বাংলা ১ম পত্র • Combined Board • রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, বরিশাল বোর্ড ২০১৮
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে পাক-হানাদার বাহিনী নির্বিচারে অগণিত বাঙালিকে হত্যা করে। দেশে এমন অরাজকতা দেখে তরুণ যুবক রফিক আর চুপ থাকতে পারে না। অপরিসীম সাহস নিয়ে সে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। জীবনের মায়া ত্যাগ করে দেশ ও দশের কল্যাণে সে নিজেকে উৎসর্গ করে।
- ক)(1)
ছাড়পত্র' কাব্যগ্রন্থটি কত সালে প্রকাশিত হয়?
- খ)(2)
কবি কেন যৌবনশক্তির জয়গান করেছেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকের রফিক 'আঠারো বছর বয়স' কবিতার কোন বৈশিষ্ট্যের প্রতিনিধিত্ব করে- ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
"আত্মত্যাগ ও মানব কল্যাণ 'আঠারো বছর বয়স' কবিতার আলোকে উক্তিটির তাৎপর্য মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সুকান্ত ভট্টাচার্যের 'ছাড়পত্র' কাব্যগ্রন্থটি ১৯৪৭ সালে প্রকাশিত হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যৌবনশক্তি অদম্য, তেজস্বী ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন বলে কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য যৌবনশক্তির জয়গান করেছেন।
'আঠারো বছর বয়স' কবিতায় কবি দেখিয়েছেন যে এ বয়সের তরুণরা বাধা-বিপদ তুচ্ছ করে সামনে এগিয়ে চলে। তাদের রক্তে রয়েছে অন্যায়ের প্রতিবাদ করার প্রবল তেজ এবং নতুনকে বরণ করে নেওয়ার ক্ষমতা। দেশ ও জাতির নবযাত্রায় যৌবনের এই অপরাজেয় ও কল্যাণমুখী শক্তির বিকল্প নেই বলেই কবি যৌবনের জয়গান গেয়েছেন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের রফিক 'আঠারো বছর বয়স' কবিতার তরুণদের নির্ভীকতা, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ এবং দেশের জন্য আত্মত্যাগের বৈশিষ্ট্যের প্রতিনিধিত্ব করে।
'আঠারো বছর বয়স' কবিতায় কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য উল্লেখ করেছেন যে এ বয়সে তরুণেরা কোনো বাধাকে পরোয়া করে না। তারা অন্যায়ের প্রতিবাদে শপথে দীপ্ত হয়, নিজের প্রাণ অকাতরে বিসর্জন দিয়ে দেশ ও দশের কল্যাণে ঝাঁপিয়ে পড়ে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নারকীয় হত্যাকাণ্ড ও দেশের অরাজকতা দেখে যুবক রফিক নীরব থাকতে পারেনি। সে অপরিসীম সাহস নিয়ে দেশ ও মানুষের মুক্তির জন্য মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয় এবং নিজের জীবনের মায়া ত্যাগ করে আত্মোৎসর্গ করে। রফিকের এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো এবং দেশের মঙ্গলে প্রাণ উৎসর্গ করার মানসিকতা 'আঠারো বছর বয়স' কবিতার সেই তেজস্বী ও নির্ভীক তরুণদের বৈশিষ্ট্যেরই প্রতিফলন।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"আত্মত্যাগ ও মানবকল্যাণই আঠারো বছর বয়সের মূল সুর"—উক্তিটি 'আঠারো বছর বয়স' কবিতার আলোকে অত্যন্ত যথার্থ ও তাৎপর্যপূর্ণ।
'আঠারো বছর বয়স' কবিতায় কবি দেখিয়েছেন যে এ বয়স কেবল আবেগ ও চঞ্চলতার নয়, বরং এটি আত্মত্যাগ, দেশপ্রেম ও মানবকল্যাণের দৃঢ় শপথে বলীয়ান হওয়ার বয়স। এ বয়সের যুবকেরা সমস্ত বাধা-বিপত্তি অতিক্রম করে দেশের দুর্যোগে এগিয়ে আসে এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করে প্রয়োজনে প্রাণ দিতেও কুণ্ঠাবোধ করে না।
উদ্দীপকের রফিক মুক্তিযুদ্ধের মতো এক সংকটময় মুহূর্তে পাকিস্তানি বাহিনীর বর্বরতা দেখে নিজেকে গুটিয়ে রাখতে পারেনি। সে নিজের ভবিষ্যৎ ও জীবনের মায়া তুচ্ছ করে দেশ ও মানুষের কল্যাণে নিজেকে উৎসর্গ করে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। রফিকের এই আত্মত্যাগ 'আঠারো বছর বয়স' কবিতার মূল ভাবধারার সাথে সরাসরি সঙ্গতিপূর্ণ।
কবিতায়ও তরুণ সমাজকে সব জরা, ভীরুতা ও অন্যায় দূর করে দেশমাতৃকার কল্যাণে আত্মাহুতি দিতে দেখা যায়। তারা আত্মত্যাগের মধ্য দিয়েই সমষ্টির মুক্তি ও কল্যাণ নিশ্চিত করে। উদ্দীপকের রফিকের কর্মপ্রচেষ্টা এবং কবিতার মূল বার্তা উভয়ই প্রমাণ করে যে স্বার্থপরতা ভুলে দেশ ও মানবতার সেবায় নিজের জীবন উৎসর্গ করাই আঠারো বছর বয়সের প্রধান ও মহৎ আদর্শ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও