পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র • নাগরিক অধিকার ও কর্তব্য এবং মানবাধিকার • দিনাজপুর সরকারি কলেজ • দিনাজপুর সরকারি কলেজ টেস্ট পরীক্ষা ২০২৫
পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র প্রশ্ন
জনাব আসলাম ক্লাসে বলেন যে, অধিকার ও কর্তব্য সুখ-দুঃখের ন্যায় একে অপরের সাথে সম্পর্কযুক্ত। একজনের নিকট যেটা তার অধিকার অন্যজনের কাছে সেটা তার কর্তব্য। এ কথাটি বোঝানোর জন্য তিনি কয়েকটি উদাহরণ দিলেন। যেমন- সরকার তোমাদের জন্য শিক্ষার ব্যবস্থা করেছেন। এটি সরকারের কর্তব্য আর তোমাদের জন্য শিক্ষা হলো অধিকার।
- ক)(1)
বাংলাদেশের তথ্য অধিকার আইন কবে প্রণীত হয়?
- খ)(2)
'গণতন্ত্রে বিরোধীদলকে ছায়া সরকার বলা হয়'- ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকে আলোচিত বিষয়টির স্বরূপ আলোচনা কর।
- ঘ)(4)
'অধিকারের মধ্যেই কর্তব্য নিহিত'- বক্তব্যটির সাথে তুমি কি একমত? যুক্তি দেখাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বাংলাদেশে ২০০৯ সালের ৫ এপ্রিল 'তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯' প্রণীত হয় (এবং ৬ এপ্রিল গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় প্রধান বিরোধীদল সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করে, ভুলত্রুটি ধরিয়ে দেয় এবং বিকল্প নীতি উপস্থাপন করে সংসদকে কার্যকর রাখে। তারা সংসদীয় কার্যক্রমে বিকল্প সরকারের মতো সদা প্রস্তুত থাকে বলে বিরোধীদলকে 'ছায়া সরকার' (Shadow Government) বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে অধিকার ও কর্তব্যের পারস্পরিক সম্পর্ক আলোচিত হয়েছে।
অধিকার ও কর্তব্য মূলত একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। রাষ্ট্রপ্রদত্ত যেসব সুযোগ-সুবিধা ব্যক্তির ব্যক্তিত্ব বিকাশে অপরিহার্য, তা হলো অধিকার; আর এই অধিকার ভোগের বিনিময়ে রাষ্ট্রের বা সমাজের প্রতি ব্যক্তির যে দায়িত্ব পালন করতে হয়, তা হলো কর্তব্য।
উদ্দীপকে শিক্ষক জনাব আসলাম উল্লেখ করেছেন যে, অধিকার ও কর্তব্য সুখ-দুঃখের মতো ওতপ্রোতভাবে জড়িত। একজনের অধিকার যেখানে শেষ হয়, অন্যের কর্তব্য সেখানে শুরু হয়। যেমন—নাগরিক হিসেবে শিক্ষাপ্রাপ্তি যদি শিক্ষার্থীদের অধিকার হয়, তবে নাগরিকদের জন্য শিক্ষার উপযুক্ত পরিবেশ ও প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা রাষ্ট্রের একটি কর্তব্য। আবার রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ এবং সমাজ গঠনে অবদান রাখা নাগরিকের কর্তব্য। এভাবে অধিকার ভোগ করতে গেলেই কর্তব্যের সৃষ্টি হয়, যা উদ্দীপকের মূল বক্তব্য।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'অধিকারের মধ্যেই কর্তব্য নিহিত'- বক্তব্যটির সাথে আমি সম্পূর্ণরূপে একমত।
অধিকার ও কর্তব্যের সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড় ও অবিভাজ্য। নাগরিকের প্রতিটি অধিকারের ভেতরেই একটি সুনির্দিষ্ট কর্তব্য সুপ্ত বা অন্তর্নিহিত থাকে।
প্রথমত, নিজের অধিকার ভোগের ক্ষেত্রে অন্যের অনুরূপ অধিকারের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা একটি প্রধান কর্তব্য। আমি যদি আমার মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ভোগ করতে চাই, তবে অন্যের মতপ্রকাশের স্বাধীনতাও মেনে নেওয়া আমার কর্তব্য। দ্বিতীয়ত, সমাজ ও রাষ্ট্রপ্রদত্ত সুযোগ-সুবিধা বা অধিকার অবাধে ভোগ করার সাথে সাথে রাষ্ট্রের নিয়মকানুন মানা, সময়মতো কর দেওয়া এবং রাষ্ট্রীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখা অপরিহার্য কর্তব্য হয়ে দাঁড়ায়। অধিকার ছাড়া কর্তব্য এবং কর্তব্য ছাড়া অধিকার কোনো অর্থ বহন করে না।
উদ্দীপকে যেমন বলা হয়েছে—সরকার কর্তৃক শিক্ষার ব্যবস্থা করা রাষ্ট্রের কর্তব্য এবং তা গ্রহণ করা শিক্ষার্থীর অধিকার; তেমনি শিক্ষা অর্জন শেষে দেশের সার্বিক উন্নয়নে অবদান রাখা ও সুনাগরিক হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলা শিক্ষার্থীর কর্তব্য হয়ে ওঠে।
অতএব, উপরিউক্ত আলোচনা থেকে স্পষ্ট প্রতীয়মান হয় যে, অধিকার কখনোই কর্তব্যহীন হতে পারে না এবং অধিকারের ভেতরেই কর্তব্যের বীজ নিহিত থাকে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও