পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০১৭
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন
রফিকের দেশে রাষ্ট্রীয় কার্যাবলিকে কেন্দ্রীয় সরকার ও প্রাদেশিক সরকারের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। প্রাদেশিক সরকার তার ওপর অর্পিত কার্যাবলি পরিচালনার ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ স্বাধীন। সেখানে রাষ্ট্রীয় সকল ক্ষেত্রে সংবিধানের প্রাধান্য বিদ্যমান। দ্বি-কক্ষবিশিষ্ট আইনসভার উচ্চকক্ষ প্রদেশসমূহের প্রতিনিধিত্ব করে।
- ক)(1)
ব্রিটিশ ভারতের সর্বশেষ গভর্নর জেনারেল কে ছিলেন?
- খ)(2)
দ্বৈতশাসন বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকে বর্ণিত শাসন ব্যবস্থা কোন ধরনের? ব্রিটিশ ভারতের কোন আইনে এ ধরনের শাসন ব্যবস্থার উল্লেখ আছে? ব্যাখ্যা কর ।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে বর্ণিত আইনের কার্যকারিতা বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ব্রিটিশ ভারতের সর্বশেষ গভর্নর জেনারেল (ও ভাইসরয়) ছিলেন লর্ড মাউন্টব্যাটেন।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দ্বৈতশাসন বলতে এমন এক শাসন ব্যবস্থাকে বোঝায় যেখানে একই শাসন কাঠামোতে দুটি পৃথক কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে শাসনকাজ পরিচালিত হয়। ১৯১৯ সালের ভারত শাসন আইনে ব্রিটিশ ভারতে প্রদেশগুলোতে শাসনব্যবস্থাকে 'সংরক্ষিত' এবং 'হস্তান্তরিত'—এই দুই ভাগে বিভক্ত করে গভর্নর ও তাঁর নির্বাহী পরিষদ এবং ভারতীয় মন্ত্রীদের মধ্যে দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছিল, যা দ্বৈতশাসন ব্যবস্থা নামে পরিচিত।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত শাসন ব্যবস্থাটি হলো 'যুক্তরাষ্ট্রীয় শাসন ব্যবস্থা'। ব্রিটিশ ভারতের '১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনে' এ ধরনের শাসন ব্যবস্থার উল্লেখ আছে।
যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকার এমন এক ব্যবস্থা যেখানে সংবিধানের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা কেন্দ্র এবং প্রদেশের মধ্যে বণ্টিত থাকে, সেখানে সংবিধানের সর্বোচ্চ প্রাধান্য থাকে এবং সাধারণত দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভা থাকে।
উদ্দীপকে উল্লেখিত রফিকের দেশে রাষ্ট্রীয় কার্যাবলি কেন্দ্র ও প্রদেশের মধ্যে বণ্টন, প্রদেশের স্বাধীনভাবে কাজ পরিচালনা, সংবিধানের প্রাধান্য এবং দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভার উচ্চকক্ষে প্রদেশের প্রতিনিধিত্ব বিদ্যমান। এই বৈশিষ্ট্যগুলো ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনের মাধ্যমে ব্রিটিশ ভারতে প্রস্তাবিত নিখিল ভারত যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার প্রতিচ্ছবি। ১৯৩৫ সালের আইনে ক্ষমতাকে কেন্দ্রীয়, প্রাদেশিক ও যুগ্ম—এই তিন তালিকায় ভাগ করা হয়েছিল এবং প্রদেশগুলোতে স্বায়ত্তশাসন প্রদান করা হয়েছিল। সুতরাং, এটি ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনের যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত আইনটি হলো ব্রিটিশ ভারতের ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইন। রাজনৈতিক ও শাসনতান্ত্রিক দৃষ্টিকোণ থেকে এই আইনের কার্যকারিতা ও ফলাফল নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. নিখিল ভারত যুক্তরাষ্ট্র গঠনের অকার্যকারিতা: ১৯৩৫ সালের আইনে একটি নিখিল ভারত যুক্তরাষ্ট্র গঠনের প্রস্তাব রাখা হলেও দেশীয় রাজ্যসমূহের অনীহার কারণে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্রীয় পরিকল্পনাটি কখনোই কার্যকর হতে পারেনি।
২. প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসনের আংশিক কার্যকারিতা: ১৯৩৭ সালে এই আইনের অধীনে প্রাদেশিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় এবং নির্বাচিত মন্ত্রিসভা গঠিত হয়। তবে গভর্নরের হাতে ব্যাপক স্বেচ্ছাধীন ও বিশেষ ক্ষমতা থাকায় মন্ত্রিসভার স্বাধীনতা সংকুচিত হয়, ফলে প্রকৃত স্বায়ত্তশাসন অর্জিত হয়নি।
৩. সাম্প্রদায়িক বিভেদ বৃদ্ধি: পৃথক নির্বাচন ব্যবস্থার ধারাবাহিকতা বজায় থাকায় হিন্দু-মুসলিম রাজনৈতিক দূরত্ব আরও বৃদ্ধি পায়, যার চূড়ান্ত পরিণতি ছিল ১৯৪৭ সালের ভারত বিভাজন।
৪. সাংবিধানিক ভিত্তি প্রদান: সম্পূর্ণ কার্যকর না হলেও ভারত ও পাকিস্তানের পরবর্তী শাসনতান্ত্রিক কাঠামোতে এই আইনের গভীর প্রভাব ছিল। উভয় দেশের স্বাধীনতা-পরবর্তী অন্তর্বর্তীকালীন সংবিধান এবং মূল সংবিধান রচনার ক্ষেত্রে এই আইনের অধিকাংশ ধারা কাঠামোগত ভিত্তি হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
অতএব, ১৯৩৫ সালের আইনটি রাজনৈতিক প্রত্যাশা পুরোপুরি পূরণ করতে না পারলেও এটি ভারতীয় উপমহাদেশের সাংবিধানিক ইতিহাসে একটি অত্যন্ত কার্যকর ও প্রভাব বিস্তারকারী দলিল ছিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও