‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২৫

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন

রহিম একটি দেশের রাজনৈতিক নেতা। তিনি মানুষের কল্যাণের জন্য কাজ করেন। তিনি তাঁর জীবনে গণতান্ত্রিক আদর্শের ও নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতির উপর আস্থা রাখতেন এবং উগ্র, দুর্নীতিবাজ ও নাশকতামূলক রাজনীতির বিরুদ্ধে থাকতেন। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য আজীবন তিনি সংগ্রাম করেন এবং বৈরুতে একটি হোটেলে নিঃসঙ্গ অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।

  1. ক)

    বিশ্বায়ন কী?

    (1)
  2. খ)

    মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীকে মজলুম জননেতা বলা হয় কেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের সাথে পঠিত তোমার কোন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের মিল আছে ? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের বর্ণিত নেতার অবদান বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বিশ্বায়ন হলো বিশ্বব্যাপী অর্থনীতি, রাজনীতি, সংস্কৃতি ও প্রযুক্তির পারস্পরিক সংযোগ, নির্ভরতা এবং অবাধ প্রবাহের একটি আধুনিক প্রক্রিয়া।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী আজীবন শোষিত, বঞ্চিত, নিপীড়িত ও দরিদ্র মেহনতি মানুষের (যাদের আরবিতে 'মজলুম' বলা হয়) অধিকার আদায়ের জন্য আপসহীন সংগ্রাম করেছিলেন বলে তাঁকে 'মজলুম জননেতা' বলা হয়। তিনি কৃষক-শ্রমিকদের পক্ষে জমিদার ও ঔপনিবেশিক শক্তির বিরুদ্ধে আজীবন আন্দোলন করে গেছেন।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের সাথে আমাদের পঠিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর মিল রয়েছে।

    হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ছিলেন নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতি ও উদার সংসদীয় গণতন্ত্রের একনিষ্ঠ সমর্থক। তিনি কখনো উগ্র বা সহিংস রাজনীতি সমর্থন করতেন না এবং দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য অবিরাম সংগ্রাম করেছেন। উদ্দীপকে উল্লেখিত নেতাও ঠিক তেমনি গণতান্ত্রিক আদর্শের প্রতীক এবং বৈরুতের একটি হোটেলে নিঃসঙ্গ অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।

    বাস্তবেও হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী আইয়ুব খানের সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক আন্দোলন পরিচালনা করতে গিয়ে দেশত্যাগে বাধ্য হন এবং ১৯৬৩ সালের ৫ ডিসেম্বর লেবাননের রাজধানী বৈরুতের 'হোটেল ফিনেসিয়া'-তে নিঃসঙ্গ অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। তাই উদ্দীপকের নেতার সঙ্গে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর পূর্ণ মিল রয়েছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বর্ণিত নেতা হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী উপমহাদেশ ও তৎকালীন পাকিস্তানের রাজনৈতিক অঙ্গনে গণতন্ত্রের মানসপুত্র হিসেবে স্মরণীয় অবদান রেখেছেন।

    ১. গণতন্ত্রের বিকাশ ও নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতি: সোহরাওয়ার্দী আজীবন নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতির চর্চা করেছেন। তিনি পাকিস্তানের সামরিক স্বৈরাচার ও অগণতান্ত্রিক শাসনের বিরুদ্ধে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলন পরিচালনা করেন।

    ২. যুক্তফ্রন্ট গঠন ও ১৯৫৪ সালের নির্বাচন: ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে মুসলিম লীগ সরকারকে উৎখাত করার জন্য শের-এ-বাংলা এ. কে. ফজলুল হক ও মওলানা ভাসানীর সাথে মিলে তিনি যুক্তফ্রন্ট গঠনে নেতৃত্ব দেন, যা ছিল পূর্ব বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে এক বিশাল মাইলফলক।

    ৩. আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠা ও নেতৃত্ব: তিনি আওয়ামী লীগকে একটি অসাম্প্রদায়িক ও আধুনিক গণতান্ত্রিক দল হিসেবে গড়ে তুলতে অসামান্য ভূমিকা রাখেন।

    ৪. সংবিধান প্রণয়ন ও প্রধানমন্ত্রিত্ব: ১৯৫৬ সালে পাকিস্তানের দ্বিতীয় প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে তিনি দেশের প্রথম সংবিধান প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন এবং সেখানে পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসন ও অর্থনৈতিক বৈষম্য নিরসনের চেষ্টা করেন।

    সুতরাং, তিনি ছিলেন এক নির্ভীক, প্রজ্ঞাবান রাজনীতিবিদ যাঁর সমগ্র রাজনৈতিক জীবন ছিল জনগণের নাগরিক অধিকার ও সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য নিবেদিত।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন