ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র • Combined Board • রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, বরিশাল বোর্ড ২০১৮
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র প্রশ্ন
মোঙ্গল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা চেলিস খান বিশাল সাম্রাজ্যের। অধিকারী ছিলেন। তার দক্ষ ও দুর্ধর্ষ সেনাপতিদের নিপুণতায় তিনি বিশাল সাম্রাজ্যের অধিকারী হন। পরবর্তীতে মোজালগণ মধ্য এশিয়া, বাগদাদ ও ভারতীয় উপমহাদেশে অভিযান পরিচালনা করে।
- ক)(1)
উমাইয়াদের শেষ খলিফা কে ছিলেন?
- খ)(2)
মুয়াবিয়াকে আরবের প্রথম রাজা বলা হয় কেন? ব্যাখ্যা করা।
- গ)(3)
উদ্দীপকের চেঙ্গিস খানের সাথে কোন উমাইয়া খলিফার কর্মকান্ডের মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উন্তু খলিফার তিনজন সেনাপতির কৃতিত্ব মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উমাইয়াদের শেষ খলিফা ছিলেন দ্বিতীয় মারওয়ান।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হযরত মুয়াবিয়া (রা.) খেলাফতের গণতান্ত্রিক ও পরামর্শভিত্তিক (শূরা) ব্যবস্থার পরিবর্তে বংশানুক্রমিক রাজতন্ত্র প্রবর্তন করেন বলে তাঁকে আরবের প্রথম রাজা বলা হয়। তিনি তাঁর পুত্র ইয়াজিদকে খিলাফতের উত্তরাধিকারী মনোনীত করে যান, যা ইসলামি শাসনব্যবস্থায় রাজতান্ত্রিক ধারার সূচনা করে। পাশাপাশি তিনি রাজকীয় আদব-কায়দা, দেহরক্ষী বাহিনী ও দরবারি প্রথা চালু করেন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের চেঙ্গিস খানের সাথে উমাইয়া খলিফা প্রথম আল-ওয়ালিদের কর্মকাণ্ডের মিল রয়েছে।
উদ্দীপকে চেঙ্গিস খানের সাম্রাজ্য বিস্তার এবং তাঁর দক্ষ সেনাপতিদের মাধ্যমে মধ্য এশিয়াসহ বিভিন্ন অঞ্চলে রাজ্য জয়ের কথা বলা হয়েছে। একইভাবে উমাইয়া খলিফা প্রথম আল-ওয়ালিদের শাসনামলে উমাইয়া সাম্রাজ্য তিন মহাদেশে বিস্তৃত হয়ে সর্বোচ্চ সীমায় পৌঁছায়। তাঁর সময়ে তাঁর সুযোগ্য ও পরাক্রমশালী সেনাপতিদের নেতৃত্বে ভারত সীমান্ত (সিন্ধু), মধ্য এশিয়া এবং ইউরোপের স্পেন (আন্দালুসিয়া) পর্যন্ত বিশাল ভূখণ্ড বিজিত হয়। অতএব, দক্ষ সেনাপতিদের মাধ্যমে বিশাল সাম্রাজ্য বিস্তার করার দিক থেকে খলিফা প্রথম আল-ওয়ালিদের সাথে চেঙ্গিস খানের কর্মকাণ্ডের মিল রয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
খলিফা প্রথম আল-ওয়ালিদের সাম্রাজ্য বিস্তারে তিনজন সেনাপতির অবদান ইতিহাসে অনন্য। নিচে তাঁদের কৃতিত্ব মূল্যায়ন করা হলো:
১. মুহম্মদ বিন কাসিম: তরুণ এই সেনাপতি ৭১২ খ্রিস্টাব্দে সিন্ধুর রাজা দাহিরকে পরাজিত করে সিন্ধু ও মুলতান বিজয় করেন। তাঁর এই বিজয়ের মাধ্যমে ভারতীয় উপমহাদেশে সর্বপ্রথম মুসলিম শাসনের দ্বার উন্মোচিত হয় এবং তিনি এই অঞ্চলে ন্যায়ভিত্তিক ও সহনশীল প্রশাসন গড়ে তোলেন।
২. কুতাইবা বিন মুসলিম: তিনি পূর্বাঞ্চলীয় গভর্নর হাজ্জাজ বিন ইউসুফের অধীনে মধ্য এশিয়ায় অভিযান পরিচালনা করেন। তিনি বোখারা, সমরকন্দ, ফারগানা ও খোয়ারিজমসহ বিস্তীর্ণ মধ্য এশীয় অঞ্চল জয় করে উমাইয়া সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত করেন এবং ইসলামি সংস্কৃতির বিস্তারে ভূমিকা রাখেন।
৩. তারিক বিন জিয়াদ: ৭১১ খ্রিস্টাব্দে সেনাপতি তারিক বিন জিয়াদ জিব্রাল্টার প্রণালী পার হয়ে স্পেনে অভিযান চালান এবং গুয়াডালেটের যুদ্ধে রাজা রডারিককে পরাজিত করে আইবেরীয় উপদ্বীপে (স্পেন) মুসলিম শাসনের ঐতিহাসিক ভিত্তি স্থাপন করেন।
পরিশেষে বলা যায়, এই তিন যোগ্য সেনাপতির সামরিক প্রতিভা ও অসীম সাহসিকতার ফলেই খলিফা ওয়ালিদের শাসনকাল ইসলামি সাম্রাজ্য বিস্তারের ইতিহাসে স্বর্ণযুগ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও