পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র • সরকার কাঠামো ও সরকারের অঙ্গসমূহ • দিনাজপুর সরকারি কলেজ • দিনাজপুর সরকারি কলেজ টেস্ট পরীক্ষা ২০২৫
পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র প্রশ্ন
নিচের উদ্দীপকটি পড় ও সংশ্লিষ্ট প্রশ্নের উত্তর দাও:
| শাসকের সংখ্যা | স্বাভাবিক রূপ | বিকৃত রূপ |
|---|---|---|
| একজনের শাসন | রাজতন্ত্র | স্বৈরতন্ত্র |
| কয়েকজনের শাসন | অভিজাততন্ত্র | ধনিকতন্ত্র |
| বহুজনের শাসন | মধ্যতন্ত্র | ’?’ |
- ক)(1)
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আইনসভার নাম কী?
- খ)(2)
রাজতন্ত্রের ২টি বৈশিষ্ট্য লেখ।
- গ)(3)
উপরের ছকে '?' চিহ্নিত স্থানে সরকারের রূপটির সফলতার কিছু পূর্বশর্ত ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
'?' চিহ্নিত স্থানের সরকারের রূপটিই আধুনিককালে সর্বশ্রেষ্ঠ সরকার- বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আইনসভার নাম কংগ্রেস (Congress)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
রাজতন্ত্রের দুটি প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো:
১. উত্তরাধিকারসূত্রে ক্ষমতা লাভ: এতে রাষ্ট্রপ্রধানের পদটি সাধারণত বংশানুক্রমিকভাবে হস্তান্তরিত হয়।
২. সার্বভৌম ক্ষমতার একক কেন্দ্র: শাসনব্যবস্থার সকল কর্তৃত্ব বা চূড়ান্ত ক্ষমতা রাজার বা একক শাসকের ওপর ন্যস্ত থাকে। - গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ছকে অ্যারিস্টটলের সরকার শ্রেণিবিভাগ প্রদর্শিত হয়েছে। অ্যারিস্টটলের মতে, বহুজনের শাসনের স্বাভাবিক রূপ হলো 'মধ্যতন্ত্র' বা পলিটি (Polity) এবং বিকৃত রূপ হলো 'গণতন্ত্র' বা ডেমোক্রেসি (Democracy)। অতএব, ছকের '?' চিহ্নিত স্থানের সরকার রূপটি হলো 'গণতন্ত্র'।
গণতন্ত্রের সফলতার কিছু গুরুত্বপূর্ণ পূর্বশর্ত নিম্নরূপ:
১. সুশিক্ষা ও সচেতনতা: নাগরিকদের শিক্ষিত ও রাজনৈতিকভাবে সচেতন হতে হবে, যাতে তারা যোগ্য প্রতিনিধি নির্বাচন করতে পারে।
২. সহনশীলতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধা: গণতন্ত্রে ভিন্নমত প্রকাশের সুযোগ ও সহনশীল মনোভাব থাকা অপরিহার্য।
৩. আইনের শাসন ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা: আইনের চোখে সবার সমতা নিশ্চিত করা এবং একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ বিচার ব্যবস্থা থাকা দরকার।
৪. অর্থনৈতিক সাম্য: ব্যাপক দারিদ্র্য ও বৈষম্য দূর করে মৌলিক চাহিদা নিশ্চিত করা গণতন্ত্রের সাফল্যের অন্যতম পূর্বশর্ত। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ছকের '?' চিহ্নিত রূপটি হলো 'গণতন্ত্র'। যদিও দার্শনিক অ্যারিস্টটল গণতন্ত্রকে বহুজনের স্বার্থান্বেষী বা বিকৃত শাসন হিসেবে আখ্যায়িত করেছিলেন, কিন্তু আধুনিককালে এটিই সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য সরকার ব্যবস্থা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত।
আধুনিক গণতন্ত্রের শ্রেষ্ঠত্বের কারণসমূহ:
১. জনগণের সার্বভৌমত্ব ও প্রতিনিধিত্ব: গণতন্ত্রে সার্বভৌম ক্ষমতার উৎস জনগণ। জনগণ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে নিজেদের প্রতিনিধি নির্বাচন করে সরকার গঠন করে।
২. মৌলিক অধিকার ও স্বাধীনতার নিশ্চয়তা: গণতন্ত্রে মানুষের বাক-স্বাধীনতা, চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা এবং মানবাধিকার সুরক্ষিত থাকে।
৩. আইনের শাসন ও সমতা: আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান—এই নীতি কার্যকর থাকে এবং শাসকের স্বেচ্ছাচারিতা প্রতিহত হয়।
৪. দায়িত্বশীল ও জবাবদিহিমূলক সরকার: সরকারকে নিয়মিত নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের কাছে ও আইনসভার কাছে জবাবদিহি করতে হয়।অতএব, জনগণের স্বাধীনতা, সমতা ও কল্যাণের নিশ্চয়তা দেয় বলে আধুনিক রাষ্ট্রচিন্তাবিদ ও জনগণের দৃষ্টিতে গণতন্ত্রই সর্বশ্রেষ্ঠ শাসনব্যবস্থা।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও