সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র • Combined Board • রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, বরিশাল বোর্ড ২০১৮
সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন
গ্রামের বয়োবৃদ্ধরা এক সময় তাদের ছেলেমেয়ে, নাতি- নাতনিদের গল্প, রূপকথা, উপদেশমূলক বাণী শোনাত। এক সময় পালাগান, জারি, সারি ইত্যাদি ব্যাপকভাবে গ্রামেগঞ্জে হতো। বিশেষ করে পুঁথিপাঠ, গাজীর গান ইত্যাদি গ্রামে ব্যাপক প্রচলিত ছিল। এসবের মধ্য দিয়ে শিশু কিশোররা পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, নীতি-নৈতিকতা শিক্ষা পেত। এখনও এসবের প্রয়োজনীয়তা শেষ হয়ে যায়নি। মানুষ মনে করে এগুলোই আমাদের মূল শিকড়।
- ক)(1)
প্রথা কী?
- খ)(2)
সমাজকাঠামোর ভাব বিনিময় ব্যবস্থা বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকের বর্ণনায় সংস্কৃতির কোন উপাদানের প্রতি ইংগিত করা হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে বর্ণিত ব্যবস্থাবলি সামাজিক নিয়ন্ত্রণে সহায়ক- বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
প্রথা হলো সমাজে দীর্ঘকাল ধরে পালিত এবং সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত এমন এক ধরনের লোকাচার বা আচরণবিধি, যা সামাজিক অভ্যাসে পরিণত হয়েছে এবং সমাজের অধিকাংশ মানুষ মেনে চলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সমাজকাঠামোর ভাব বিনিময় ব্যবস্থা বলতে সমাজের সদস্যদের মধ্যে তথ্য, ধারণা, অনুভূতি ও মূল্যবোধ আদান-প্রদানের মাধ্যম ও প্রক্রিয়াকে বোঝায়।
ভাষা, সংকেত, অঙ্গভঙ্গি, প্রতীক, লোকসাহিত্য, গণমাধ্যম ইত্যাদি ভাব বিনিময়ের অন্যতম উপাদান। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে সমাজের সদস্যরা পারস্পরিক যোগাযোগ রক্ষা করে, সংস্কৃতির ঐতিহ্য এক প্রজন্ম থেকে অন্য প্রজন্মে সঞ্চারিত হয় এবং সামগ্রিক সামাজিক সংহতি বজায় থাকে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের বর্ণনায় সংস্কৃতির 'অবস্তুগত উপাদান'-এর প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে।
সমাজবিজ্ঞানে সংস্কৃতিকে প্রধানত দুটি ভাগে ভাগ করা যায়—বস্তুগত সংস্কৃতি ও অবস্তুগত সংস্কৃতি। যেসব সৃষ্টি স্পর্শ করা যায় না কিন্তু উপলব্ধি ও ধারণ করা যায়, যেমন—বিশ্বাস, মূল্যবোধ, সাহিত্য, সংগীত, লোককথা, রীতিনীতি ইত্যাদি হলো অবস্তুগত সংস্কৃতি।
উদ্দীপকে উল্লেখিত রূপকথা, গল্প, উপদেশমূলক বাণী, পালাগান, জারি-সারি গান, পুঁথিপাঠ ও গাজীর গান হলো বাংলার সমৃদ্ধ লোকসংস্কৃতির অবস্তুগত নিদর্শন। এগুলো সমাজের মানুষের চিন্তাধারা, নৈতিকতাবোধ ও মননশীলতাকে প্রকাশ করে। তাই উদ্দীপকে অবস্তুগত সংস্কৃতির উপাদানের দিকেই স্পষ্ট ইঙ্গিত রয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত উপাদান ও ব্যবস্থাপনাসমূহ সমাজের শৃঙ্খলা ও সংহতি বজায় রাখতে তথা সামাজিক নিয়ন্ত্রণে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করে—মন্তব্যটি যথার্থ।
সামাজিক নিয়ন্ত্রণ বলতে বোঝায় সমাজ কর্তৃক স্বীকৃত নিয়মকানুন, নীতি ও আদর্শ অনুযায়ী ব্যক্তিদের আচরণকে পরিচালিত করা। আনুষ্ঠানিক নিয়ন্ত্রণ (যেমন: আইন, পুলিশ) ছাড়াও অনানুষ্ঠানিক মাধ্যমগুলো সমাজে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে গভীর প্রভাব ফেলে।
উদ্দীপকে উল্লেখিত বয়োবৃদ্ধদের রূপকথা, উপদেশমূলক বাণী, পুঁথিপাঠ ও জারি-সারি গানের মতো লোকসংস্কৃতির উপাদানগুলো সমাজের শিশু-কিশোরদের পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সততা এবং নীতি-নৈতিকতা শিক্ষা দেয়। এগুলো কোনো জোরজবরদস্তি ছাড়াই স্বতঃস্ফূর্তভাবে ব্যক্তির সামাজিকীকরণে ভূমিকা রাখে এবং সমাজে অন্যায় ও বিচ্যুতিমূলক আচরণ রোধ করে। লোকসাহিত্য ও চিরায়ত মূল্যবোধ মানুষকে যৌথতাবোধ ও সামাজিক কর্তব্যের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। সুতরাং, এসব সাংস্কৃতিক ও ঐতিহ্যবাহী ব্যবস্থা ব্যক্তির অন্তরে নৈতিক চেতনার বিকাশ ঘটিয়ে অনানুষ্ঠানিক সামাজিক নিয়ন্ত্রণে অত্যন্ত সহায়ক হিসেবে কাজ করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও