ইতিহাস ২য় পত্র • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৩
ইতিহাস ২য় পত্র প্রশ্ন
দুই প্রতিবেশীর সম্পদ ও শক্তির সমতা থাকার জন্য বিভিন্ন বিষয় নিয়ে পরস্পরের মধ্যে বিরোধ থাকলেও তারা সরাসরি সংঘর্ষে জড়াতো না। তবে দীর্ঘদিন ধরে তাদের মধ্যে বৈরী সম্পর্ক বিরাজমান।
- ক)(1)
জোট নিরপেক্ষ আন্দোলনের সূচনা হয় কোন দেশে?
- খ)(2)
'গ্লাসনস্ত' বলতে কী বোঝ?
- গ)(3)
উদ্দীপকের সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন ঘটনার মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা করো
- ঘ)(4)
তুমি কি মনে কর, উল্লিখিত পরিস্থিতি বিশ্ব রাজনীতিকে দ্বি-মেরুকেন্দ্রিক করে ফেলে? যুক্তি দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জোট নিরপেক্ষ আন্দোলনের (NAM) সূচনা হয় সাবেক যুগোস্লাভিয়ার রাজধানী বেলগ্রেডে (১৯৬১ সালে প্রথম শীর্ষ সম্মেলনের মাধ্যমে)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'গ্লাসনস্ত' (Glasnost) একটি রুশ শব্দ, যার অর্থ 'খোলামেলা নীতি' বা 'উন্মুক্ততা'।
সোভিয়েত ইউনিয়নের অর্থনীতি ও সমাজতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থাকে পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্যে ১৯৮০-এর দশকের মাঝামাঝি তৎকালীন সোভিয়েত প্রেসিডেন্ট মিখাইল গর্বাচেভ যে সংস্কার কর্মসূচি ঘোষণা করেন, তার অন্যতম নীতি ছিল গ্লাসনস্ত। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল মতপ্রকাশের স্বাধীনতা প্রদান, গণমাধ্যমের ওপর থেকে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ শিথিল করা এবং সরকারের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের সাথে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী বিশ্ব ইতিহাসের 'স্নায়ুযুদ্ধ' বা 'ঠাণ্ডা লড়াই' (Cold War)-এর মিল রয়েছে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, দুই প্রতিবেশীর শক্তি ও সম্পদের সমতা থাকায় বিরোধ থাকা সত্ত্বেও তারা সরাসরি সংঘর্ষে জড়ায় না, তবে দীর্ঘকাল বৈরী সম্পর্ক বজায় রাখে। ইতিহাসের প্রেক্ষাপটে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়ন বিশ্বের দুটি পরাশক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। উভয় পক্ষই পরমাণু অস্ত্র ও আধুনিক সামরিক শক্তিতে বলীয়ান হওয়ায় সরাসরি কোনো তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধে লিপ্ত হয়নি, কারণ এতে পারস্পরিক সম্পূর্ণ ধ্বংস অনিবার্য ছিল। কিন্তু পুঁজিবাদী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সমাজতান্ত্রিক সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যে দীর্ঘকাল ধরে আদর্শিক দ্বন্দ্ব, প্রতিযোগিতা, পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতা ও ছায়াযুদ্ধ বজায় ছিল, যা ইতিহাসে 'ঠাণ্ডা লড়াই' বা 'স্নায়ুযুদ্ধ' নামে পরিচিত।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হ্যাঁ, আমি মনে করি, উল্লিখিত পরিস্থিতি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী বিশ্ব রাজনীতিকে স্পষ্টত দ্বি-মেরুকেন্দ্রিক (Bipolar) করে তুলেছিল।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অবসানের পর ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জার্মানির প্রভাব হ্রাস পায় এবং বিশ্ব রাজনীতিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়ন— এই দুটি পরাশক্তির একক প্রাধান্য প্রতিষ্ঠিত হয়। বিশ্ব রাজনীতি মূলত এই দুটি পরাশক্তির নেতৃত্বাধীন দুই ভিন্ন আদর্শিক ও সামরিক ব্লকে বিভক্ত হয়ে পড়ে:
১. পুঁজিবাদী ও গণতান্ত্রিক বলয়: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে পুঁজিবাদী দেশগুলো একত্রিত হয়ে 'ন্যাটো' (NATO) সামরিক জোট গঠন করে।
২. সমাজতান্ত্রিক বলয়: সোভিয়েত ইউনিয়নের নেতৃত্বে পূর্ব ইউরোপের সমাজতান্ত্রিক দেশগুলো নিয়ে 'ওয়ারশ প্যাক্ট' (Warsaw Pact) গঠিত হয়।এই পরিস্থিতিতে বিশ্বের প্রায় প্রতিটি সংকট ও আঞ্চলিক বিরোধে কোনো না কোনোভাবে এই দুটি পরাশক্তি জড়িয়ে পড়ে এবং অন্যান্য দেশগুলোও তাদের প্রভাববলয়ে বিভক্ত হয়ে যায়। ফলে সমগ্র আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা দুই পরাশক্তির প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে পরিচালিত হতে থাকে, যা আন্তর্জাতিক সম্পর্ককে একটি সুস্পষ্ট দ্বি-মেরুকেন্দ্রিক রূপ দান করেছিল। ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পূর্ব পর্যন্ত এই দ্বি-মেরুকেন্দ্রিক ব্যবস্থার অস্তিত্ব বজায় ছিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও