ভূগোল ১ম পত্র • জলবায়ুর উপাদান ও নিয়ামক • Combined Board • রাজশাহী, চট্টগ্রাম, বরিশাল, সিলেট বোর্ড ২০২৪
ভূগোল ১ম পত্র প্রশ্ন
জলবায়ুর নিয়ামক | ক | সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৩০০ মিটার উঁচুতে অবস্থিত ভূমি
খ | সমুদ্র উপকূলীয় অঞ্চল
সমুদ্র দূরবর্তী অঞ্চল
- ক)(1)
আবহাওয়া কাকে বলে?
- খ)(2)
নিরক্ষীয় অঞ্চলে নিম্নচাপ সৃষ্টির কারণ ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত 'ক' নিয়ামকের বর্ণনা দাও।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লিখিত 'খ' নিয়ামকের কারণে জলবায়ুর পার্থক্য হয় বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কোনো একটি নির্দিষ্ট স্থানের বায়ুর তাপ, চাপ, আর্দ্রতা, বায়ুপ্রবাহ ও বারিপাত ইত্যাদির দৈনন্দিন বা স্বল্পকালীন অবস্থাকে আবহাওয়া বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
নিরক্ষীয় অঞ্চলে সারা বছর সূর্য লম্বভাবে কিরণ দেয়। ফলে সেখানকার বায়ু অতিরিক্ত উত্তপ্ত ও হালকা হয়ে ওপরের দিকে উঠে যায়। এছাড়া এই অঞ্চলে জলভাগের বিস্তার বেশি হওয়ায় বাষ্পীভবনের হার বেশি, ফলে বায়ুতে প্রচুর জলীয় বাষ্প থাকে। জলীয় বাষ্পপূর্ণ বায়ু সাধারণ শুষ্ক বায়ুর চেয়ে হালকা। উত্তপ্ত ও হালকা বায়ু ওপরের দিকে উঠে যাওয়ার কারণে নিরক্ষীয় অঞ্চলে স্থায়ী নিম্নচাপের সৃষ্টি হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত 'ক' নিয়ামকটি হলো জলবায়ুর অন্যতম প্রধান নিয়ামক 'উচ্চতা'।
সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে কোনো স্থানের উচ্চতা বৃদ্ধির সাথে সাথে বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা ক্রমান্বয়ে হ্রাস পেতে থাকে। সাধারণত সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রতি ১,০০০ মিটার উচ্চতায় প্রায় ৬° সেলসিয়াস (বা ৬.৪° সেলসিয়াস) তাপমাত্রা কমে যায়। একে স্বাভাবিক তাপমাত্রার হ্রাসের হার (Normal Lapse Rate) বলে।
উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে বায়ুস্তর হালকা ও কম ঘন হয় এবং বায়ুর চাপ হ্রাস পায়। এছাড়া বায়ুমণ্ডল মূলত ভূপৃষ্ঠের বিকিরিত তাপ দ্বারা নিচ থেকে উত্তপ্ত হয়। তাই সমুদ্রপৃষ্ঠের কাছাকাছি থাকা নিম্নস্তরের বায়ুস্তর যতটা উত্তপ্ত হয়, ওপরের দিকের বায়ুস্তর ততটা উত্তপ্ত হতে পারে না। ফলে একই অক্ষাংশে অবস্থিত হলেও উচ্চতার পার্থক্যের জন্য কোনো স্থান উষ্ণ এবং কোনো স্থান শীতল হতে পারে। উদ্দীপকের 'ক' নিয়ামকটি এই উচ্চতাকেই নির্দেশ করছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত 'খ' নিয়ামকটি হলো 'সমুদ্র থেকে দূরত্ব', যা কোনো অঞ্চলের জলবায়ুর প্রকৃতি নির্ধারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
জলভাগের তাপধারণ ক্ষমতা স্থলভাগের চেয়ে অনেক বেশি। পানি ধীরে ধীরে উত্তপ্ত হয় এবং ধীরে ধীরে শীতল হয়; পক্ষান্তরে স্থলভাগ দ্রুত উত্তপ্ত হয় এবং দ্রুত তাপ বিকিরণ করে শীতল হয়ে যায়। এর ফলে সমুদ্র উপকূলবর্তী অঞ্চল এবং সমুদ্র থেকে দূরবর্তী অঞ্চলের জলবায়ুর মধ্যে সুস্পষ্ট পার্থক্য দেখা যায়:
১. সমভাবাপন্ন জলবায়ু (উপকূলীয় অঞ্চল): সমুদ্র উপকূলের নিকটবর্তী অঞ্চলে গ্রীষ্মকালে স্থলভাগ খুব বেশি উত্তপ্ত হতে পারে না কারণ শীতল সমুদ্রবায়ু প্রবাহিত হয়। আবার শীতকালে সমুদ্র থেকে উষ্ণ বায়ু আসার ফলে অতিরিক্ত শীত অনুভূত হয় না। ফলে এখানকার তাপমাত্রা খুব বেশি ওঠা-নামা করে না এবং জলবায়ু সমভাবাপন্ন (Moderate) প্রকৃতির হয়।
২. চরমভাবাপন্ন জলবায়ু (দূরবর্তী অঞ্চল): সমুদ্র থেকে দূরে অবস্থিত অভ্যন্তরভাগে জলভাগের কোনো প্রভাব থাকে না। ফলে গ্রীষ্মকালে অতিরিক্ত গরম এবং শীতকালে তীব্র শীত অনুভূত হয়। বার্ষিক ও দৈনিক তাপমাত্রার ব্যবধান খুব বেশি হয়। এই ধরনের জলবায়ুকে চরমভাবাপন্ন বা মহাদেশীয় (Continental) জলবায়ু বলে।
সুতরাং দেখা যায়, সমুদ্র থেকে দূরত্বের তারতম্যের কারণেই উপকূলীয় অঞ্চল সমভাবাপন্ন এবং দূরবর্তী অঞ্চল চরমভাবাপন্ন রূপ ধারণ করে জলবায়ুর স্পষ্ট পার্থক্য সৃষ্টি করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও