‍পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র • দেশপ্রেম ও জাতীয়তা • দিনাজপুর সরকারি কলেজ • দিনাজপুর সরকারি কলেজ টেস্ট পরীক্ষা ২০২৫

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র প্রশ্ন

কোনো জনসমাজের মধ্যে ভাষা, ধর্ম, বংশ, ইতিহাস-ঐতিহ্য প্রভৃতি মিল থাকার কারণে তাদের এক ধরনের মানসিক অনুভূতির সৃষ্টি হয়। এ অনুভূতির জন্য যুগে যুগে বিভিন্ন জনগোষ্ঠী একতাবদ্ধ হয়ে স্বাধীন জাতিতে পরিণত হয়েছে। আবার কখনো প্রচলিত রাষ্ট্র বা আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার প্রতি হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

  1. ক)

    জাতি বলতে কী বোঝ?

    (1)
  2. খ)

    জাতি ও জাতীয়তার পার্থক্য নির্ণয় কর।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে কোন মানসিক অনুভূতির কথা বলা হয়েছে? এর উপাদানসমূহ বর্ণনা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    'এ অনুভূতি কখনো কখনো সভ্যতার প্রতি, হুমকি হয়ে দাঁড়ায়'-বক্তব্যটি বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    জাতি হলো রাজনৈতিকভাবে সচেতন এবং নিজস্ব স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনকারী বা গঠনের জন্য ঐক্যবদ্ধ একটি জনসমাজ।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    জাতি ও জাতীয়তার মধ্যে প্রধান পার্থক্যগুলো হলো:
    ১. জাতীয়তা হলো মূলত একটি মনস্তাত্ত্বিক অনুভূতি—যেখানে একাত্মবোধ থাকে কিন্তু রাজনৈতিক সংগঠন বা স্বাধীনতা নাও থাকতে পারে।
    ২. জাতি হলো রাজনৈতিকভাবে সংগঠিত ও স্বাধীন বা স্বাধীনতাকামী রূপ। অর্থাৎ, জাতীয়তাবোধের সাথে রাজনৈতিক সচেতনতা ও রাষ্ট্র গঠনের আকঙ্ক্ষা যুক্ত হলে তা জাতিতে পরিণত হয় (জাতীয়তা + রাজনৈতিক চেতনা/স্বাধীনতা = জাতি)।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে 'জাতীয়তাবোধ' বা 'জাতীয়তা' নামক মানসিক অনুভূতির কথা বলা হয়েছে।

    জাতীয়তার প্রধান উপাদানসমূহ নিম্নরূপ:
    ১. বংশগত ঐক্য: একই রক্তের সম্পর্ক বা বংশের ধারণা মানুষের মধ্যে গভীর ঐক্যের জন্ম দেয়।
    ২. ভাষাগত ঐক্য: মাতৃভাষা মনের ভাব আদান-প্রদান এবং সংহতির সবচেয়ে শক্তিশালী মাধ্যম।
    ৩. ধর্মীয় ঐক্য: এক ধর্মাবলম্বী মানুষের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই একাত্মবোধ গড়ে ওঠে।
    ৪. ভৌগোলিক ঐক্য: একটি নির্দিষ্ট ভূখণ্ডে দীর্ঘকাল একসঙ্গে বসবাসের ফলে গভীর সংযোগ তৈরি হয়।
    ৫. ইতিহাস ও ঐতিহ্যগত ঐক্য: অভিন্ন ঐতিহাসিক সংগ্রাম, বিজয় বা পরাজয় এবং সংস্কৃতির অভিন্নতা জাতীয়তাবোধ সৃষ্টির অন্যতম চালিকাশক্তি।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের বক্তব্যটি উগ্র বা অন্ধ জাতীয়তাবাদের ক্ষেত্রে যথার্থ; কেননা উগ্র জাতীয়তাবাদী অনুভূতি সভ্যতার জন্য চরম হুমকি হয়ে দাঁড়ায়।

    সাধারণ জাতীয়তাবাদ জাতিকে স্বাধীন করতে উদ্বুদ্ধ করে এবং দেশপ্রেম জাগ্রত করে। কিন্তু এই অনুভূতি যখন সংকীর্ণ, অন্ধ ও উগ্র রূপ ধারণ করে, তখন তা অন্য জাতি ও রাষ্ট্রের অস্তিত্ব অস্বীকার করে এবং নিজেকে শ্রেষ্ঠ মনে করতে শুরু করে।

    ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, চরম জাতীয়তাবাদের উন্মাদনায় বিশ্বযুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল। জার্মানির হিটলারের নাৎসিবাদ ও ইতালির মুসোলিনির ফ্যাসিবাদের ভিত্তি ছিল উগ্র জাতীয়তাবাদ, যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সূচনা করে কোটি কোটি মানুষের জীবন ধ্বংস করেছিল এবং বিশ্বসভ্যতাকে বিপন্ন করেছিল। উগ্র জাতীয়তাবাদ বর্ণবাদ, আধিপত্যবাদ, জাতিগত নিধন ও সংঘাতের জন্ম দেয়, যা আন্তর্জাতিক শান্তি, মানবতা ও বিশ্বশান্তির চরম পরিপন্থী।

    অতএব, সংযত ও উদার জাতীয়তাবাদ ইতিবাচক হলেও, এর বিকৃত ও উগ্র রূপ বিশ্বসভ্যতার জন্য নিশ্চিতভাবেই একটি বড় হুমকি।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন