বাংলা ১ম পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২৪
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
পিতৃ-মাতৃহারা, সহায়-সম্বলহীন মাহাবুবের জীবন চলার পথ দিশেহারা। বন্ধু রিপন এ সময় তারই এক আত্মীয়া নিঃসন্তান খালার বাড়িতে মাহাবুবের লেখা-পড়ার সুযোগ করে দেয়। মাহাবুব ভাগ্যের অন্বেষণে বিদেশ ঘুরে এখন প্রতিষ্ঠিত। সামাজিক জনহিতকর কাজে তার বেশ সুনাম রয়েছে। প্রতিবারের মতো গত ঈদের জাকাত প্রদানের দীর্ঘ লাইনে বাল্যবন্ধু রিপনকে দেখে বুকে টেনে নেয় মাহাবুব। সড়ক দুর্ঘটনায় পঙ্গু রিপনের বাকি জীবন চলার আর্থিক নিশ্চয়তার সংস্থান করে দেয় মাহাবুব। বন্ধুত্বের ঋণ শোধের তৃপ্ততায় মুগ্ধ রিপনও।
- ক)(1)
নবাব আলিবর্দি খাঁর প্রকৃত নাম কী?
- খ)(2)
"আমার সারা অস্তিত্ব জুড়ে কেবল যেন দেয়ালের ভিড়"-এর অর্থ কী?
- গ)(3)
উদ্দীপকের মাহাবুব এবং 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের মোহাম্মদি বেগের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের বৈপরীত্য দেখাও।
- ঘ)(4)
"উদ্দীপকের মাহাবুবের বন্ধুর প্রতি ঋণ শোধের তৃপ্ততা 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের মিরজাফর ও ক্লাইভের ঐক্যের মধ্যে নেই।" মন্তব্যটির যথার্থতা নিরূপণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
নবাব আলিবর্দি খাঁর প্রকৃত নাম মির্জা মুহম্মদ আলী।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"আমার সারা অস্তিত্ব জুড়ে কেবল যেন দেয়ালের ভিড়"—কথাটি দ্বারা নবাব সিরাজউদ্দৌলার চারপাশের চক্রান্ত ও অসহায়ত্বের তীব্র অনুভূতিকে বোঝানো হয়েছে।
নবাব সিরাজউদ্দৌলা সিংহাসনে আরোহণের পর থেকেই চারপাশের ঘনিষ্ঠ অমাত্য, সেনাপতি মিরজাফর ও আত্মীয়স্বজনদের বিশ্বাসঘাতকতা প্রত্যক্ষ করেন। চতুর্দিকে ইংরেজ ও দেশের স্বার্থপর ব্যক্তিদের গোপন চক্রান্তের ফলে নবাব কোনো দিক থেকেই ভরসা পাচ্ছিলেন না। তিনি অনুভব করছিলেন চারদিক থেকে যেন এক দুর্ভেদ্য দেওয়াল তাঁকে ঘিরে ফেলেছে, যেখান থেকে মুক্তির কোনো উপায় খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। নিজের এই রুদ্ধশ্বাস ও অসহায় মানসিক পরিস্থিতি বোঝাতেই তিনি উক্তিটি করেছিলেন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের মাহাবুব এবং 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের মোহাম্মদি বেগের মধ্যে কৃতজ্ঞতাবোধ ও নীতিগত আদর্শের দিক থেকে সুস্পষ্ট বৈপরীত্য বিদ্যমান।
উদ্দীপকের মাহাবুব চরম সংকটাপন্ন মুহূর্তে বন্ধু রিপনের সাহায্য নিয়ে পড়াশোনা করার সুযোগ পায় এবং পরবর্তীকালে প্রতিষ্ঠিত হয়ে পঙ্গু বন্ধুর পাশে দাঁড়িয়ে তার সারাজীবনের আর্থিক সংস্থান করে দেয়। অর্থাৎ মাহাবুব হলো একজন কৃতজ্ঞ, বিবেকবান ও পরোপকারী চরিত্র, যে উপকারের প্রতিদান উপকারের মাধ্যমে পরিশোধ করেছে।
অন্যদিকে, 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে মোহাম্মদি বেগ সম্পূর্ণ বিপরীত স্বভাবের চরিত্র। নবাব আলিবর্দি খাঁ মোহাম্মদি বেগকে শৈশবে লালন-পালন করে বড় করেছিলেন এবং নবাব পরিবার তার প্রতি চরম অনুগ্রহ প্রদর্শন করেছিল। কিন্তু ক্ষমতালোভী মীরনের সামান্য টাকার প্রলোভনে পড়ে মোহাম্মদি বেগ সেই উপকারের কথা ভুলে গিয়ে নির্মমভাবে নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে হত্যা করতে উদ্যত হয়। যেখানে মাহাবুবের মাঝে দেখা যায় চরম কৃতজ্ঞতাবোধ ও মানবিক মর্যাদা, সেখানে মোহাম্মদি বেগের মাঝে ফুটে উঠেছে চরম নিমকহারামি ও বিশ্বাসঘাতকতা। সুতরাং, মাহাবুব এবং মোহাম্মদি বেগ চরিত্র দুটির মাঝে গভীর চারিত্রিক বৈপরীত্য বিদ্যমান।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"উদ্দীপকের মাহাবুবের বন্ধুর প্রতি ঋণ শোধের তৃপ্ততা 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের মিরজাফর ও ক্লাইভের ঐক্যের মধ্যে নেই"—মন্তব্যটি যথার্থ।
উদ্দীপকে মাহাবুব ও রিপনের সম্পর্কটি নিখাদ বন্ধুত্ব, নিঃস্বার্থ ভালোবাসা ও মানবিকতার ওপর প্রতিষ্ঠিত। অসহায় মাহাবুব বন্ধুর সাহায্যে প্রতিষ্ঠিত হয়ে পরবর্তীকালে পঙ্গু বন্ধুর সাহায্যে এগিয়ে আসে এবং বন্ধুর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের মাধ্যমে এক অনাবিল আত্মতৃপ্তি লাভ করে। এখানে কোনো নীচ স্বার্থ বা কূটকৌশল নেই।
বিপরীতভাবে, 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে মিরজাফর ও লর্ড ক্লাইভের মধ্যে যে ঐক্য বা চুক্তি হয়েছিল, তা কোনো অকৃত্রিম বন্ধুত্ব বা ভালোবাসার ওপর গড়ে ওঠেনি; বরং তা ছিল স্বার্থপরতা, ক্ষমতার লোভ ও বিশ্বাসঘাতকতার এক কুৎসিত আঁতাত। মিরজাফরের লক্ষ্য ছিল সিরাজকে হটিয়ে নবাব হওয়া এবং ক্লাইভের লক্ষ্য ছিল বাণিজ্যের নামে বাংলার স্বাধীনতা হরণ ও সম্পদ লুণ্ঠন করা। এ ধরনের সুবিধাবাদী ঐক্যে না ছিল কোনো আন্তরিক তৃপ্তি, না ছিল পারস্পরিক শ্রদ্ধা। ক্ষমতার অপব্যবহার ও বিশ্বাসঘাতকতার এ বন্ধন শেষ পর্যন্ত আত্মঘাতী হয়েছিল।
অতএব, মাহাবুবের হৃদয়জাত নিঃস্বার্থ কৃতজ্ঞতা ও বন্ধুত্বের তৃপ্তির সাথে স্বার্থান্বেষী ও ষড়যন্ত্রমূলক মিরজাফর-ক্লাইভ ঐক্যের কোনো তুলনাই হতে পারে না। তাই প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি সম্পূর্ণ যথার্থ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও