ভূগোল ২য় পত্র • Combined Board • ঢাকা, চট্টগ্রাম, যশোর, সিলেট বোর্ড ২০১৯
ভূগোল ২য় পত্র প্রশ্ন
বাংলাদেশের দ্বিতীয় প্রধান খাদ্যশস্যটির উৎপাদনে শীর্ষে। রয়েছে চীন। শীতকালীন ও বসন্তকালীন ফসল হিসেবে পরিচিত কৃষিপণ্যটি যুক্তরাষ্ট্র সবচেয়ে বেশি রপ্তানি করে থাকে।
- ক)(1)
পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম পাট উৎপাদনকারী দেশের নাম লেখো।
- খ)(2)
বাংলাদেশের সিলেট অঞ্চলে কেন সবচেয়ে বেশি চা উৎপাদন হয়?
- গ)(3)
উদ্দীপকে ইঙ্গিতপূর্ণ শস্য চাষের ভৌগোলিক নিয়ামক ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে দেশদ্বয়ে উৎপাদিত শস্যটির বৈদেশিক বাণিজ্যের স্বরূপ বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম পাট উৎপাদনকারী দেশ হলো বাংলাদেশ (প্রথম স্থানে রয়েছে ভারত)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সিলেট অঞ্চলে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়, তবে এখানকার ভূপ্রকৃতি পাহাড়ি বা ঢালু হওয়ায় গাছের গোড়ায় পানি জমে থাকে না। এছাড়া এখানকার উর্বর অম্লধর্মী দোআঁশ মাটি এবং আর্দ্র ও উষ্ণ জলবায়ু চা চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। পানি নিষ্কাশনের সুবিধা এবং অনুকূল প্রাকৃতিক পরিবেশের কারণেই বাংলাদেশের সিলেট অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি চা উৎপাদিত হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে ইঙ্গিতপূর্ণ শস্যটি হলো গম। গম চাষের প্রধান ভৌগোলিক নিয়ামকসমূহ নিম্নরূপ:
১. জলবায়ু:
- তাপমাত্রা: গম চাষের প্রাথমিক অবস্থায় ১৬° থেকে ১৮° সেলসিয়াস এবং পাকার সময় ২০° থেকে ২৫° সেলসিয়াস তাপমাত্রার প্রয়োজন হয়।
- বৃষ্টিপাত: গম চাষের জন্য পরিমিত বৃষ্টিপাত (৫০ থেকে ১০০ সেমি) দরকার। তবে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত বা জলাবদ্ধতা গমের জন্য ক্ষতিকর।
- সূর্যালোক: ফসল পাকার সময় রৌদ্রোজ্জ্বল ও শুষ্ক আবহাওয়া প্রয়োজন।
২. ভূপ্রকৃতি: গম চাষের জন্য মৃদু ঢালু বা সমতল ভূমি উপযোগী, যাতে জমিতে পানি সহজে জমে না থাকে এবং পানি নিষ্কাশনের সুব্যবস্থা থাকে।
৩. মৃত্তিকা: উর্বর দোআঁশ, বেলে-দোআঁশ এবং হালকা এঁটেল মাটি গম চাষের জন্য সবচেয়ে উপযোগী। মাটিতে নাইট্রোজেন ও হিউমাসের পর্যাপ্ত উপস্থিতি ফলন বাড়ায়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত দেশ দুটি হলো চীন ও যুক্তরাষ্ট্র এবং ফসলটি হলো গম। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে গম একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ খাদ্যশস্য। নিম্নে দেশদ্বয়ের গম বাণিজ্যের স্বরূপ বিশ্লেষণ করা হলো:
১. চীনের গম বাণিজ্য:
চীন বিশ্বে গম উৎপাদনে প্রথম স্থান অধিকার করলেও দেশটির বিশাল জনসংখ্যার কারণে অভ্যন্তরীণ চাহিদা অত্যন্ত বেশি। উৎপাদিত গমের প্রায় সম্পূর্ণটাই স্থানীয় বাজারে খাদ্য ও পশুখাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ফলে উৎপাদনে শীর্ষে থাকা সত্ত্বেও চীন গম রপ্তানি করতে পারে না, বরং অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে ও জাতীয় মজুত বজায় রাখতে প্রায়শই অস্ট্রেলিয়া, কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিপুল পরিমাণ গম আমদানি করে থাকে।২. যুক্তরাষ্ট্রের গম বাণিজ্য:
যুক্তরাষ্ট্র আধুনিক ও যান্ত্রিক পদ্ধতিতে ব্যাপকভাবে গম উৎপাদন করে। দেশটির জনসংখ্যা চীনের তুলনায় কম হওয়ায় অভ্যন্তরীণ চাহিদার চেয়ে উদ্বৃত্ত উৎপাদনের পরিমাণ অনেক বেশি থাকে। ফলে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের অন্যতম প্রধান শীর্ষ গম রপ্তানিকারক দেশ। দেশটি বিশ্ববাজারে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ গম রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে এবং আন্তর্জাতিক গম বাণিজ্যের নিয়ন্ত্রণ ও দাম নির্ধারণে বড় ভূমিকা পালন করে।পরিশেষে, দেখা যায় যে উৎপাদন ক্ষেত্রে চীন শীর্ষে অবস্থান করে আমদানিকারকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র পর্যাপ্ত উদ্বৃত্ত থাকায় প্রধান রপ্তানিকারক হিসেবে বিশ্ববাজারে গমের বৈদেশিক বাণিজ্যে নেতৃত্ব দেয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও