পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র • নটর ডেম কলেজ, ঢাকা • নটর ডেম কলেজ, ঢাকা টেস্ট পরীক্ষা ২০২৪
পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র প্রশ্ন
১৯৭৪ সালে ভূখণ্ড সমস্যা নিয়ে ছিটমহলবাসীর নাগরিক অধিকার ও স্বাধীনতা প্রদানের জন্য 'ক ও খ' দেশের মধ্যে চুক্তি হয়। কিন্তু দীর্ঘদিন নানা জটিলতার কারণে উক্ত চুক্তি বাস্তবায়িত হয়নি। সম্প্রতি দু'দেশের সরকার প্রধানের সম্মতিক্রমে চুক্তি কার্যকর হয়। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী স্বাধীন মতামতের ভিত্তিতে ছিটমহলবাসীরা স্থায়ী বসবাসের জন্য স্বাধীন ভূ-খণ্ড বেছে নেয়। বর্তমানে তারা স্বাধীন দেশের নাগরিক হিসেবে সব ধরনের অধিকার ও স্বাধীনতা উপভোগের সুযোগ পাচ্ছে।
- ক)(1)
কর্তব্য কী?
- খ)(2)
মৌলিক অধিকার বলতে কী বোঝ?
- গ)(3)
উদ্দীপকে বর্ণিত ছিটমহলবাসীরা এতদিন কোন ধরনের অধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লেখিত ছিটমহলবাসীর বর্তমানে অধিকার ভোগের পাশাপাশি কর্তব্যও পালন করতে হবে-বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
নাগরিক হিসেবে সমাজের প্রতি বা রাষ্ট্রের প্রতি পালনীয় দায়িত্ব ও বাধ্যবাধকতাকে কর্তব্য বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মৌলিক অধিকার বলতে রাষ্ট্রের সংবিধান কর্তৃক স্বীকৃত ও সংরক্ষিত সেসব অপরিহার্য সুযোগ-সুবিধাকে বোঝায়, যা নাগরিকের ব্যক্তিত্বের পরিপূর্ণ বিকাশ এবং মর্যাদাপূর্ণ জীবনের জন্য একান্ত আবশ্যক। এ অধিকারগুলো রাষ্ট্র কর্তৃক অলঙ্ঘনীয় এবং কোনো নাগরিক তা থেকে বঞ্চিত হলে আদালতের মাধ্যমে তা বলবৎ করার নিশ্চয়তা থাকে; যেমন—বাকস্বাধীনতা, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও জীবনধারণের অধিকার।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত ছিটমহলবাসীরা দীর্ঘদিন যাবত তাদের সকল প্রকার 'নাগরিক ও মৌলিক অধিকার' (সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার) থেকে বঞ্চিত ছিল।
ছিটমহল হলো এক দেশের মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন অন্য দেশের সীমানার অভ্যন্তরে অবস্থিত কোনো ভূখণ্ড। নির্দিষ্ট রাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক উপস্থিতি ও নাগরিক মর্যাদা না থাকায় তারা শিক্ষা, চিকিৎসা, চলাফেরার স্বাধীনতা, ভোটাধিকার এবং আইনের আশ্রয়লাভের মতো প্রাথমিক নাগরিক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিল।
উদ্দীপকে দেখা যায়, ১৯৭৪ সালের চুক্তির পর দীর্ঘদিন আইনি জটিলতার কারণে ছিটমহলবাসীরা কোনো স্বাধীন দেশের বৈধ নাগরিক হতে পারেনি। ফলে তারা একটি পরিচয়হীন ও মৌলিক মানবাধিকারবিহীন মানবেতর জীবনযাপন করছিল। সুতরাং, তারা রাষ্ট্রপ্রদত্ত পূর্ণাঙ্গ সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও মৌলিক নাগরিক অধিকার থেকে সম্পূর্ণরূপে বঞ্চিত ছিল।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লেখিত ছিটমহলবাসীদের বর্তমান অধিকার ভোগের পাশাপাশি রাষ্ট্রের প্রতি অবশ্যপালনীয় কর্তব্যও পালন করতে হবে—এ বক্তব্যটি সম্পূর্ণ যথার্থ।
পৌরনীতিতে অধিকার ও কর্তব্য ওতপ্রোতভাবে জড়িত; এরা মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। অধিকার ছাড়া কর্তব্য পালন অর্থহীন, তেমনি কর্তব্য পালন না করে শুধু অধিকার ভোগ করা স্বার্থপরতা এবং তা রাষ্ট্রের শৃঙ্খলা বিনষ্ট করে। অধিকার ভোগের মাধ্যমেই নাগরিকের ওপর কর্তব্যের দাবি সৃষ্টি হয়।
দীর্ঘ বঞ্চনার পর ছিটমহল চুক্তি বাস্তবায়িত হওয়ায় ছিটমহলবাসীরা একটি স্বাধীন দেশের নাগরিক হিসেবে স্থায়ী ভূখণ্ড পেয়েছে এবং জীবনধারণ, শিক্ষা, চিকিৎসা ও নিরাপত্তার মতো সব ধরনের মৌলিক ও নাগরিক অধিকার ভোগ করছে। অতএব, স্বাধীন দেশের সুনাগরিক হিসেবে তাদের নিম্নোক্ত কর্তব্যগুলো পালন করতে হবে:
১. রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ: রাষ্ট্রকে ভালোবাসা এবং সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতা রক্ষায় সদা প্রস্তুত থাকা।
২. আইন মান্য করা: সমাজের শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য প্রচলিত আইন যথাযথভাবে মেনে চলা।
৩. নিয়মিত কর প্রদান: রাষ্ট্রের উন্নয়ন ও নাগরিক সেবার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সরকারকে নিয়মিত কর দেওয়া।
৪. ভোটাধিকার প্রয়োগ: সচেতন ও সৎ নাগরিক হিসেবে নির্বাচনে যোগ্য প্রার্থী নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করা।
৫. সন্তানকে সুশিক্ষিত করা: ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দেশপ্রেমিক ও যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা।সুতরাং, অধিকার যেমন নাগরিকদের বেঁচে থাকা ও বিকাশের পথ খুলে দেয়, তেমনি কর্তব্য পালন রাষ্ট্রকে সুসংগঠিত ও শক্তিশালী রাখে। তাই অধিকার পাওয়ার পর ছিটমহলবাসীদের সচেতনভাবে রাষ্ট্রের প্রতি কর্তব্য পালন করতে হবে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও