ভূগোল ২য় পত্র • Combined Board • ঢাকা, চট্টগ্রাম, যশোর, সিলেট বোর্ড ২০১৯
ভূগোল ২য় পত্র প্রশ্ন
বাংলাদেশে এক সময় গৃহস্থালির রান্নার কাজে জ্বালানি হিসেবে প্রচুর গাছপালা ব্যবহৃত হতো। বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রেই। গাছপালার পরিবর্তে একটি খনিজ ব্যবহৃত হচ্ছে। ফলে একদিকে যেমন বনজ সম্পদ রক্ষা পেয়ে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা পাচ্ছে অন্যদিকে তেমনি কালো ধোঁয়ার হাত থেকে বায়ু দূষণ রোধ হচ্ছে।
- ক)(1)
বায়ুদূষণের একটি উৎসের নাম লেখো।
- খ)(2)
দরিদ্রতা অর্থনৈতিক দূষণের ফল- ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত খনিজের বাংলাদেশে ভৌগোলিক অবস্থান ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে শেষ বাক্যের তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বায়ুদূষণের একটি প্রধান উৎস হলো যানবাহন ও কলকারখানা থেকে নির্গত কালো ধোঁয়া।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দরিদ্রতা অর্থনৈতিক দূষণের একটি প্রত্যক্ষ ফল। অর্থনৈতিক ভারসাম্যহীনতা, সম্পদের অসম বণ্টন, বেকারত্ব এবং যথাযথ কর্মসংস্থানের অভাবে মানুষ মৌলিক চাহিদা মেটাতে ব্যর্থ হয়। এই অর্থনৈতিক অচলাবস্থা বা দূষণের ফলে সমাজে দারিদ্র্য স্থায়ী রূপ ধারণ করে, যা মানুষের জীবনযাত্রার মান হ্রাস করে এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নকে ব্যাহত করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে রান্নার জ্বালানি হিসেবে গাছপালার বিকল্প হিসেবে ইঙ্গিতকৃত খনিজটি হলো 'প্রাকৃতিক গ্যাস'।
বাংলাদেশে প্রাকৃতিক গ্যাসের ভৌগোলিক অবস্থান প্রধানত দেশের পূর্বাঞ্চলে কেন্দ্রীভূত। উল্লেখযোগ্য গ্যাসক্ষেত্রগুলো সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা এবং নরসিংদী জেলায় অবস্থিত। তিতাস, বাখরাবাদ, কৈলাশটিলা, রশিদপুর, বিবিয়ানা ও জালালাবাদ হলো দেশের প্রধান প্রাকৃতিক গ্যাসক্ষেত্র। এছাড়াও বঙ্গোপসাগরের অগভীর সমুদ্রাঞ্চলেও (যেমন সাঙ্গু) প্রাকৃতিক গ্যাসের উপস্থিতি রয়েছে। ভূ-তাত্ত্বিক গঠন অনুযায়ী বাংলাদেশের পূর্ব ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের টারশিয়ারি যুগের শিলাস্তরে অধিকাংশ প্রাকৃতিক গ্যাস সঞ্চিত রয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের শেষ বাক্যটি হলো—"ফলে একদিকে যেমন বনজ সম্পদ রক্ষা পেয়ে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা পাচ্ছে অন্যদিকে তেমনি কালো ধোঁয়ার হাত থেকে বায়ু দূষণ রোধ হচ্ছে"। বাক্যটির তাৎপর্য পরিবেশ সংরক্ষণ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী।
১. বনজ সম্পদ রক্ষা: রান্নার কাজে কাঠের ওপর নির্ভরশীলতা কমার ফলে নির্বিচারে গাছপালা কাটা বন্ধ হয়েছে, যা বনাঞ্চল বৃদ্ধি এবং বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করেছে।
২. বায়ুদূষণ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি হ্রাস: কাঠ ও জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ালে প্রচুর কার্বন ডাই-অক্সাইড, কার্বন মনোক্সাইড ও ঝুলকালি নির্গত হয়, যা ফুসফুসের রোগ ও বায়ুদূষণ সৃষ্টি করে। প্রাকৃতিক গ্যাস তুলনামূলকভাবে একটি পরিষ্কার ও দক্ষ জ্বালানি হওয়ায় এটি ধোঁয়াহীন ও বিষাক্ত গ্যাস কম নিঃসরণ করে।সুতরাং, জ্বালানি হিসেবে প্রাকৃতিক গ্যাসের ব্যবহার একই সাথে বনভূমি ধ্বংস রোধ এবং ঘরের ভেতরের ও বাইরের বায়ুদূষণ প্রতিরোধে যুগান্তকারী অবদান রাখছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও