জীববিজ্ঞান ২য় পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২৫

জীববিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন

জনাব পলাশ হঠাৎ তার বুকে ব্যথা অনুভব করল। ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেলে ডাক্তার পরীক্ষা নিরীক্ষা করে তাকে বললেন যে তার করোনারিধমনীর লুমেন প্রশস্ত করা জরুরি।

  1. ক)

    সমারসল্টিং চলন কী?

    (1)
  2. খ)

    পোর্টাল সংবহনতন্ত্র বলতে কী বুঝ?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে ডাক্তার যে চিকিৎসার কথা বললেন তা বর্ণনা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    চিকিৎসাটি বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে কতটুকু নিরাপদ তা ব্যাখ্যা কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সমারসল্টিং (Somersaulting) বা ডিগবাজি হলো হাইড্রার দ্রুত চলার এক বিশেষ প্রক্রিয়া, যেখানে দেহকে বাঁকিয়ে কর্ষিকার সাহায্যে পদতলকে অতিক্রম করে বিপরীতমুখী ডিগবাজি খাওয়ার মাধ্যমে চলন সম্পন্ন হয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যে রক্ত সংবহনতন্ত্রে রক্ত কোনো অঙ্গের রক্তজালক থেকে উৎপন্ন হয়ে সরাসরি হৃৎপিণ্ডে না গিয়ে মধ্যবর্তী অন্য কোনো অঙ্গে (যেমন- যকৃত বা বৃক্ক) দ্বিতীয়বার রক্তজালকে বিভক্ত হয়, তাকে পোর্টাল সংবহনতন্ত্র বলে। যেমন— হেপাটিক পোর্টাল তন্ত্র। এর মাধ্যমে পরিপাকতন্ত্র থেকে শোষিত খাদ্য উপাদান সরাসরি হৃৎপিণ্ডে না গিয়ে প্রথমে প্রক্রিয়াকরণের জন্য যকৃতে পৌঁছায়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বর্ণিত জনাব পলাশের করোনারি ধমনীর লুমেন প্রশস্ত করার জন্য ডাক্তার এনজিওপ্লাস্টি (Angioplasty) চিকিৎসার কথা বলেছেন।

    করোনারি ধমনীতে চর্বি বা প্লাক জমে লুমেন সংকুচিত হয়ে রক্তপ্রবাহে বাধা সৃষ্টি করলে এনজিওপ্লাস্টির মাধ্যমে তা প্রশস্ত করা হয়। এটি একটি শল্যচিকিৎসা ছাড়াই রক্তনালি খুলে দেওয়ার আধুনিক পদ্ধতি। এর ধাপগুলো নিম্নরূপ:
    ১. ক্যাথেটার প্রবেশ করানো: সাধারণত রোগীর কুঁচকির ফিমোরাল ধমনী বা হাতের রেডিয়াল ধমনী দিয়ে একটি সরু ও নমনীয় নল বা ক্যাথেটার করোনারি ধমনীর সংকীর্ণ স্থানে প্রবেশ করানো হয়।
    ২. বেলুন সম্প্রসারণ: ক্যাথেটারের অগ্রভাগে থাকা ছোট্ট বেলুনটিকে সংকীর্ণ অংশে স্থাপন করে বিশেষ তরল দ্বারা স্ফীত করা হয়। বেলুনটি প্রসারিত হয়ে লুমেনের প্লাক বা চর্বিকে প্রাচীরের দিকে চেপে ধরে রক্তনালিটিকে প্রশস্ত করে।
    ৩. স্টেন্ট স্থাপন: বর্তমান চিকিৎসায় বেলুনের সাথে প্রায়ই একটি ধাতব জালির রিং বা স্টেন্ট (Stent) সংকুচিত অবস্থায় যুক্ত থাকে। বেলুন ফোলানোর সাথে সাথে স্টেন্টটি খুলে রক্তনালির প্রাচীরে বসে যায় এবং রক্তনালিকে পুনরায় সংকুচিত হতে বাধা দেয়।
    ৪. ক্যাথেটার অপসারণ: পরিশেষে বেলুনের বাতাস বের করে ক্যাথেটারটি শরীর থেকে বের করে আনা হয়, ফলে রক্তপ্রবাহ স্বাভাবিক হয়ে যায়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে নির্দেশিত চিকিৎসা পদ্ধতিটি হলো এনজিওপ্লাস্টি (বিশেষ করে স্টেন্টিং বা রিং পরানো)। বাংলাদেশের বর্তমান চিকিৎসা ব্যবস্থার প্রেক্ষাপটে এটি অত্যন্ত সফল, গ্রহণযোগ্য এবং যথেষ্ট নিরাপদ একটি আধুনিক চিকিৎসাপদ্ধতি।

    নিরাপত্তা ও সাফল্যের দিকসমূহ:
    ১. ওপেন হার্ট সার্জারি বা বাইপাসের ঝুঁকি এড়ানো: এনজিওপ্লাস্টিতে বুক কাটতে হয় না এবং জেনারেল অ্যানেসথেসিয়ার ঝুঁকিও থাকে না। ফলে রোগী খুব দ্রুত (১-২ দিনের মধ্যে) সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরতে পারেন।
    ২. আধুনিক প্রযুক্তি ও দক্ষ জনবল: বাংলাদেশের জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটসহ সরকারি ও বেসরকারি অসংখ্য হাসপাতালে বিশ্বমানের ক্যাথল্যাব এবং দক্ষ কার্ডিওলজিস্ট রয়েছেন, যা চিকিৎসাটিকে উচ্চমাত্রায় সফল করেছে।
    ৩. ওষুধযুক্ত স্টেন্ট (Drug-Eluting Stents): আধুনিক স্টেন্ট ব্যবহারের কারণে রক্তনালি পুনরায় সংকীর্ণ (Restenosis) হওয়ার ঝুঁকি অনেক কমে গেছে।

    তবে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এর কিছু সীমাবদ্ধতা ও ঝুঁকি বিদ্যমান:
    ১. চিকিৎসা পরবর্তী জটিলতা: রক্তপাত, সংক্রমণ কিংবা ধমনীর ভেতরের প্রাচীর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ক্ষীণ ঝুঁকি থাকে।
    ২. ব্যয়বহুলতা: স্টেন্ট বা রিংয়ের দাম এবং সার্বিক চিকিৎসার খরচ বাংলাদেশের সাধারণ ও নিম্নবিত্ত মানুষের জন্য বেশ ব্যয়বহুল।
    ৩. নিয়মিত ফলোআপের ঘাটতি: রোগ মুক্তির পরও রক্ত তরলীকরণ ওষুধ সেবন এবং নিয়মমাফিক চেকআপ জরুরি, যা অসচেতনতার কারণে অনেক সময় ব্যাহত হয়।

    সুতরাং উপযুক্ত হাসপাতাল নির্বাচন, অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞ এবং নিয়মিত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এনজিওপ্লাস্টি একটি অত্যন্ত কার্যকর ও নিরাপদ চিকিৎসা।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন