সাহিত্য পাঠ • রেইনকোট • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৫

সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন

"তুমি আসবে বলে, হে স্বাধীনতা, সকিনা বিবির কপাল ভাঙলো, সিঁথির সিঁদুর মুছে গেল হরিদাসীর। তুমি আসবে বলে, হে স্বাধীনতা, শহরের বুকে জলপাই রঙের ট্যাঙ্ক এলো দানবের মত চিৎকার করতে করতে,তুমি আসবে বলে, হে স্বাধীনতা, ছাত্রাবাস, বস্তি উজার হলো।"

  1. ক)

    'রেইনকোট' গল্পে প্রিন্সিপালের পিওনের নাম কী?

    (1)
  2. খ)

    "এগুলো হলো পাকিস্তানের শরীরের কাঁটা।"-কোন প্রসঙ্গে এবং কেন বলা হয়েছে?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের সঙ্গে 'রেইনকোট' গল্পের সাদৃশ্য কোথায়? আলোচনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    "বাঙালিদের আত্মত্যাগই উদ্দীপক ও 'রেইনকোট' গল্পের মূল উপজীব্য।" মন্তব্যটির যথার্যতা বিচার করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    'রেইনকোট' গল্পে প্রিন্সিপালের পিওনের নাম ইসহাক।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    'রেইনকোট' গল্পে শহীদ মিনার প্রসঙ্গে এবং পাকিস্তানের অখণ্ডতার জন্য তা হুমকি বিবেচনা করে কথাটি বলা হয়েছে।

    পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের এদেশীয় দোসরদের (যেমন কলেজ অধ্যক্ষ ড. আফাজ আহমদ) দৃষ্টিতে বাঙালির ভাষা আন্দোলন ও স্বাধিকার চেতনার স্মারক শহীদ মিনার ছিল পাকিস্তান রাষ্ট্র ও ভাবাদর্শের জন্য বিপজ্জনক। তাই অধ্যক্ষ আফাজ আহমদ শহীদ মিনার ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়াকে পাকিস্তানের শরীর থেকে কাঁটা তুলে ফেলার সঙ্গে তুলনা করে এ মন্তব্য করেছিল।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের সাথে 'রেইনকোট' গল্পের ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকালীন পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নারকীয় ধ্বংসযজ্ঞ ও বাঙালি নিধনের নিষ্ঠুরতার দিক থেকে গভীর সাদৃশ্য রয়েছে।

    উদ্দীপকের কবিতাংশে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের পটভূমিতে পাকিস্তানি বাহিনীর ট্যাংক নিয়ে নারকীয় আক্রমণ, ছাত্রাবাস ও বস্তি উজার করা এবং সাধারণ মানুষের চরম ক্ষয়ক্ষতির করুণ চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।

    'রেইনকোট' গল্পেও একাত্তরের অবরুদ্ধ ঢাকার একই ভয়াল বাস্তবতা প্রতিফলিত হয়েছে। সেখানেও আমরা দেখি কীভাবে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী রাতের আঁধারে অতর্কিতে ট্যাংক নিয়ে আক্রমণ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হল, ইকবাল হল ধ্বংসস্তূপে পরিণত করে এবং সাধারণ মানুষকে নির্বিচারে হত্যা করে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল। পাকিস্তানি বাহিনীর এই বর্বর আগ্রাসন ও ভয়াবহ ধ্বংসলীলার উপস্থাপনায় উদ্দীপক ও 'রেইনকোট' গল্প পরস্পরের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    "বাঙালিদের আত্মত্যাগই উদ্দীপক ও 'রেইনকোট' গল্পের মূল উপজীব্য"—মন্তব্যটি পুরোপুরি যথার্থ।

    উদ্দীপকের কবিতাংশটিতে স্বাধীনতা অর্জনের জন্য বাঙালির সীমাহীন আত্মত্যাগের কথা বলা হয়েছে। পাকিস্তানি হানাদারদের বর্বরোচিত হামলায় সকিনা বিবির সম্ভ্রম ও স্বজন হারানোর হাহাকার, হরিদাসীর সিঁথির সিঁদুর মুছে যাওয়া তথা বিধবা হওয়া এবং সর্বস্তরের মানুষের জীবনের বিনিময়ে স্বাধীনতার রক্তিম পথ রচিত হওয়ার কথা উদ্দীপকে মূল ভাব হিসেবে প্রকাশ পেয়েছে।

    অন্যদিকে, 'রেইনকোট' গল্পে সাধারণ বাঙালি প্রভাষক নুরুল হুদার রূপান্তর ও চরম আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে সামগ্রিক মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রকাশ ঘটেছে। মুক্তিযোদ্ধা শ্যালক মিন্টুর রেইনকোটটি গায়ে চড়িয়ে নুরুল হুদা মানসিক রূপান্তরের মাধ্যমে অসীম সাহসী হয়ে ওঠেন। পাকিস্তানি মিলিটারির হাতে ধরা পড়ে অমানুষিক নির্যাতনের শিকার হওয়া সত্ত্বেও তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের কোনো গোপন তথ্য প্রকাশ করেননি; বরং মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মত্যাগের গৌরবে নিজেকে বিলিয়ে দিয়ে শারীরিক যন্ত্রণাকে তুচ্ছ জ্ঞান করেন।

    সুতরাং দেখা যায়, উদ্দীপকে লাখো শহীদের জীবনদান ও সাধারণ মানুষের সীমাহীন ক্ষয়ক্ষতি এবং 'রেইনকোট' গল্পে নুরুল হুদার মতো সাধারণ মানুষের দেশপ্রেমে উজ্জীবিত হয়ে অবলীলায় আত্মত্যাগ বরণ করে নেওয়ার মানসিকতা উন্মোচিত হয়েছে। তাই উভয় রচনার মূল সুরই হলো স্বাধীনতা ও দেশের জন্য বাঙালির মহান আত্মত্যাগ। অতএব মন্তব্যটি যথার্থ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন