ভূগোল ১ম পত্র • সমুদ্রস্রোত ও জোয়ার-ভাটা • Combined Board • রাজশাহী, চট্টগ্রাম, বরিশাল, সিলেট বোর্ড ২০২৪
ভূগোল ১ম পত্র প্রশ্ন
- ক)(1)
সমুদ্রস্রোত কাকে বলে?
- খ)(2)
বায়ুপ্রবাহ সমুদ্রস্রোতকে কীভাবে প্রভাবিত করে? ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত 'খ' স্রোতের বর্ণনা দাও।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লিখিত 'ক' ও 'গ' স্রোতের পার্থক্য বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মহাসাগরের জলরাশির এক স্থান থেকে অন্য স্থানে নিয়মিত ও নির্দিষ্ট গতিপথে প্রবাহিত হওয়াকে সমুদ্রস্রোত বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সমুদ্রস্রোত সৃষ্টির প্রধান ও অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো বায়ুপ্রবাহ। নিয়ত বায়ুপ্রবাহ (যেমন- অয়ন বায়ু, পশ্চিমা বায়ু ও মেরুদেশীয় বায়ু) সমুদ্রের পানির উপরিভাগ দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার সময় পানির সঙ্গে বায়ুর ঘর্ষণ ঘটে। এর ফলে বায়ু যেদিকে প্রবাহিত হয়, সমুদ্রের উপরিভাগের জলরাশিও সাধারণত সেই দিকে তাড়িত হয়ে স্রোতের আকারে প্রবাহিত হতে থাকে। যেমন— আয়ন বায়ুর প্রভাবে আটলান্টিক ও প্রশান্ত মহাসাগরে নিরক্ষীয় স্রোতের সৃষ্টি হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত 'খ' স্রোতটি হলো আটলান্টিক মহাসাগরের 'দক্ষিণ নিরক্ষীয় স্রোত'।
বর্ণনা:
১. উৎপত্তি ও গতিপথ: দক্ষিণ-পূর্ব আয়ন বায়ুর তাড়নায় এই স্রোতটি আফ্রিকার পশ্চিম উপকূল থেকে উৎপন্ন হয়ে নিরক্ষরেখার দক্ষিণ দিক দিয়ে পশ্চিম দিকে প্রবাহিত হয়।
২. প্রকৃতি: নিরক্ষীয় অঞ্চলে তীব্র সৌরকিরণ ও উষ্ণ আবহাওয়ার কারণে এ স্রোতের পানি অত্যন্ত উষ্ণ ও হালকা প্রকৃতির হয়ে থাকে।
৩. শাখা-প্রশাখা: এই স্রোতটি পশ্চিম দিকে প্রবাহিত হয়ে ব্রাজিলের সেন্ট রক অন্তরীপে বাধাগ্রস্ত হয়ে দুটি শাখায় বিভক্ত হয়। এর মূল শাখাটি দক্ষিণ দিকে মোড় নিয়ে 'ব্রাজিল স্রোত' নামে প্রবাহিত হয় এবং দ্বিতীয় ক্ষুদ্র শাখাটি উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে ক্যারিবিয়ান সাগরে প্রবেশ করে এবং পরবর্তীতে মেক্সিকো উপসাগরে প্রবেশ করে উপসাগরীয় স্রোতের সৃষ্টি করে। এটি আটলান্টিক মহাসাগরের জলবায়ু ও জাহাজ চলাচলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত 'ক' স্রোতটি মেক্সিকো উপসাগরে সৃষ্ট 'উপসাগরীয় স্রোত' (উষ্ণ স্রোত) এবং 'গ' স্রোতটি সুমেরু সাগর থেকে আগত 'ল্যাব্রাডর স্রোত' বা 'গ্রিনল্যান্ড স্রোত' (শীতল স্রোত)। নিম্নে এদের মধ্যে তুলনামূলক পার্থক্য বিশ্লেষণ করা হলো:
১. প্রকৃতি ও তাপমাত্রা: 'ক' স্রোত বা উপসাগরীয় স্রোত হলো একটি উষ্ণ স্রোত, যার পানির তাপমাত্রা অপেক্ষাকৃত বেশি। অপরদিকে, 'গ' স্রোত হলো একটি শীতল মেরুদেশীয় স্রোত, যার পানি অত্যন্ত ঠান্ডা।
২. উৎপত্তি ও প্রবাহের দিক: উপসাগরীয় স্রোত মেক্সিকো উপসাগর থেকে উৎপন্ন হয়ে উত্তর-পূর্ব দিকে ইউরোপের উপকূলের দিকে প্রবাহিত হয়। অন্যদিকে, 'গ' স্রোতটি সুমেরু মহাসাগর থেকে উৎপন্ন হয়ে দক্ষিণ দিকে উত্তর আমেরিকার পূর্ব উপকূল বরাবর অগ্রসর হয়।
৩. বর্ণ ও লবণাক্ততা: উপসাগরীয় স্রোতের পানি গাঢ় নীল বর্ণের এবং উষ্ণতার কারণে বাষ্পীভবন বেশি হওয়ায় এর লবণাক্ততা বেশি। পক্ষান্তরে, শীতল মেরু স্রোতের পানি হালকা সবুজ বর্ণের এবং বরফ গলে মিশে যাওয়ার কারণে এর লবণাক্ততা তুলনামূলক কম।
৪. জলবায়ুর ওপর প্রভাব: উপসাগরীয় স্রোতের প্রভাবে উত্তর-পশ্চিম ইউরোপের উপকূলবর্তী অঞ্চল শীতকালেও বরফমুক্ত ও অপেক্ষাকৃত উষ্ণ থাকে। অপরদিকে, শীতল ল্যাব্রাডর/গ্রিনল্যান্ড স্রোতের প্রভাবে উত্তর আমেরিকার পূর্ব উপকূলের জলবায়ু অত্যন্ত শীতল ও চরমভাবাপন্ন হয় এবং প্রায়শই তুষারপাত ঘটে।
৫. মগ্নচড়া ও কুয়াশা সৃষ্টি: নিউফাউন্ডল্যান্ডের কাছে উষ্ণ উপসাগরীয় স্রোত এবং শীতল ল্যাব্রাডর স্রোতের মিলনের ফলে ঘন কুয়াশা ও ঝড়ঝঞ্ঝার সৃষ্টি হয় এবং সেখানে গ্র্যান্ড ব্যাংক নামক বিশ্বখ্যাত মৎস্যক্ষেত্র বা মগ্নচড়া গড়ে উঠেছে।
সুতরাং, তাপমাত্রা, গতিপথ ও ভৌগোলিক প্রভাবের দিক থেকে উদ্দীপকের 'ক' ও 'গ' স্রোতের মধ্যে সুস্পষ্ট বৈসাদৃশ্য বিদ্যমান।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও