অর্থনীতি ২য় পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২৩
অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন
জনাব V এর টি-শার্ট তৈরির কারখানায় ১৮০০ জন শ্রমিক কাজ করে। তার কারখানায় তৈরিকৃত পোশাক জাপান, সুইজারল্যান্ড, নরওয়ে ও সুইডেনসহ আরো কয়েকটি দেশের সমাদৃত। মি. V এর কারখানার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ আরো ৪৪ টি কারখানা দেশে বিদ্যমান।
- ক)(1)
রপ্তানিমুখী শিল্প কি?
- খ)(2)
আমদানি বিকল্প শিল্প বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধির সহায়ক - ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকের মি V এর কারখানার প্রকৃতি ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
বাংলাদেশের অর্থনীতিতে উদ্দীপকের উল্লিখিত শিল্পটির সম্ভাবনা সম্পর্কে আলোকপাত কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যেসব শিল্পে উৎপাদিত পণ্যের সিংহভাগ বা সম্পূর্ণ অংশ বিদেশের বাজারে রপ্তানির উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়, সেগুলোকে রপ্তানিমুখী শিল্প বলা হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
আমদানি বিকল্প শিল্প হলো এমন ধরনের শিল্প, যেখানে পূর্বে বিদেশ থেকে আমদানিকৃত পণ্যসমূহ দেশেই উৎপাদনের ব্যবস্থা করা হয়। এর ফলে অভ্যন্তরীণ চাহিদা দেশীয় উৎপাদনের মাধ্যমেই মেটানো সম্ভব হয় এবং বিদেশ থেকে পণ্য ক্রয়ের পেছনে যে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় হতো তা সাশ্রয় হয়। সাশ্রয়কৃত এই বৈদেশিক মুদ্রা দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে জমা থাকে, যা জাতীয় অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ভূমিকা রাখে। এভাবে আমদানি বিকল্প শিল্প দেশের বৈদেশিক মুদ্রার ব্যয় হ্রাস করে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে রিজার্ভ বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে জনাব V-এর কারখানাটি একটি রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক শিল্প এবং উৎপাদন স্কেল অনুযায়ী এটি একটি বৃহৎ শিল্পের অন্তর্ভুক্ত।
যে শিল্পে উৎপাদিত দ্রব্যমূল্য প্রধানত বিদেশের বাজারে বিক্রির উদ্দেশ্যে তৈরি হয় এবং বিপুল পরিমাণ জনবল ও মূলধন নিয়োজিত থাকে, তাকে রপ্তানিমুখী বৃহৎ শিল্প বলা হয়। জাতীয় শিল্পনীতি অনুযায়ী উৎপাদনমুখী খাতে শ্রমিকের সংখ্যা ৩০০ জনের অধিক হলে তা বৃহৎ শিল্প হিসেবে গণ্য হয়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, জনাব V-এর কারখানায় ১৮০০ জন শ্রমিক কর্মরত রয়েছে, যা বৃহৎ শিল্পের সংজ্ঞার সাথে সংগতিপূর্ণ। এছাড়া কারখানাটিতে উৎপাদিত টি-শার্ট জাপান, সুইজারল্যান্ড, নরওয়ে ও সুইডেনসহ বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হয় ও সমাদৃত। ফলে জনাব V-এর কারখানাটি একই সাথে একটি বৃহৎ শিল্প এবং শতভাগ রপ্তানিমুখী পোশাক শিল্পের প্রকৃতি ধারণ করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বাংলাদেশের অর্থনীতিতে উদ্দীপকে নির্দেশিত তৈরি পোশাক শিল্পের সম্ভাবনা অত্যন্ত উজ্জ্বল এবং তা জাতীয় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।
উদ্দীপকে উল্লেখিত কারখানাটি তৈরি পোশাক (আরএমজি) খাতের অন্তর্ভুক্ত, যা বর্তমানে বাংলাদেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড। বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক দেশ। উদ্দীপকে যেমন নরওয়ে, সুইজারল্যান্ড, জাপানের মতো অপ্রচলিত বাজারে রপ্তানির কথা বলা হয়েছে, তেমনি বর্তমান বাস্তবতায় নতুন নতুন আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের মাধ্যমে এ শিল্পের সম্প্রসারণের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রথমত, বাংলাদেশ একটি শ্রমঘন অর্থনীতির দেশ। এ খাতে বিপুল পরিমাণ দক্ষ ও আধা-দক্ষ শ্রমিক, বিশেষ করে নারী শ্রমিকের কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে। দ্বিতীয়ত, এটি দেশের মোট রপ্তানি আয়ের সিংহভাগ (প্রায় ৮০%-এর বেশি) জোগান দেয়, যা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করতে সবচেয়ে বড় অবদান রাখে। তৃতীয়ত, এ শিল্পের সাথে ব্যাকওয়ার্ড ও ফরোয়ার্ড লিংকেজ শিল্প যেমন সুতা, বোতাম, প্যাকেজিং, পরিবহন ও ব্যাংকিং খাতের ব্যাপক বিকাশ ঘটে। ফলে পণ্যের বহুমুখীকরণ, কৃত্রিম তন্তুর পোশাক তৈরি এবং নতুন নতুন বাজার দখলের মাধ্যমে দেশের সামগ্রিক প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানে এ শিল্পের অপার সম্ভাবনা বিদ্যমান।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও