ভূগোল ১ম পত্র • পৃথিবীর গঠন • Combined Board • রাজশাহী, চট্টগ্রাম, বরিশাল, সিলেট বোর্ড ২০২৪

ভূগোল ১ম পত্র প্রশ্ন

বাংলাদেশের ভূ-প্রকৃতি | ক. ২য় বৃহত্তম সোপান অঞ্চল যা গজারী বনভূমি নামে পরিচিত।
খ. দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত যার ভূমিরূপ ভাঁজবিশিষ্ট।

  1. ক)

    সমভূমি কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    বাংলাদেশের পাহাড়গুলো গিরিজনি আলোড়নের ফলে সৃষ্টি হয়েছে। ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত 'ক' ভূপ্রাকৃতিক অঞ্চলের বর্ণনা দাও।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত 'খ' ভূপ্রাকৃতিক অঞ্চলের বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে অল্প উঁচুতে অবস্থিত সুবিস্তৃত মৃদু ঢালবিশিষ্ট সমতল ভূমিকে সমভূমি বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    টারশিয়ারি যুগে যখন হিমালয় পর্বত গঠিত হচ্ছিল, তখন তীব্র ভূ-আন্দোলন তথা গিরিজনি আলোড়নের (Orogenic movement) সৃষ্টি হয়। এই গিরিজনি আলোড়নের ফলে সৃষ্ট প্রবল পার্শ্বচাপ ও ভূ-ভাঁজের প্রভাবেই বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের টারশিয়ারি পাহাড়সমূহ গঠিত হয়েছিল। এ কারণে বলা হয় যে বাংলাদেশের পাহাড়গুলো গিরিজনি আলোড়নের ফলে সৃষ্টি হয়েছে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত 'ক' ভূপ্রাকৃতিক অঞ্চলটি হলো 'মধুপুর ও ভাওয়ালের গড়' (প্লাইস্টোসিনকালের দ্বিতীয় বৃহত্তম সোপান অঞ্চল)।
    ১. অবস্থান ও আয়তন: এ অঞ্চলটি ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল ও গাজীপুর জেলায় বিস্তৃত। এর আয়তন প্রায় ৪,১০৩ বর্গকিলোমিটার।
    ২. উচ্চতা: সমভূমি থেকে এর উচ্চতা প্রায় ৬ থেকে ৩০ মিটার পর্যন্ত উঁচু।
    ৩. মৃত্তিকার বৈশিষ্ট্য: এই অঞ্চলের মাটি লালচে ও ধূসর রঙের, যা অত্যন্ত শক্ত ও লোহা-সমৃদ্ধ।
    ৪. উদ্ভিদ ও প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য: অঞ্চলটি প্রধানত গজারী বা শাল বনভূমির জন্য বিখ্যাত। প্লাইস্টোসিন যুগের আন্তঃবরফ যুগে নদীর প্লাবন ও পলল থেকে এ সোপান ভূমি সৃষ্টি হয়েছিল।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত 'খ' ভূপ্রাকৃতিক অঞ্চলটি হলো বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ (টারশিয়ারি যুগের পাহাড়)। নিম্নে এর প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ বিশ্লেষণ করা হলো:
    ১. গঠন ও শিলা: এ অঞ্চলের পাহাড়গুলো টারশিয়ারি যুগে হিমালয় পর্বত গঠিত হওয়ার সময় পার্শ্বচাপের ফলে ভাঁজ পর্বত হিসেবে সৃষ্টি হয়েছিল। এগুলো মূলত বেলেপাথর, কর্দম ও শেল শিলা দ্বারা গঠিত।
    ২. উচ্চতা ও শীর্ষ শৃঙ্গ: এটি বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ভূপ্রাকৃতিক অঞ্চল। এ অঞ্চলের গড় উচ্চতা প্রায় ৬১০ মিটার। বাংলাদেশের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ বিজয় (তাজিংডং - ১২৩১ মিটার) এবং অন্যান্য উল্লেখযোগ্য শৃঙ্গ যেমন কিওক্রাডং এ অঞ্চলেই অবস্থিত।
    ৩. ভূপ্রকৃতি ও ভূদৃশ্য: এখানকার পাহাড়গুলো উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম থেকে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্বে সমান্তরাল শৈলশিরা আকারে বিস্তৃত। পাহাড়গুলোর মাঝে গভীর নদী উপত্যকা ও গিরিখাত রয়েছে।
    ৪. উদ্ভিদ ও নদ-নদী: এ পাহাড়গুলো চিরহরিৎ ও পর্ণমোচী উদ্ভিদে আচ্ছাদিত। কর্ণফুলী, সাঙ্গু, মাতামুহুরী ও নাফ নদী এ পাহাড়ি অঞ্চল থেকে উৎপত্তি হয়ে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে।
    অতএব, ভাঁজবিশিষ্ট এই অঞ্চলটি ভূ-প্রাকৃতিক ও পরিবেশগত দিক থেকে বাংলাদেশের সমভূমি থেকে সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন