জীববিজ্ঞান ১ম পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২৩
জীববিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন
নিচের উদ্দীপকটি লক্ষ কর-

- ক)(1)
কেমিঅসমোসিস কী?
- খ)(2)
ATP কে জৈবমুদ্রা বলা হয় কেন?
- গ)(3)
প্রক্রিয়া-১ যে অঙ্গাণুতে ঘটে তার গঠন বর্ণনা কর।
- ঘ)(4)
প্রক্রিয়া-১ ও প্রক্রিয়া-২ এর মধ্যে তুলনামূলক বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জৈবঝিল্লির (যেমন- মাইটোকন্ড্রিয়া বা ক্লোরোপ্লাস্টের ঝিল্লি) এপার-ওপারে প্রোটনের (H+) ঘনমাত্রার পার্থক্যের কারণে সৃষ্ট বৈদ্যুতিক-রাসায়নিক শক্তির সাহায্যে ATP সিন্থেটেজ এনজাইমের মাধ্যমে ATP তৈরির প্রক্রিয়াকে কেমিঅসমোসিস (Chemiosmosis) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জীবদেহের বিভিন্ন জৈবনিক কাজের (যেমন- প্রোটিন সংশ্লেষণ, কোষ বিভাজন, সক্রিয় পরিবহন ইত্যাদি) জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি ATP-এর প্রান্তীয় ফসফেট বন্ধনীতে সঞ্চিত থাকে। প্রয়োজনে এই বন্ধনী ভেঙে শক্তি নির্গত হয়, আবার শক্তি সঞ্চিত হয়ে পুনরায় ATP তৈরি হয়। লেনদেনের মাধ্যমে মুদ্রা যেভাবে সঞ্চয় ও খরচ করা যায়, তেমনই কোষীয় স্তরে শক্তি জমা রাখা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী তা খরচ করার একক হিসেবে কাজ করায় ATP-কে জৈবমুদ্রা বা শক্তির মুদ্রা (Biological currency / Energy currency) বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের প্রক্রিয়া-১ হলো সবাত শ্বসন, যার প্রধান ধাপগুলো (যেমন- অ্যাসিটাইল কো-এ সৃষ্টি, ক্রেবস চক্র ও ইলেকট্রন ট্রান্সপোর্ট সিস্টেম) মাইটোকন্ড্রিয়ায় সংঘটিত হয়।
মাইটোকন্ড্রিয়ার ভৌত গঠন নিম্নরূপ:
১. আবরণী বা ঝিল্লি: মাইটোকন্ড্রিয়া দ্বিস্তরবিশিষ্ট লিপোপ্রোটিন নির্মিত ঝিল্লি দিয়ে আবৃত। বাইরের ঝিল্লিটি মসৃণ ও ছিদ্রযুক্ত এবং ভেতরের ঝিল্লিটি বিভিন্ন ভাঁজবিশিষ্ট।
২. প্রকোষ্ঠ: দুই ঝিল্লির মাঝের স্থানকে বহিঃস্থ কক্ষ এবং ভেতরের ঝিল্লি দ্বারা বেষ্টিত স্থানকে অভ্যন্তরীণ কক্ষ বলে।
৩. ক্রিস্টি: ভেতরের ঝিল্লিটি ভেতরের দিকে আঙুলের মতো অসংখ্য ভাঁজ সৃষ্টি করে, এদের ক্রিস্টি (Cristae) বলে। এটি অভ্যন্তরীণ পৃষ্ঠের ক্ষেত্রফল বৃদ্ধি করে।
৪. অক্সিসোম ও ATP সিন্থেটেজ: ক্রিস্টির গায়ে নির্দিষ্ট দূরত্বে ক্ষুদ্র বৃন্তযুক্ত বা বৃন্তহীন কণা থাকে, যাদের অক্সিসোম বা ATP সিন্থেসিস সংশ্লিষ্ট কমপ্লেক্স (ATP Synthase) বলে। এখানে ATP সংশ্লেষিত হয়।
৫. ম্যাট্রিক্স: অভ্যন্তরীণ কক্ষে প্রোটিন, লিপিড, বিভিন্ন প্রকার এনজাইম সমৃদ্ধ জেলির মতো তরল পদার্থ থাকে, যাকে ম্যাট্রিক্স বলে।
৬. নিজস্ব DNA ও রাইবোসোম: ম্যাট্রিক্সে বৃত্তাকার দ্বি-সূত্রক DNA এবং ৭০S প্রকৃতির রাইবোসোম থাকে, যার সাহায্যে মাইটোকন্ড্রিয়া নিজস্ব কিছু প্রোটিন তৈরি করতে পারে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রক্রিয়া-১ হলো সবাত শ্বসন (Aerobic respiration) এবং প্রক্রিয়া-২ হলো অবাত শ্বসন (Anaerobic respiration)। এদের মধ্যে তুলনামূলক বিশ্লেষণ নিচে দেওয়া হলো:
১. অক্সিজেনের প্রয়োজনীয়তা: প্রক্রিয়া-১ (সবাত শ্বসন) সম্পন্ন হতে মুক্ত অক্সিজেনের অপরিহার্য উপস্থিতি প্রয়োজন। কিন্তু প্রক্রিয়া-২ (অবাত শ্বসন) অক্সিজেনের অনুপস্থিতিতে ঘটে।
২. শ্বসনিক বস্তুর জারণ: সবাত শ্বসনে শ্বসনিক বস্তু (গ্লুকোজ বা পাইরুভিক অ্যাসিড) সম্পূর্ণরূপে জারিত হয়ে কার্বন ডাই-অক্সাইড ও পানিতে পরিণত হয়। অবাত শ্বসনে এটি অসম্পূর্ণরূপে জারিত হয়ে ইথাইল অ্যালকোহল বা ল্যাকটিক অ্যাসিড এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড উৎপন্ন করে।
৩. শক্তির উৎপাদন: সবাত শ্বসনে এক অণু গ্লুকোজ জারিত হয়ে বিপুল পরিমাণ শক্তি অর্থাৎ ৩৬ বা ৩৮ অণু ATP (প্রায় ৬৮৬ কিলোক্যালোরি) উৎপন্ন করে। পক্ষান্তরে, অবাত শ্বসনে সীমিত পরিমাণ অর্থাৎ মাত্র ২ অণু ATP (প্রায় ৫০-৫৬ কিলোক্যালোরি) উৎপন্ন হয়।
৪. সংঘটনের স্থান: সবাত শ্বসনের গ্লাইকোলাইসিস সাইটোপ্লাজমে এবং পরবর্তী ধাপগুলো মাইটোকন্ড্রিয়ায় ঘটে। অবাত শ্বসন সম্পূর্ণরূপেই সাইটোপ্লাজমে সংঘটিত হয়; এতে মাইটোকন্ড্রিয়ার কোনো ভূমিকা নেই।
৫. ধাপসমূহ: প্রক্রিয়া-১ চারটি ধাপে সম্পন্ন হয় (গ্লাইকোলাইসিস, অ্যাসিটাইল কো-এ সৃষ্টি, ক্রেবস চক্র ও ইলেকট্রন ট্রান্সপোর্ট চেইন)। প্রক্রিয়া-২ মূলত দুটি ধাপে সম্পন্ন হয় (গ্লুকোজের অসম্পূর্ণ জারণ ও পাইরুভিক অ্যাসিডের বিজারণ)।
৬. সঙ্ঘটনকারী জীব: উচ্চশ্রেণির প্রায় সকল উদ্ভিদ ও প্রাণীতে স্বাভাবিক অবস্থায় প্রক্রিয়া-১ ঘটে। কিছু অণুজীবে (যেমন- ঈস্ট, কিছু অবাত ব্যাকটেরিয়া) এবং প্রতিকূল পরিবেশে নির্দিষ্ট কলাতে প্রক্রিয়া-২ সংঘটিত হয়।সুতরাং, শক্তি উৎপাদন ও জৈবিক দক্ষতার দিক থেকে প্রক্রিয়া-১ (সবাত শ্বসন) প্রক্রিয়া-২ (অবাত শ্বসন) অপেক্ষা বহুলাংশে উন্নত ও তাৎপর্যপূর্ণ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও