পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র • মূল্যবোধ, আইন, স্বাধীনতা ও সাম্য • দিনাজপুর সরকারি কলেজ • দিনাজপুর সরকারি কলেজ টেস্ট পরীক্ষা ২০২৫
পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র প্রশ্ন
সুমনা ও রোমেল জাফলং এলাকার একটি পাথরভাঙা কারখানায় কাজ করে। দুইজনের কাজই হলো টুকরা পাথর ট্রাক বোঝাই করা। দুইজনের সমান কাজ হলেও সপ্তাহ শেষে সুমনাকে কম মজুরি দেওয়া হয়। এটি সুমনাকে বেশ পীড়া দেয়।
- ক)(1)
স্বাধীনতা কী?
- খ)(2)
সাংবিধানিক আইন বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
সুমনা কোন ধরনের সাম্য থেকে বঞ্চিত? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
'সুমনা যে ধরনের সাম্য হতে বঞ্চিত সেটি ব্যতীত রাজনৈতিক 'সাম্য অর্থহীন'- উদ্দীপকের আলোকে বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সাধারণ অর্থে স্বাধীনতা বলতে মানুষের ইচ্ছানুযায়ী কোনো কিছু করার বা না করার অবাধ অধিকারকে বোঝায়; তবে পৌরনীতিতে স্বাধীনতা বলতে অন্যের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ না করে নিজের ব্যক্তিত্ব বিকাশের উপযোগী পরিবেশ ও অধিকার ভোগ করাকে বোঝায়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যেসব আইন কোনো রাষ্ট্রের সংবিধানে লিপিবদ্ধ থাকে এবং যার মাধ্যমে রাষ্ট্রের গঠন, সরকারের বিভিন্ন বিভাগের ক্ষমতা ও তাদের মধ্যকার পারস্পরিক সম্পর্ক এবং নাগরিক ও রাষ্ট্রের মধ্যকার অধিকার-দায়িত্ব নির্ধারিত হয়, তাকে সাংবিধানিক আইন বলে। এটি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ মৌলিক আইন, যার পরিপন্থী কোনো সাধারণ আইন প্রণয়ন করা যায় না।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের সুমনা 'অর্থনৈতিক সাম্য' থেকে বঞ্চিত হয়েছে।
অর্থনৈতিক সাম্য বলতে বোঝায় যোগ্যতা ও শ্রম অনুযায়ী উপযুক্ত পারিশ্রমিক বা কাজ পাওয়ার অধিকার এবং সমাজে সম্পদের সুষম বণ্টন, যেখানে কোনো প্রকার শোষণ ও বৈষম্য থাকবে না। সমান কাজের জন্য সমান মজুরি অর্থনৈতিক সাম্যের একটি প্রধান শর্ত।
উদ্দীপকে দেখা যায়, সুমনা ও রোমেল দুজনেই জাফলং এলাকার একটি পাথরভাঙা কারখানায় ট্রাক বোঝাই করার একই কাজ করে। কিন্তু নারী হওয়ায় বা বৈষম্যের শিকার হয়ে সপ্তাহ শেষে সুমনাকে রোমেলের চেয়ে কম মজুরি প্রদান করা হয়। একই কাজের জন্য সুমনাকে কম পারিশ্রমিক দিয়ে তাকে তার ন্যায্য প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। সুতরাং, সুমনা অর্থনৈতিক সাম্য থেকে বঞ্চিত হয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'সুমনা যে ধরনের সাম্য হতে বঞ্চিত সেটি ব্যতীত রাজনৈতিক সাম্য অর্থহীন'- উক্তিটি যথার্থ ও যৌক্তিক।
উদ্দীপকে সুমনা 'অর্থনৈতিক সাম্য' থেকে বঞ্চিত হয়েছে। অর্থনৈতিক সাম্য ছাড়া কোনো নাগরিকের পক্ষেই রাজনৈতিক অধিকার ও সাম্য যথাযথভাবে ভোগ করা সম্ভব নয়।
রাজনৈতিক সাম্য বলতে বোঝায় নির্বাচনে ভোটদান, নির্বাচিত হওয়া এবং সরকারি চাকরিতে নিয়োগ লাভের সমান অধিকার। কিন্তু একজন মানুষ যদি অর্থনৈতিকভাবে অনগ্রসর, দরিদ্র বা পারিশ্রমিক থেকে বঞ্চিত হয়, তবে তার পক্ষে রাজনৈতিক অধিকারগুলোর সঠিক প্রয়োগ সম্ভব হয় না। ক্ষুধার্ত বা অর্থনৈতিকভাবে পরনির্ভরশীল ব্যক্তির কাছে ভোটাধিকার বা রাজনৈতিক সচেতনতার মূল্য থাকে না। লাস্কির মতে, "অর্থনৈতিক সাম্য ব্যতীত রাজনৈতিক স্বাধীনতা বা সাম্য অর্থহীন ও মায়ামরীচিকা মাত্র।"
উদ্দীপকে সুমনা সমান কাজ করেও কম মজুরি পাওয়ায় মানসিক ও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এরূপ অর্থনৈতিক বঞ্চনা বজায় থাকলে একজন ব্যক্তি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে নিরপেক্ষভাবে অংশ নিতে পারে না এবং ক্ষমতাবান বা বিত্তবানদের দ্বারা শোষিত ও প্রভাবিত হতে বাধ্য হয়।
অতএব, সুমনার মতো নাগরিকদের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সাম্য নিশ্চিত করা না গেলে তাদের রাজনৈতিক সাম্য বাস্তবে কোনো সুফল এনে দিতে পারে না। তাই বলা যায়, অর্থনৈতিক সাম্য ব্যতীত রাজনৈতিক সাম্য অর্থহীন।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও