ইতিহাস ২য় পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০১৫
ইতিহাস ২য় পত্র প্রশ্ন
গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় একাধিক দল ও মতের অংশগ্রহণ থাকে। বিরোধী দলের যৌক্তিক সমালোচনা, পরামর্শ নিয়ে সরকারি দল সুষ্ঠুভাবে দেশকে শাসন করতে পারে। শক্তিশালী বিরোধী দলের অভাবে স্বৈর-শাসনের উদ্ভব হতে পারে। সেচ্ছাচারীভাবে তারা যে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারে। ফলে যে কোনো ভুল সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হতে পারে।
- ক)(1)
নিকোলাই চসেস্কু কে ছিলেন?
- খ)(2)
পেরেস্ত্রাইকা বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকের ন্যায় সোভিয়েত ইউনিয়ন পতনের পর বিশ্ব রাজনীতির কি পরিবর্তন লক্ষ করা যায়? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
পরিবর্তনটি আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন শঙ্কা তৈরি করেছে— মতামত দাও ।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
নিকোলাই চসেস্কু ছিলেন রোমানিয়ার কমিউনিস্ট নেতা ও সাবেক স্বৈরশাসক (রাষ্ট্রপ্রধান)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'পেরেস্ত্রাইকা' (Perestroika) একটি রুশ শব্দ, যার অর্থ 'পুনর্গঠন'। সোভিয়েত ইউনিয়নের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট মিখাইল গর্বাচেভ ১৯৮০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে স্থবির কমিউনিস্ট শাসনব্যবস্থা ও ভঙ্গুর অর্থনীতিকে সংস্কারের লক্ষ্যে যে পুনর্গঠনমূলক নীতিমালা গ্রহণ করেন, তা ইতিহাসে 'পেরেস্ত্রাইকা' নামে পরিচিত। এর মূল লক্ষ্য ছিল সোভিয়েত অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক কাঠামোকে বিকেন্দ্রীভূত করে গতিশীলতা ফিরিয়ে আনা।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে যেমন একটি শক্তিশালী বিরোধী শক্তির অভাবে একক শক্তির স্বেচ্ছাচারিতা ও একাধিপত্যের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, ঠিক তেমনি সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর বিশ্ব রাজনীতিতে দ্বিমেরুকেন্দ্রিক ব্যবস্থার অবসান ঘটে এবং একমেরুকেন্দ্রিক (Unipolar) বিশ্বব্যবস্থার সূচনা হয়।
সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের আগে পর্যন্ত বিশ্বরাজনীতি ছিল স্নায়ুযুদ্ধকালীন দ্বিমেরুকেন্দ্রিক—যেখানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং সোভিয়েত ইউনিয়ন একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী ও ভারসাম্য রক্ষাকারী শক্তি ছিল। কিন্তু ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের ফলে সেই ভারসাম্য ভেঙে যায়। আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একমাত্র একক পরাশক্তি (Superpower) হিসেবে আবির্ভূত হয়। এর ফলে আন্তর্জাতিক কূটনীতি, অর্থনীতি এবং সামরিক হস্তক্ষেপে মার্কিন একক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়, যা উদ্দীপকের শক্তিশালী বিরোধী দলের অনুপস্থিতিতে একক শক্তির স্বেচ্ছাচারিতার ধারণার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর সৃষ্ট একমেরুকেন্দ্রিক বিশ্বব্যবস্থা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন শঙ্কা তৈরি করেছে—উক্তিটি যথার্থ।
সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পূর্বে দুই ব্লকের পারস্পরিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার কারণে একধরনের ক্ষমতার ভারসাম্য (Balance of power) বজায় থাকত। কোনো একটি পরাশক্তি এককভাবে অন্য কোনো দেশের সার্বভৌমত্বে হস্তক্ষেপ করার আগে প্রতিক্রিয়া নিয়ে ভাবতে হতো। কিন্তু সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একক আধিপত্য কায়েম হয়। উদ্দীপকে যেমন বলা হয়েছে, শক্তিশালী বিরোধী পক্ষের অভাবে একদলীয় ব্যবস্থার মতো একক পরাশক্তি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে স্বেচ্ছাচারী সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের সুযোগ পায়।
এর ফলস্বরূপ জাতিসংঘকে পাশ কাটিয়ে ইরাক আক্রমণ, আফগানিস্তানে সামরিক অভিযান কিংবা মধ্যপ্রাচ্যে একতরফা হস্তক্ষেপের মতো ঘটনা ঘটেছে, যা বিশ্বশান্তি ও আন্তর্জাতিক আইনের জন্য চরম শঙ্কা তৈরি করেছে। একক পরাশক্তির প্রভাবের কারণে ছোট ও উন্নয়নশীল রাষ্ট্রগুলো তাদের সার্বভৌমত্ব এবং স্বকীয় পররাষ্ট্রনীতি বজায় রাখতে হুমকির সম্মুখীন হয়। সুতরাং, ভারসাম্যহীন একমেরুকেন্দ্রিক বিশ্বব্যবস্থা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ক্ষমতার ভারসাম্য নষ্ট করে নতুন শঙ্কা ও অস্থিতিশীলতার জন্ম দিয়েছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও