‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২৫

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন

১৯৫৩ সালে ৪টি রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে গঠিত নির্বাচনি জোট কতিপয় কর্মসূচি ঘোষণা করে জনমত সংগঠিত করে নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে।

  1. ক)

    পাকিস্তানের প্রথম গভর্নর জেনারেল কে ছিলেন?

    (1)
  2. খ)

    কতজন সদস্যের সমন্বয়ে পাকিস্তানের প্রথম গণপরিষদ গঠিত হয়েছিল?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের সাথে পঠিত কোন নির্বাচনের সাদৃশ্য আছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    তৎকালীন পাকিস্তানের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে উত্ত নির্বাচনের তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    পাকিস্তানের প্রথম গভর্নর জেনারেল ছিলেন মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    পাকিস্তানের প্রথম গণপরিষদ প্রাথমিকভাবে ৬৯ জন সদস্যের সমন্বয়ে গঠিত হয়েছিল। পরবর্তীতে দেশভাগের পর দেশত্যাগ ও জনসংখ্যার পুনর্বিন্যাসের কারণে এর সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধি করে ৭৯ জনে উন্নীত করা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের সাথে আমার পঠিত ১৯৫৪ সালের পূর্ব বাংলা প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনের সাদৃশ্য রয়েছে।

    ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগ সরকারের শোষণ, বঞ্চনা ও বাঙালি-বিরোধী নীতির বিরুদ্ধে ১৯৫৩ সালের ৪ ডিসেম্বর চারটি বিরোধী রাজনৈতিক দল—আওয়ামী মুসলিম লীগ, কৃষক-প্রমিক পার্টি, নেজামে ইসলাম এবং খেলাফতে রব্বানী সমন্বয়ে 'যুক্তফ্রন্ট' নামে একটি শক্তিশালী নির্বাচনি জোট গঠিত হয়। এই জোট ঐতিহাসিক '২১ দফা' কর্মসূচি ঘোষণা করে জনগণের ব্যাপক সমর্থন লাভ করে এবং নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে।

    উদ্দীপকেও দেখা যায়, ১৯৫৩ সালে ৪টি রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে গঠিত একটি নির্বাচনি জোট নির্দিষ্ট কর্মসূচি ঘোষণা করে জনমত সংগঠিত করে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। এটি ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের গঠন, তাদের ২১ দফা কর্মসূচি এবং নিরঙ্কুশ বিজয়ের প্রতিচ্ছবি। অতএব, উদ্দীপকের সাথে ১৯৫৪ সালের নির্বাচনের পূর্ণ সাদৃশ্য রয়েছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    তৎকালীন পাকিস্তানের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনের তাৎপর্য ছিল অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী এবং যুগান্তকারী।

    নিচে এর তাৎপর্য বিশ্লেষণ করা হলো:
    ১. মুসলিম লীগের ভরাডুবি: ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার নেতৃত্বদানকারী দল মুসলিম লীগ এই নির্বাচনে শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়। পূর্ব বাংলায় তাদের রাজনৈতিক আধিপত্য চিরতরে চূর্ণ হয়ে যায়।
    ২. বাঙালি জাতীয়তাবাদের বিকাশ: ১৯৫৪ সালের নির্বাচন ছিল বাঙালি জাতীয়তাবাদের প্রথম স্পষ্ট রাজনৈতিক বিজয়। ধর্মভিত্তিক রাজনীতির বিপরীতে ভাষা ও সংস্কৃতির ভিত্তিতে ধর্মনিরপেক্ষ বাঙালি জাতীয়তাবাদী চেতনা সুদৃঢ় হয়।
    ৩. ২১ দফার মাধ্যমে স্বায়ত্তশাসনের দাবি: যুক্তফ্রন্টের ২১ দফা কর্মসূচির অন্যতম প্রধান দাবি ছিল বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করা এবং পূর্ব বাংলার পূর্ণ আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসন। এই নির্বাচন জনগণের কাছে স্বাধিকারের রূপরেখাকে জনপ্রিয় করে তোলে।
    ৪. তরুণ ও মধ্যবিত্ত নেতৃত্বের উত্থান: এই নির্বাচনের মাধ্যমে পূর্ব বাংলায় অভিজাত শ্রেণির রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণের অবসান ঘটে এবং শেখ মুজিবুর রহমানের মতো তরুণ, প্রগতিশীল মধ্যবিত্ত রাজনৈতিক নেতৃত্বের বিকাশ ত্বরান্বিত হয়।
    ৫. স্বাধীনতা সংগ্রামের বীজ বপন: পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী নির্বাচনের মাত্র দুই মাসের মাথায় যুক্তফ্রন্ট সরকারকে অন্যায়ভাবে ভেঙে দিয়ে ৯২(ক) ধারা জারি করে গভর্নর শাসন চালু করে। এতে বাঙালিদের কাছে স্পষ্ট হয়ে যায় যে ঐক্যবদ্ধ পাকিস্তানে তাদের অধিকার সুরক্ষিত নয়, যা শেষ পর্যন্ত ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করেছিল।

    সুতরাং, ১৯৫৪ সালের নির্বাচন ছিল তৎকালীন পাকিস্তানের রাজনীতিতে বাঙালির স্বাধিকার ও গণতান্ত্রিক চেতনার এক ঐতিহাসিক টার্নিং পয়েন্ট।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন