত স্থানটি হলো বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের দিনাজপুর অঞ্চল (বড়পুকুরিয়া/মধ্যপাড়া), যা প্রধানত কয়লা (বা কঠিন শিলা) খনিজ ক্ষেত্রকে ইঙ্গিত করে। এখানে প্রধান জ্বালানি খনিজ হিসেবে কয়লার বৈশিষ্ট্য নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:

    ১. এটি পাললিক শিলার স্তরে স্তরে সঞ্চিত জৈব খনিজ জ্বালানি। মূলত কোটি কোটি বছর আগে উদ্ভিদের দেহাবশেষ ভূগর্ভস্থ তাপ ও চাপে রূপান্তরিত হয়ে কয়লায় পরিণত হয়েছে।
    ২. বাংলাদেশের দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়ার কয়লা অত্যন্ত উন্নত মানের (বিটুমিনাস জাতীয়), যাতে কার্বনের পরিমাণ বেশি এবং ছাই ও সালফারের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কম।
    ৩. এই কয়লার উচ্চ তাপন ক্ষমতা রয়েছে, ফলে এটি পোড়ালে প্রচুর তাপশক্তি উৎপন্ন হয় এবং এটি প্রধানত বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের মানচিত্রে 'ক' চিহ্নিত স্থানটি দিনাজপুর অঞ্চল (কয়লা) এবং 'খ' চিহ্নিত স্থানটি সিলেট অঞ্চল (প্রাকৃতিক গ্যাস)-কে নির্দেশ করে। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও ব্যবহারিক ক্ষেত্রে এ দুটি খনিজের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ:

    ১. 'ক' চিহ্নিত খনিজের (কয়লা) ব্যবহারিক গুরুত্ব:
    কয়লা একটি অন্যতম প্রধান জীবাশ্ম জ্বালানি। বড়পুকুরিয়ার কয়লা ব্যবহার করে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়, যা উত্তরাঞ্চলের বিদ্যুৎ চাহিদা মেটায়। এছাড়া ইটভাটা, বিভিন্ন কারখানা এবং ভারী শিল্পে জ্বালানি হিসেবে এর ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে।

    ২. 'খ' চিহ্নিত খনিজের (প্রাকৃতিক গ্যাস) ব্যবহারিক গুরুত্ব:
    সিলেটের হরিপুর, রশিদপুর, কৈলাশটিলা প্রভৃতি গ্যাসক্ষেত্র থেকে প্রাপ্ত প্রাকৃতিক গ্যাস বাংলাদেশের প্রধান বাণিজ্যিক শক্তির উৎস। দেশে উৎপাদিত সিংহভাগ বিদ্যুৎ তৈরিতে গ্যাসচালিত বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো প্রধান ভূমিকা পালন করে। এছাড়া ইউরিয়া সার উৎপাদন, সিএনজি (পরিবহনের জ্বালানি) হিসেবে এবং গৃহস্থালি ও কলকারখানার জ্বালানি হিসেবে প্রাকৃতিক গ্যাসের অবদান অপরিসীম।

    পরিশেষে, কয়লা ও প্রাকৃতিক গ্যাস উভয়ই দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্পায়ন এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন