কৃষি শিক্ষা ১ম পত্র • Combined Board • রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, বরিশাল বোর্ড ২০১৮

কৃষি শিক্ষা ১ম পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    জলবায়ু কী?

    (1)
  2. খ)

    গাছের পুষ্পায়নে আলোর প্রভাব ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের চিত্রটি প্রাকৃতিক কোন অবস্থা নির্দেশ করে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের অবস্থাটি মোকাবেলায় করণীয় দিকসমূহ বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কোনো একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলের সাধারণত ২০-৩০ বা ৩০-৪০ বছরের আবহাওয়ার গড় বা সামগ্রিক অবস্থাকে জলবায়ু বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্ভিদের ফুল ফোটা বা পুষ্পায়নের ওপর দিবালোকের ব্যাপ্তিকালের প্রভাবকে আলোকপর্যাবৃত্তি (Photoperiodism) বলে। আলোর স্থায়িত্বকাল উদ্ভিদের ফুল উৎপাদনে হরমোন সংশ্লেষণ ও শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করে। দিবালোকের দৈর্ঘ্যের ওপর ভিত্তি করে উদ্ভিদকে হ্রস্বদিবা উদ্ভিদ (যেমন- রোপা আমন), দীর্ঘদিবা উদ্ভিদ (যেমন- পাট, আউশ ধান) এবং নিরপেক্ষদিবা উদ্ভিদ (যেমন- টমেটো, সূর্যমুখী)-এ শ্রেণিবিন্যাস করা হয়। পর্যাপ্ত বা নির্দিষ্ট দৈর্ঘ্যের আলো না পেলে উদ্ভিদে সঠিক সময়ে পুষ্পায়ন ঘটে না।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের চিত্রটি একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ, অর্থাৎ 'বন্যা' (Flood) পরিস্থিতিকে নির্দেশ করে।

    প্রাকৃতিক বা কৃত্রিম কারণে নদ-নদী, খাল-বিল ও সমুদ্রের পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিস্তীর্ণ সমতল ভূমি প্লাবিত হয়ে স্বাভাবিক জনজীবন ও কৃষিকাজ ব্যাহত হলে তাকে বন্যা বলে। উদ্দীপকে দেখা যাচ্ছে, প্রবল পানির তোড়ে ঘরবাড়ি অর্ধেক ডুবে গেছে এবং কৃষকের গৃহপালিত গবাদিপশু (গরু) পানিতে ভেসে বা সাঁতরে যাচ্ছে। চারদিকের মাঠঘাট ও চারণভূমি পানিতে নিমজ্জিত। এটি স্পষ্টতই একটি ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির চিত্র, যা কৃষিজ ফসল, গবাদিপশু এবং মানবজীবনের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের চিত্রটিতে নির্দেশিত বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় কৃষি ও সামগ্রিক ব্যবস্থাপনায় করণীয় দিকসমূহ নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. বন্যা সহনশীল ফসলের জাত চাষ: আকস্মিক বা দীর্ঘমেয়াদী বন্যা মোকাবেলায় জলমগ্নতা সহনশীল ধানের জাত যেমন- ব্রি ধান৫১, ব্রি ধান৫২ এবং বিনা ধান১১ চাষ করা।
    ২. নাবি জাত ও বিকল্প ফসল উৎপাদন: বন্যার পানি নেমে যাওয়ার সাথে সাথে নাবি জাতের আমন ধান (যেমন- বিআর ২২, বিআর ২৩) বা দ্রুত বর্ধনশীল শাকসবজি ও ডালজাতীয় ফসল আবাদ করা।
    ৩. ভাসমান বীজতলা ও চারা সংরক্ষণ: বন্যার পানিতে ভাসমান কলার ভেলা বা কচুরিপানার স্তূপে ভাসমান বীজতলা তৈরি করে চারার সংকট দূর করা।
    ৪. গবাদিপশুর নিরাপত্তা ও খাদ্য ব্যবস্থাপনা: বন্যাকালীন সময়ে গবাদিপশুকে কোনো উঁচু স্থানে বা আশ্রয়কেন্দ্রে স্থানান্তর করা। শুকনো খড়, দানাদার খাদ্য ও ইউরিয়া মোলাসেস স্ট্র (UMS) আগে থেকেই সংরক্ষণ করা এবং পশুকে বিশুদ্ধ পানি ও নিয়মিত কৃমিনাশক প্রদান করা।
    ৫. মৎস্য খামারের সুরক্ষা: পুকুরের পাড় উঁচু করা এবং জাল দিয়ে ঘিরে রাখা যাতে বানের পানিতে মাছ ভেসে না যায়।
    ৬. বাঁধ নির্মাণ ও পানি নিষ্কাশন: নদীভাঙন রোধে মজবুত বাঁধ নির্মাণ এবং বন্যা পরবর্তী সময়ে জমি থেকে দ্রুত অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশনের ড্রেনেজ ব্যবস্থা সচল রাখা।

    সঠিক পূর্বপ্রস্তুতি, সময়োপযোগী অভিযোজন কৌশল এবং দুর্যোগ-পরবর্তী পুনর্বাসন কার্যক্রমের মাধ্যমে বন্যার ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনা সম্ভব।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন